আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিজাত সংস্করণ টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় ও গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় রচনা করল বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। বিদেশের মাটিতে স্বাগতিক শক্তিশালী দলের বিপক্ষে চরম ব্যাটিং বিপর্যয় কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে নাটকীয় রোমাঞ্চের মধ্য দিয়ে বিশাল জয় তুলে নিয়েছে টাইগাররা। এর ফলে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জিতে বিদেশের মাটিতে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের অনন্য গৌরব অর্জন করল বাংলাদেশ। ম্যাচের পঞ্চম দিনের শেষ সেশনে টাইগারদের পেস আক্রমণের গতি ও সুইংয়ের সামনে সম্পূর্ণ খেই হারিয়ে ফেলে প্রতিপক্ষের তারকাখচিত ব্যাটিং লাইনআপ। তরুণ গতি তারকাদের নিখুঁত লাইন-লেংথ, বিষাক্ত বাউন্সার এবং রিভার্স সুইংয়ের মুখে মাত্র দেড় সেশনের মধ্যে গুঁড়িয়ে যায় স্বাগতিকদের দ্বিতীয় ইনিংস। সিরিজের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হওয়া বাংলাদেশি তরুণ পেসার দ্বিতীয় ইনিংসে একাই শিকার করেন পাঁচ উইকেট। তাঁর আগুন ঝরানো স্পেল প্রতিপক্ষের মিডল অর্ডারকে ধসিয়ে দিয়ে দলের ঐতিহাসিক বিজয় নিশ্চিত করে। এর আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ যখন দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে চরম বিপদে পড়েছিল, তখন দলের মিডল অর্ডার ও লোয়ার অর্ডারের অনবদ্য ধৈর্যশীল ব্যাটিং প্রতিরোধ গড়ে তোলে। অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানদের লড়াকু শতরান এবং লোয়ার অর্ডারের দায়িত্বশীল পার্টনারশিপের ওপর ভর করে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে গুরুত্বপূর্ণ লিড অর্জন করতে সক্ষম হয়। অধিনায়কের বিচক্ষণ ফিল্ডিং সাজানো এবং বোলারদের কার্যকর রোটেশন দলের জয়ে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। এই অভাবনীয় সিরিজ বিজয়ে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি খেলোয়াড়, কোচ ও টিম ম্যানেজমেন্টকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন। বিসিবি প্রধান ঘোষণা করেছেন, এই ঐতিহাসিক অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে পুরো দলের জন্য বিশেষ কোটি টাকার আর্থিক বোনাস এবং সংবর্ধনা প্রদান করা হবে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি প্রান্তে ক্রিকেটপ্রেমী হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে বাদ্যবাজনা ও জাতীয় পতাকা উড়িয়ে উল্লাস প্রকাশ করেছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বিশ্লেষকরা ধারাভাষ্যে বাংলাদেশের এই জয়কে আধুনিক টেস্ট ক্রিকেটের অন্যতম অনুপ্রেরণাদায়ী রূপান্তর হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। উইজডেন ও ক্রিকইনফোর প্রধান সম্পাদকরা মন্তব্য করেছেন, স্পিন নির্ভরতার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসে আন্তর্জাতিক মানের শক্তিশালী পেস আক্রমণ গড়ে তোলার যে দূরদর্শী পরিকল্পনা বিসিবি বাস্তবায়ন করেছে, এই টেস্ট জয় তারই সোনালী ফসল। এই ঐতিহাসিক সিরিজ বিজয় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ক্রিকেটারদের বিশ্বমঞ্চে যেকোনো পরাশক্তিকে তাদের নিজেদের মাটিতে হারানোর অটুট আত্মবিশ্বাস এনে দেবে।
দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল মঞ্চে নিজেদের অবিসংবাদিত শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে স্বাগতিক নেপালকে তাদেরই ঘরের মাঠে ৩-১ গোলে পরাজিত করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ঐতিহাসিক গৌরব অর্জন করেছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। কাঠমান্ডুর দশরথ রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে প্রায় পনেরো হাজার উন্মত্ত স্বাগতিক দর্শকের উপস্থিতিতে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ও আধুনিক পাসিং ফুটবলের মাধ্যমে মাঠ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখেন বাংলার লড়াকু ফুটবল কন্যারা। ম্যাচের প্রথমার্ধেই দারুণ দলগত বোঝাপড়া এবং উইং দিয়ে নিখুঁত বল ডেলিভারির মাধ্যমে প্রথম গোলটি করেন দলের তারকা ফরোয়ার্ড। বল পেয়ে নেপালের রক্ষণভাগের তিন ডিফেন্ডারকে পরাস্ত করে দূরপাল্লার চোখ ধাঁধানো শটে বল জালে জড়াতেই স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো স্টেডিয়াম। দ্বিতীয়ার্ধে স্বাগতিক নেপাল এক গোল শোধ করে ম্যাচে ফেরার জোর চেষ্টা চালালেও বাংলার গোলরক্ষকের দুর্দান্ত কিছু সেভ এবং সেন্ট্রাল ডিফেন্ডারদের ইস্পাতকঠিন প্রতিরোধ নেপালের সমতায় ফেরার স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দেয়। ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে মিডফিল্ড থেকে বাড়ানো দারুণ থ্রু পাস ধরে অসাধারণ গতিতে বক্সে ঢুকে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে পরপর দুটি গোল করে দলের অবিস্মরণীয় জয় নিশ্চিত করেন দলের অধিনায়ক ও টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়। বাঁশি বাজার সাথে সাথে পুরো দল লাল-সবুজ পতাকা মাথায় বেঁধে মাঠজুড়ে বিজয় উল্লাসে মেতে ওঠে। টুর্নামেন্টে পুরো আসরে একটি ম্যাচেও না হেরে এবং সর্বোচ্চ গোল দিয়ে ফেয়ার প্লে ট্রফিসহ প্রতিটি ব্যক্তিগত পুরস্কার নিজেদের ঝুলিতে পুরে নেয় বাংলাদেশ। হিমালয় জয়ের এই ঐতিহাসিক বীরত্বগাথায় পুরো বাংলাদেশ আনন্দে ভাসছে। বিমানবন্দর থেকে চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য তৈরি করা হয়েছে সুসজ্জিত ছাদখোলা বাস, যার মাধ্যমে তাদের বিমানবন্দর থেকে মতিঝিল বাফুফে ভবন পর্যন্ত বর্ণাঢ্য গণসংবর্ধনা দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে লাখো মানুষ ফুল ছিটিয়ে ও হাত নেড়ে এই বীর কন্যাদের অভিবাদন জানান। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) দলের প্রতিটি সদস্যের জন্য স্থায়ী বেতন বৃদ্ধি, বিশেষ আর্থিক অনুদান এবং আন্তর্জাতিক মানের দীর্ঘমেয়াদী আবাসিক প্রশিক্ষণের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছে। ফুটবল গবেষক ও বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রত্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চল, চা বাগান ও গ্রামীণ জনপদের দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসে সমাজের নানা কুসংস্কার ও বাধা-বিপত্তি জয় করে এই মেয়েরা যে ইতিহাস গড়েছেন, তা সমগ্র জাতির জন্য অসীম গর্বের ও আত্মবিশ্বাসের উৎস। এই সাফল্য দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নারী জাগরণের এক অপ্রতিরোধ্য অনুপ্রেরণা হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক এশিয়ান কাপ ও বিশ্বকাপ মঞ্চেও বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা আরও উঁচুতে ওড়ানোর আত্মবিশ্বাস জোগাবে।
দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও জনপ্রিয় মহাযজ্ঞ 'বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ' (বিপিএল) টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টকে সম্পূর্ণ বিশ্বমানের রূপ দিতে একগুচ্ছ ঐতিহাসিক পদক্ষেপের সফল বাস্তবায়ন সম্পন্ন করেছে বিসিবি গভর্নিং কাউন্সিল। অতীতে আম্পায়ারিং ও প্রযুক্তি সংক্রান্ত নানা বিতর্কের অবসান ঘটাতে এবার টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচ থেকেই প্রতিটি খেলায় আল্ট্রা-এজ, বল ট্র্যাকিং এবং থার্মাল ক্যামেরাসমৃদ্ধ শতভাগ আধুনিক ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম (ডিআরএস) বাধ্যতামূলকভাবে কার্যকর রাখা হয়েছে। টুর্নামেন্টের আন্তর্জাতিক সম্প্রচার স্বত্ব এবং প্রোডাকশনে আনা হয়েছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় স্পোর্টস