এশিয়ান আর্চারি গ্র্যান্ড প্রিক্সে বাংলাদেশের অভাবনীয় সাফল্য: ভারতকে হারিয়ে রিকার্ভ ও কম্পাউন্ডে জোড়া স্বর্ণ জয়
আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকাকে এক গৌরবময় উচ্চতায় পৌঁছে দিয়ে এশিয়ান আর্চারি গ্র্যান্ড প্রিক্সের ফাইনালে ঐতিহাসিক ডাবল স্বর্ণপদক জয় করেছে বাংলাদেশ জাতীয় আর্চারি দল। থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের রিকার্ভ পুরুষ একক এবং কম্পাউন্ড মিশ্র দ্বৈত ইভেন্টে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পরাশক্তি ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়াকে পরাজিত করে এশিয়ার বুকে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করল বাংলাদেশের প্রতিভাবান তীরন্দাজরা।
রিকার্ভ পুরুষ এককের শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে বাংলাদেশের শীর্ষ তীরন্দাজ শুরু থেকেই নিখুঁত লক্ষ্যভেদ প্রদর্শন করেন। প্রবল বাতাসের মধ্যেও অবিশ্বাস্য মানসিক একাগ্রতা বজায় রেখে টানা তিনটি সেটে দশের বৃত্তে (পারফেক্ট টেন) তীর ছুঁড়ে প্রতিপক্ষকে ৬-২ সেট পয়েন্টে পরাজিত করে স্বর্ণপদক নিশ্চিত করেন তিনি। জয়ের সাথে সাথে হাত উঁচিয়ে বিজয়োল্লাসে মেতে ওঠেন এই কৃতি খেলোয়াড়, যিনি এর আগে কোয়ার্টার ও সেমিফাইনালে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় অলিম্পিক পদকজয়ীদের বিদায় করে ফাইনালে উঠেছিলেন।
অন্যদিকে কম্পাউন্ড মিশ্র দ্বৈতেও ঘটে এক অপূর্ব রূপকথা। বাংলাদেশের তরুণ আর্চার জুটি পুরো ম্যাচে একটিও নয় নম্বরের তীর না ছুঁড়ে সবকটিতে নিখুঁত লক্ষ্যভেদ করে ১৫৯-১৫৬ স্কোরের নতুন জাতীয় ও এশিয়ান রেকর্ড গড়ে ভারতের শক্তিশালী জুটিকে হারিয়ে দ্বিতীয় স্বর্ণপদক ছিনিয়ে নেয়। এই অবিস্মরণীয় জয়ের মাধ্যমে পুরো টুর্নামেন্টে পদক তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করে বাংলাদেশ, যা দেশের খেলাধুলার ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনা।
বাংলাদেশ আর্চারি ফেডারেশনের জার্মান প্রধান কোচ এই অভূতপূর্ব সাফল্যে উচ্ছ্বসিত হয়ে বলেন, 'এই ছেলেরা ও মেয়েরা কঠোর পরিশ্রম করেছে। দীর্ঘ তিন বছর ধরে বিকেএসপিতে আন্তর্জাতিক মানের মানসিক ও শারীরিক ট্রেনিংয়ের ফলেই আজ বিশ্বমানের তীরন্দাজদের পরাস্ত করা সম্ভব হয়েছে। তাদের লক্ষ্যভেদ এখন বিশ্বের যেকোনো শীর্ষ দলের জন্য ভয়ের কারণ। এই ধারাবাহিকতা আগামী অলিম্পিকে দেশকে প্রথম ঐতিহাসিক অলিম্পিক পদক এনে দিতে পারে।'
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় বিজয়ী সকল আর্চার ও কোচিং স্টাফকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়ে বিশেষ আর্থিক পুরস্কার এবং দীর্ঘমেয়াদী আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণের সুযোগ নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়েছে। ক্রীড়াপ্রেমী জনগণ ও বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্রিকেটের বাইরে শুটিং ও আর্চারির মতো খেলাগুলোতে সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বাংলাদেশ যে বিশ্বমঞ্চে যেকোনো পরাশক্তিকে পরাজিত করতে পারে, আর্চারদের এই জোড়া স্বর্ণজয় তারই উজ্জ্বল ও অকাট্য প্রমাণ।
