আইএসএসএফ শুটিং বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক স্বর্ণ জয়: ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে বিশ্ব পরাশক্তিদের হারাল লাল-সবুজ
আন্তর্জাতিক শ্যুটিং ক্রীড়ার সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতা আইএসএসএফ বিশ্বকাপ শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপের ১০ মিটার এয়ার রাইফেল ইভেন্টে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় অলিম্পিক পদকজয়ীদের পেছনে ফেলে এক ঐতিহাসিক ও অবিস্মরণীয় স্বর্ণপদক জয় করেছে বাংলাদেশ জাতীয় শুটিং দল। জার্মানির মিউনিখের বিখ্যাত অলিম্পিক শুটিং রেঞ্জে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় চীনা, মার্কিন ও জার্মান শ্যুটারদের সাথে তীব্র মানসিক ও কারিগরি লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়েছেন বাংলাদেশের তরুণ প্রতিভা।
ফাইনাল রাউন্ডের প্রতিটি শটে স্নায়ুর অবিশ্বাস্য পরীক্ষা দিতে হয়েছে প্রতিযোগীদের। দশমিকের সূক্ষ্ম ব্যবধানে নির্ধারিত হওয়া এই লড়াইয়ে বাংলাদেশি শুটার টানা পাঁচটি শটে ১০.৮ এবং ১০.৯ (পারফেক্ট বুলস-আই) স্কোর করে গ্যালারির বিশ্বখ্যাত কোচ ও দর্শকদের স্তম্ভিত করে দেন। শেষ শটে সোনার পদক নিশ্চিত করতে যখন ১০.৬ পয়েন্টের প্রয়োজন ছিল, তখন চরম আত্মবিশ্বাসের সাথে লক্ষ্যভেদ করে ১০.৭ স্কোর অর্জন করে ইতিহাস সৃষ্টি করেন তিনি।
স্বর্ণপদক নিশ্চিত হওয়ার সাথে সাথেই কোচ ও টিম ম্যানেজমেন্ট আনন্দে কেঁদে ফেলেন। শুটিং রেঞ্জের ডিজিটাল স্ক্রিনে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা জ্বলে ওঠার সাথে সাথে পুরো স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকরা দাঁড়িয়ে তরুণ এই বাঙালি শুটারকে তুমুল করতালি দিয়ে অভিনন্দন জানান। এই প্রথম বাংলাদেশ শুটিং বিশ্বকাপের সিনিয়র ব্যক্তিগত ইভেন্টে স্বর্ণপদক অর্জনের বিরল গৌরব লাভ করল।
বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্টস ফেডারেশনের মহাসচিব এই অর্জনকে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের এক স্বর্ণালী মাইলফলক হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, 'শুটিংয়ে আমাদের ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের। কমনওয়েলথ গেমসে স্বর্ণ জয়ের পর বৈশ্বিক বিশ্বকাপে এই স্বর্ণ প্রমাণ করে যে, সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আমাদের শুটাররা অলিম্পিকেও দেশকে স্বর্ণপদক এনে দিতে সক্ষম। ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় শুটারদের জন্য জার্মানি থেকে আমদানিকৃত সর্বাধুনিক ইলেকট্রনিক টার্গেট ও রাইফেল প্রদান করার ফলেই এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে।'
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং বিভিন্ন বেসরকারি করপোরেট প্রতিষ্ঠান বিজয়ী শুটারের জন্য বিশেষ আর্থিক পুরস্কার ও আজীবন মাসিক সম্মানীর ঘোষণা দিয়েছে। ক্রীড়া বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্রিকেটের বিপুল উন্মাদনার বাইরে শুটিং ও আর্চারির মতো সম্ভাবনাময় ব্যক্তিগত খেলাধুলায় দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ অব্যাহত রাখলে ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে বাংলাদেশ তার প্রথম ঐতিহাসিক অলিম্পিক পদক অর্জনের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে পারবে।