ব্রডকাস্টারদের সাথে চুক্তির মাধ্যমে এবার পুরো টুর্নামেন্ট আল্ট্রা-হাই ডেফিনিশন (ফোর-কে) কোয়ালিটিতে বিশ্বের ১২০টিরও বেশি দেশে একযোগে সরাসরি সম্প্রচারিত হচ্ছে। প্রতিটি ম্যাচে ব্যবহার করা হচ্ছে ৩০টিরও বেশি অত্যাধুনিক ক্যামেরা, যার মধ্যে রয়েছে সুপার স্লো-মোশন ক্যামেরা, ড্রোন ক্যামেরা এবং স্পাইডারক্যাম। এর ফলে মাঠে উপস্থিত দর্শকদের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমী এক অভূতপূর্ব রোমাঞ্চকর টিভি দেখার অভিজ্ঞতা উপভোগ করছেন। টুর্নামেন্টের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো এবার বিশ্বের শীর্ষ টি-টোয়েন্টি তারকাদের দলে ভেড়াতে সক্ষম হয়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানের বিধ্বংসী টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্টরা বিপিএলে নিয়মিত অংশগ্রহণ করায় মাঠের ক্রিকেটের গুণগত মান আন্তর্জাতিক স্তরে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক তারকাদের সাথে ড্রেসিংরুম শেয়ার করে এবং একই মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বাংলাদেশের উদীয়মান তরুণ ক্রিকেটাররা আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের পাওয়ার হিটিং, উদ্ভাবনী ফিল্ডিং এবং ডেথ ওভার বোলিংয়ের অমূল্য অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম, চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম এবং সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রতিটি ম্যাচেই গ্যালারিতে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। স্টেডিয়ামগুলোতে প্রবেশাধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শতভাগ ডিজিটাল টিকিটিং ও স্মার্ট বারকোড গেট চালু করায় দর্শকদের আর দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে না। স্টেডিয়ামের ভেতরে উন্নত স্যানিটেশন, পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ খাবার পানি এবং সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত খাবারের ব্যবস্থা করায় পরিবার-পরিজন নিয়ে খেলা উপভোগের চমৎকার সুস্থ পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, পেশাদারিত্ব ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় বিপিএলকে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) এবং বিগ ব্যাশের সমকক্ষ এক শীর্ষ আন্তর্জাতিক ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে রূপান্তরিত করার ভিত্তি স্থাপন করেছে। এই সফল টুর্নামেন্ট থেকে উঠে আসা নতুন মেধাবী তরুণ ক্রিকেটাররা সরাসরি জাতীয় দলকে আরও অপরাজেয় ও আধুনিক আক্রমণাত্মক ক্রিকেটের ধারায় পরিচালিত করবে।
ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতা উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের ফিরতি লেগে বিশ্ব ফুটবল এক অবিস্মরণীয়, রুদ্ধশ্বাস ও নাটকীয় ম্যাচের সাক্ষী হলো। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর কানায় কানায় পূর্ণ গ্যালারির সামনে ১২০ মিনিটের শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই শেষে প্রতিপক্ষ পরাশক্তিকে ৪-৩ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে টুর্নামেন্টের সফলতম দল রিয়াল মাদ্রিদ। দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৫ এর শ্বাসরুদ্ধকর সামগ্রিক ব্যবধানে বিজয়ী হয়ে ইউরোপ সেরা হওয়ার লড়াইয়ে আরও একধাপ এগিয়ে গেল স্প্যানিশ জায়ান্টরা। ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে ছিল আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। প্রথমার্ধে সফরকারী দলের গতিশীল উইঙ্গাররা দুটি বিদ্যুৎগতির কাউন্টার-অ্যাটাক থেকে অসাধারণ গোল করে পুরো বার্নাব্যুকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। পিছিয়ে পড়ে দ্বিতীয়ার্ধে অলআউট আক্রমণে যায় মাদ্রিদ। মাঝমাঠের নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ এবং একের পর এক ধারালো আক্রমণের মুখে ৭২ মিনিটে প্রথম এবং ৮১ মিনিটে দূরপাল্লার অবিশ্বাস্য ভলিতে সমতা ফেরান দলের ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার ফরোয়ার্ড। পুরো স্টেডিয়াম তখন উন্মাতাল উল্লাসে ফেটে পড়ে। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে দুই দলের সামগ্রিক গোল সংখ্যা সমান থাকায় খেলা গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের রোমাঞ্চকর অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধেও দুই দল রক্ষণ সামলে সাবধানী ফুটবল খেলে। তবে অতিরিক্ত সময়ের ১১৮তম মিনিটে ঘটে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত। কর্নার কিক থেকে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের মাথার ওপর দিয়ে লাফিয়ে উঠে নিখুঁত ও বুলেটগতির হেডে বল জালে জড়ান রিয়াল মাদ্রিদের তরুণ ইংলিশ মিডফিল্ডার। রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথেই বাঁধভাঙা উল্লাসে মেতে ওঠে পুরো বার্নাব্যু। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে রিয়াল মাদ্রিদ কোচ বলেন, 'এই দল কখনোই হার মানে না; এটাই রিয়াল মাদ্রিদের ঐতিহ্য ও আসল চরিত্র। ফুটবল ইতিহাসে বার্নাব্যুর এমন জাদুকরী রাত খুব কমই দেখা যায়। ছেলেরা তাদের সর্বস্ব উজার করে খেলেছে এবং তারা এই সেমিফাইনাল বিজয়ের শতভাগ দাবিদার।' পরাজিত দলের কোচও ম্যাচে রিয়ালের অবিশ্বাস্য মানসিক শক্তির ভূয়সী প্রশংসা করেন। ফুটবল বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমগুলো—মার্কা, লেকিপ এবং বিবিসি স্পোর্টস—এই ম্যাচটিকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ক্লাসিক ম্যাচ হিসেবে অভিহিত করেছে। সেমিফাইনালে মাদ্রিদের প্রতিপক্ষ কারা হচ্ছে, তা নিয়ে এখন থেকেই বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে শুরু হয়েছে টানটান উত্তেজনা ও বিশ্লেষণ।
আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকাকে এক গৌরবময় উচ্চতায় পৌঁছে দিয়ে এশিয়ান আর্চারি গ্র্যান্ড প্রিক্সের ফাইনালে ঐতিহাসিক ডাবল স্বর্ণপদক জয় করেছে বাংলাদেশ জাতীয় আর্চারি দল। থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের রিকার্ভ পুরুষ একক এবং কম্পাউন্ড মিশ্র দ্বৈত ইভেন্টে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পরাশক্তি ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়াকে পরাজিত করে এশিয়ার বুকে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করল বাংলাদেশের প্রতিভাবান তীরন্দাজরা। রিকার্ভ পুরুষ এককের শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে বাংলাদেশের শীর্ষ তীরন্দাজ শুরু থেকেই নিখুঁত লক্ষ্যভেদ প্রদর্শন করেন। প্রবল বাতাসের মধ্যেও অবিশ্বাস্য মানসিক একাগ্রতা বজায় রেখে টানা তিনটি সেটে দশের বৃত্তে (পারফেক্ট টেন) তীর ছুঁড়ে প্রতিপক্ষকে ৬-২ সেট পয়েন্টে পরাজিত করে স্বর্ণপদক নিশ্চিত করেন তিনি। জয়ের সাথে সাথে হাত উঁচিয়ে বিজয়োল্লাসে মেতে ওঠেন এই কৃতি খেলোয়াড়, যিনি এর আগে কোয়ার্টার ও সেমিফাইনালে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় অলিম্পিক পদকজয়ীদের বিদায় করে ফাইনালে উঠেছিলেন। অন্যদিকে কম্পাউন্ড মিশ্র দ্বৈতেও ঘটে এক অপূর্ব রূপকথা। বাংলাদেশের তরুণ আর্চার জুটি পুরো ম্যাচে একটিও নয় নম্বরের তীর না ছুঁড়ে সবকটিতে নিখুঁত লক্ষ্যভেদ করে ১৫৯-১৫৬ স্কোরের নতুন জাতীয় ও এশিয়ান রেকর্ড গড়ে ভারতের শক্তিশালী জুটিকে হারিয়ে দ্বিতীয় স্বর্ণপদক ছিনিয়ে নেয়। এই অবিস্মরণীয় জয়ের মাধ্যমে পুরো টুর্নামেন্টে পদক তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করে বাংলাদেশ, যা দেশের খেলাধুলার ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনা। বাংলাদেশ আর্চারি ফেডারেশনের জার্মান প্রধান কোচ এই অভূতপূর্ব সাফল্যে উচ্ছ্বসিত হয়ে বলেন, 'এই ছেলেরা ও মেয়েরা কঠোর পরিশ্রম করেছে। দীর্ঘ তিন বছর ধরে বিকেএসপিতে আন্তর্জাতিক মানের মানসিক ও শারীরিক ট্রেনিংয়ের ফলেই আজ বিশ্বমানের তীরন্দাজদের পরাস্ত করা সম্ভব হয়েছে। তাদের লক্ষ্যভেদ এখন বিশ্বের যেকোনো শীর্ষ দলের জন্য ভয়ের কারণ। এই ধারাবাহিকতা আগামী অলিম্পিকে দেশকে প্রথম ঐতিহাসিক অলিম্পিক পদক এনে দিতে পারে।' যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় বিজয়ী সকল আর্চার ও কোচিং স্টাফকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়ে বিশেষ আর্থিক পুরস্কার এবং দীর্ঘমেয়াদী আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণের সুযোগ নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়েছে। ক্রীড়াপ্রেমী জনগণ ও বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্রিকেটের বাইরে শুটিং ও আর্চারির মতো খেলাগুলোতে সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বাংলাদেশ যে বিশ্বমঞ্চে যেকোনো পরাশক্তিকে পরাজিত করতে পারে, আর্চারদের এই জোড়া স্বর্ণজয় তারই উজ্জ্বল ও অকাট্য প্রমাণ।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের (ইপিএল) চলতি মৌসুমের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে ম্যানচেস্টার সিটি এবং আর্সেনালের মধ্যকার হাই-ভোল্টেজ লড়াই ২-২ গোলের শ্বাসরুদ্ধকর সমতায় শেষ হয়েছে। ইতিহাদ স্টেডিয়ামে আয়োজিত এই ম্যাচে ফুটবল কৌশলের এক নিখুঁত ও রোমাঞ্চকর প্রদর্শনী উপভোগ করেছেন বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবল সমর্থক। এই মহাকাব্যিক ড্রয়ের ফলে লিগ টেবিলের শীর্ষে থাকা আর্সেনাল এবং বর্তমান চ্যাম্পিয়ন সিটির মধ্যে পয়েন্টের ব্যবধান মাত্র এক পয়েন্টে রয়ে গেল, যা শিরোপার লড়াইকে মৌসুমের শেষ ম্যাচ পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখল। ম্যাচের নবম মিনিটেই নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকারের দুর্দান্ত এক পজিশনিং গোল দিয়ে এগিয়ে যায় স্বাগতিক ম্যানচেস্টার সিটি। তবে সেই লিড দীর্ঘস্থায়ী হতে দেয়নি মিকেল আর্তেতার দল। আর্সেনাল তাদের পরিকল্পিত হাই-প্রেসিং ও অসাধারণ সমন্বিত ফুটবলে ম্যাচের ২২ মিনিটে কর্নার থেকে হেডের সাহায্যে সমতা ফেরায়। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে আর্সেনালের ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার দুর্দান্ত দূরপাল্লার বাঁকানো শটে গোল করে ২-১ ব্যবধানে গানার্সদের এগিয়ে দিলে স্তব্ধ হয়ে পড়ে ইতিহাদ। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আর্সেনালের এক খেলোয়াড় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে দশ জনের দলে পরিণত হয় তারা। এরপর শুরু হয় পেপ গার্দিওলার সিটির একচেটিয়া আক্রমণ আর আর্সেনালের বীরত্বপূর্ণ রক্ষণভাগ। সিটির একের পর এক শট আর্সেনাল গোলরক্ষক অবিশ্বাস্য দক্ষতায় প্রতিহত করতে থাকেন। পুরো দ্বিতীয়ার্ধজুড়ে দশজন ডিফেন্ডারের মতো খেলে আর্সেনাল যখন ঐতিহাসিক জয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে, ঠিক তখনই ৯৮তম মিনিটে কর্নার থেকে এক জটলার মধ্যে গোল করে সিটিকে নাটকীয় ড্র উপহার দেন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার। রেফারির শেষ বাঁশির পর আর্সেনাল সমর্থকরা দশজন নিয়ে অসাধারণ লড়াইয়ের জন্য বুক ফুলিয়ে গর্ব প্রকাশ করলেও শেষ মুহূর্তের গোলে জয় হাতছাড়া হওয়ার আফসোসে পুড়েছেন। অন্যদিকে পেপ গার্দিওলা ম্যাচ শেষে আর্সেনালের রক্ষণভাগের দৃঢ়তার প্রশংসা করে বলেন, 'বিশ্বের সেরা লিগে এ ধরনের ম্যাচেই দলগুলোর আসল চরিত্র পরীক্ষা হয়। আমরা শেষ সেকেন্ড পর্যন্ত লড়াই করেছি এবং এক পয়েন্ট ছিনিয়ে নিয়েছি। শিরোপার যুদ্ধ এখনো অনেক বাকি।' যুক্তরাজ্যের শীর্ষস্থানীয় ক্রীড়া বিশ্লেষকরা বলছেন, এই রোমাঞ্চকর ড্রয়ের ফলে চলতি মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা লড়াই সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রূপ নিল। শেষ কয়েকটি ম্যাচের প্রতিটি মিনিট এখন শিরোপার ভাগ্য নির্ধারণ করবে, যা ফুটবলপ্রেমীদের জন্য উপহার দিচ্ছে নিখুঁত ক্রীড়া বিনোদন।
বাংলার আবহমান লোকসংস্কৃতির অন্যতম প্রাণভোমরা ঐতিহ্যবাহী 'নৌকা বাইচ' প্রতিযোগিতা বর্ণাঢ্য আয়োজনে মেঘনা ও বুড়িগঙ্গার বুকে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এবং বাংলাদেশ রোয়িং ফেডারেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই মহোৎসবে দেশের বিভিন্ন নদী অববাহিকার প্রায় অর্ধশতাধিক সুসজ্জিত বাহারি নৌকা অংশগ্রহণ করে। সারেঙ্গদের মুখে জারি-সারি গান, খোল-করতালের সুর এবং হাজারো মাঝিমাল্লার এক ছন্দে বৈঠা চালানোর অভূতপূর্ব দৃশ্যে নদীর দুই তীরে সমবেত লাখো মানুষ বাঁধভাঙা উল্লাসে মেতে ওঠেন। প্রতিযোগিতায় ময়ূরপঙ্খী, ঘাসি, গোয়েন্দা ও ছিপ জাতীয় বিশালাকার নৌকাগুলোর দ্রুতগতির গতিময় লড়াই দর্শকদের চোখ জুড়িয়ে দেয়। প্রতিটি নৌকায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন দক্ষ মল্ল ও মাঝিমাল্লা দলগত শক্তিতে তীব্র স্রোতের প্রতিকূলে বৈঠা চালিয়ে নিজেদের সেরা গতি তুলে ধরেন। ঢাকঢোলের তালে তালে সারেঙ্গদের উৎসাহমূলক উদ্দীপক গানের তালে তালে বৈঠার ঝপাৎ ঝপাৎ শব্দে মুখরিত হয়ে ওঠে নদীর জলরাশি। চূড়ান্ত ফাইনালে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার 'সোনার তরী' নৌকাটি মুন্সীগঞ্জের 'বাংলার বীর' নৌকাকে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি এবং ৫ লাখ টাকার আর্থিক পুরস্কার অর্জন করে। বিজয়ী দলের অধিনায়ক ট্রফি হাতে তুলে নেওয়ার পর বলেন, 'এই বাইচ কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়; এটি আমাদের পূর্বপুরুষদের রক্তের টান ও নদীমাতৃক বাংলার অহংকার। নতুন প্রজন্মকে এই খেলাধুলার সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে পেরে আমরা গর্বিত।' সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। উপদেষ্টা ঘোষণা করেন, বাংলার এই অমূল্য গ্রামীণ ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরতে নৌকা বাইচকে ইউনেস্কোর ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ বা অমূল্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির আবেদন পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রতি বছর জাতীয় পর্যায়ে এই উৎসব উদযাপনে স্থায়ী ক্যালেন্ডার অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, ইট-পাথরের নাগরিক জীবনের যান্ত্রিকতা এবং স্মার্টফোনের যুগে এই ধরনের ঐতিহ্যবাহী লোকক্রীড়া সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও মিলনের অনন্য মেলবন্ধন সৃষ্টি করে। নদীর সাথে মানুষের চিরকালীন সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করতে এবং তরুণদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা ধরে রাখতে গ্রামীণ ক্রীড়া উৎসবের গুরুত্ব অপরিসীম।
ভবিষ্যতের জাতীয় ক্রিকেট দলের জন্য বিশ্বমানের প্রতিভা অন্বেষণ ও পাইপলাইন সমৃদ্ধ করতে দেশের আটটি প্রশাসনিক বিভাগে আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক যুব ক্রিকেট একাডেমি ও অল-ওয়েদার ইনডোর প্রশিক্ষণ কমপ্লেক্স স্থাপনের মেগা প্রকল্প সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, বরিশাল, রংপুর, ময়মনসিংহ এবং ঢাকা বিভাগের বিকেএসপিতে একযোগে এসব একাডেমির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রতিটি একাডেমিতে স্থাপন করা হয়েছে বিশ্বমানের পেস বোলিং ও স্পিন সহায়ক ছয়টি আন্তর্জাতিক মানের ইনডোর নেট পিচ, উচ্চগতির অটোমেটেড বোলিং মেশিন, আধুনিক বায়োমেকানিক্যাল মোশন অ্যানালাইসিস ক্যামেরা এবং অত্যাধুনিক ফিটনেস ও রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার। এর ফলে বর্ষা বা বৈরী আবহাওয়াতেও তরুণ ক্রিকেটারদের অনুশীলনে কোনো প্রকার ব্যাঘাত ঘটবে না। ইনজুরি প্রতিরোধে প্রতিটি একাডেমিতে সার্বক্ষণিক ক্রীড়া চিকিৎসক ও ফিজিওথেরাপিস্ট নিয়োজিত রাখা হয়েছে। বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান জানান, একাডেমিগুলোতে প্রতি বছর প্রতিটি বিভাগ থেকে অনূর্ধ্ব-১৪ ও অনূর্ধ্ব-১৬ বয়সভিত্তিক বাছাইয়ের মাধ্যমে সেরা ৩০ জন প্রতিভাবান কিশোর ক্রিকেটারকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আবাসিক স্কলারশিপ প্রদান করা হবে। বিসিবির তত্ত্বাবধানে তাদের খেলাধুলার পাশাপাশি মানসম্মত শিক্ষা এবং পুষ্টিসমৃদ্ধ ডায়েট নিশ্চিত করা হবে। ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া থেকে আনা আইসিসি সার্টিফাইড লেভেল-৩ কোচরা এসব একাডেমিতে স্থায়ীভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়করা এই উদ্যোগকে দেশের ক্রিকেটের ইতিহাসে সেরা বিনিয়োগ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তারা বলেন, অতীতে ঢাকার বাইরে মানসম্মত মাঠ ও ইনডোরের অভাবে বহু সম্ভাবনাময় প্রতিভা অকালেই ঝরে যেত। তৃণমূল পর্যায়ে এই ধরনের আন্তর্জাতিক অবকাঠামো গড়ে তোলায় এখন কুড়িগ্রাম, রাঙ্গামাটি বা পটুয়াখালীর মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিভাবান কিশোররাও বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ সুবিধা পাবে, যা জাতীয় দলের ভিত্তি সুদৃঢ় করবে। বিসিবি সভাপতি জানিয়েছেন, এই একাডেমিগুলো থেকে প্রতি বছর নির্বাচিত সেরা ক্রিকেটারদের নিয়ে বিশেষ 'বিসিবি ইয়ুথ চ্যাম্পিয়নশিপ' আয়োজন করা হবে এবং প্রতিভাবানদের বিদেশে কাউন্টি একাডেমিগুলোতে উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হবে। এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে আগামী দশকে বাংলাদেশ টেস্ট ও ওয়ানডে ক্রিকেটে বিশ্বের এক নম্বর দল হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করবে।
বিশ্ব অ্যাথলেটিক্সের ইতিহাসে মানবীয় সক্ষমতার সীমা পুনরায় সংজ্ঞায়িত করে পোল ভল্ট ইভেন্টে নিজেরই গড়া বিশ্বরেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় পৌঁছালেন সুইডেনের কিংবদন্তি মহাতারকা। ইউরোপীয় অ্যাথলেটিক্স ডায়মন্ড লিগের গ্র্যান্ড ফিনালেতে রোমের অলিম্পিকো স্টেডিয়ামে ৬৫ হাজার উল্লসিত দর্শকের সামনে ৬.২৭ মিটার উচ্চতা প্রথম প্রচেষ্টাতেই কোনো প্রকার বার স্পর্শ না করে অতিক্রম করে তিনি বিশ্ব অ্যাথলেটিক্সের ইতিহাসের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ পোল ভল্টার হিসেবে নিজের নাম চিরতরে খোদাই করলেন। প্রতিযোগিতা শুরু থেকেই ছিল নাটকীয়তায় ভরপুর। অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বীরা ৫.৯০ থেকে ৬.০০ মিটারের মধ্যে ছিটকে পড়লেও সুইডিশ এই বিস্ময়বালক শুরু থেকেই ছিলেন অনন্য আত্মবিশ্বাসী। প্রতিযোগিতায় নিশ্চিত স্বর্ণপদক জয়ের পর তিনি বার সরাসরি বিশ্বরেকর্ডের উচ্চতা ৬.২৭ মিটারে তোলার অনুরোধ জানান। স্টেডিয়ামজুড়ে তখন শ্বাসরুদ্ধকর নীরবতা নেমে আসে। প্রতিটি দর্শকের চোখ নিবদ্ধ ছিল তার গতিময় রান-আপের ওপর। হাতে পোল নিয়ে বিদ্যুৎগতির গতিতে ট্র্যাকে ছুটে এসে নিখুঁত অ্যাঙ্গেলে টেক-অফ করেন তিনি। বাতাসে শূন্যে শরীর ভাসিয়ে অসাধারণ নমনীয়তা ও শারীরিক ভারসাম্যে বার পার হয়ে নরম ম্যাটে অবতরণ করতেই পুরো স্টেডিয়াম গর্জে ওঠে। রেকর্ড নিশ্চিত হতেই তিনি উল্লাসে দৌড়ে গিয়ে কোচ ও পরিবারের সদস্যদের জড়িয়ে ধরেন। বিশ্ব অ্যাথলেটিক্সের ডিজিটাল স্কোরবোর্ডে জ্বলজ্বল করে ওঠে 'নিউ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড' সংকেত। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নতুন বিশ্বরেকর্ডের মালিক বলেন, 'এই উচ্চতা অতিক্রম করা আমার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল। বাতাসের গতি ও ট্রায়ালের ছন্দ আজ নিখুঁত ছিল। আমি জানতাম শরীরের প্রতিটি পেশী যদি একসঙ্গে সঠিক মুহূর্তে কাজ করে, তবে এই রেকর্ড সম্ভব। যারা আমাকে বিশ্বাস করেছেন এবং সমর্থন দিয়েছেন, এই অর্জন তাদের সবার।' আন্তর্জাতিক অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সভাপতি ব্যক্তিগতভাবে এসে তাকে ঐতিহাসিক সোনার পদক ও রেকর্ড ভাঙার বিশেষ সম্মাননা ট্রফি তুলে দেন। খেলাধুলা বিষয়ক বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় স্পোর্টস জার্নালগুলো একে মানব ইতিহাসের অন্যতম নিখুঁত ক্রীড়া নৈপুণ্য হিসেবে চিহ্নিত করেছে। পদার্থবিজ্ঞানী ও বায়োমেকানিক্স গবেষকরা বলছেন, পোল ভল্টে গতিশক্তিকে উল্লম্ব শক্তিতে রূপান্তরের যে অবিশ্বাস্য নিখুঁত ভারসাম্য তিনি প্রদর্শন করেছেন, তা ভবিষ্যতে ক্রীড়াবিজ্ঞানের গবেষণাগারে পাঠ্য হিসেবে বিবেচিত হবে।
আন্তর্জাতিক শ্যুটিং ক্রীড়ার সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতা আইএসএসএফ বিশ্বকাপ শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপের ১০ মিটার এয়ার রাইফেল ইভেন্টে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় অলিম্পিক পদকজয়ীদের পেছনে ফেলে এক ঐতিহাসিক ও অবিস্মরণীয় স্বর্ণপদক জয় করেছে বাংলাদেশ জাতীয় শুটিং দল। জার্মানির মিউনিখের বিখ্যাত অলিম্পিক শুটিং রেঞ্জে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় চীনা, মার্কিন ও জার্মান শ্যুটারদের সাথে তীব্র মানসিক ও কারিগরি লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়েছেন বাংলাদেশের তরুণ প্রতিভা। ফাইনাল রাউন্ডের প্রতিটি শটে স্নায়ুর অবিশ্বাস্য পরীক্ষা দিতে হয়েছে প্রতিযোগীদের। দশমিকের সূক্ষ্ম ব্যবধানে নির্ধারিত হওয়া এই লড়াইয়ে বাংলাদেশি শুটার টানা পাঁচটি শটে ১০.৮ এবং ১০.৯ (পারফেক্ট বুলস-আই) স্কোর করে গ্যালারির বিশ্বখ্যাত কোচ ও দর্শকদের স্তম্ভিত করে দেন। শেষ শটে সোনার পদক নিশ্চিত করতে যখন ১০.৬ পয়েন্টের প্রয়োজন ছিল, তখন চরম আত্মবিশ্বাসের সাথে লক্ষ্যভেদ করে ১০.৭ স্কোর অর্জন করে ইতিহাস সৃষ্টি করেন তিনি। স্বর্ণপদক নিশ্চিত হওয়ার সাথে সাথেই কোচ ও টিম ম্যানেজমেন্ট আনন্দে কেঁদে ফেলেন। শুটিং রেঞ্জের ডিজিটাল স্ক্রিনে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা জ্বলে ওঠার সাথে সাথে পুরো স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকরা দাঁড়িয়ে তরুণ এই বাঙালি শুটারকে তুমুল করতালি দিয়ে অভিনন্দন জানান। এই প্রথম বাংলাদেশ শুটিং বিশ্বকাপের সিনিয়র ব্যক্তিগত ইভেন্টে স্বর্ণপদক অর্জনের বিরল গৌরব লাভ করল। বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্টস ফেডারেশনের মহাসচিব এই অর্জনকে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের এক স্বর্ণালী মাইলফলক হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, 'শুটিংয়ে আমাদের ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের। কমনওয়েলথ গেমসে স্বর্ণ জয়ের পর বৈশ্বিক বিশ্বকাপে এই স্বর্ণ প্রমাণ করে যে, সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আমাদের শুটাররা অলিম্পিকেও দেশকে স্বর্ণপদক এনে দিতে সক্ষম। ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় শুটারদের জন্য জার্মানি থেকে আমদানিকৃত সর্বাধুনিক ইলেকট্রনিক টার্গেট ও রাইফেল প্রদান করার ফলেই এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে।' যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং বিভিন্ন বেসরকারি করপোরেট প্রতিষ্ঠান বিজয়ী শুটারের জন্য বিশেষ আর্থিক পুরস্কার ও আজীবন মাসিক সম্মানীর ঘোষণা দিয়েছে। ক্রীড়া বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্রিকেটের বিপুল উন্মাদনার বাইরে শুটিং ও আর্চারির মতো সম্ভাবনাময় ব্যক্তিগত খেলাধুলায় দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ অব্যাহত রাখলে ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে বাংলাদেশ তার প্রথম ঐতিহাসিক অলিম্পিক পদক অর্জনের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে পারবে।