দেশের ৮টি বিভাগে অত্যাধুনিক যুব ক্রিকেট একাডেমি ও ইনডোর সুবিধা স্থাপন: বিসিবির দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা
ভবিষ্যতের জাতীয় ক্রিকেট দলের জন্য বিশ্বমানের প্রতিভা অন্বেষণ ও পাইপলাইন সমৃদ্ধ করতে দেশের আটটি প্রশাসনিক বিভাগে আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক যুব ক্রিকেট একাডেমি ও অল-ওয়েদার ইনডোর প্রশিক্ষণ কমপ্লেক্স স্থাপনের মেগা প্রকল্প সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, বরিশাল, রংপুর, ময়মনসিংহ এবং ঢাকা বিভাগের বিকেএসপিতে একযোগে এসব একাডেমির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
প্রতিটি একাডেমিতে স্থাপন করা হয়েছে বিশ্বমানের পেস বোলিং ও স্পিন সহায়ক ছয়টি আন্তর্জাতিক মানের ইনডোর নেট পিচ, উচ্চগতির অটোমেটেড বোলিং মেশিন, আধুনিক বায়োমেকানিক্যাল মোশন অ্যানালাইসিস ক্যামেরা এবং অত্যাধুনিক ফিটনেস ও রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার। এর ফলে বর্ষা বা বৈরী আবহাওয়াতেও তরুণ ক্রিকেটারদের অনুশীলনে কোনো প্রকার ব্যাঘাত ঘটবে না। ইনজুরি প্রতিরোধে প্রতিটি একাডেমিতে সার্বক্ষণিক ক্রীড়া চিকিৎসক ও ফিজিওথেরাপিস্ট নিয়োজিত রাখা হয়েছে।
বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান জানান, একাডেমিগুলোতে প্রতি বছর প্রতিটি বিভাগ থেকে অনূর্ধ্ব-১৪ ও অনূর্ধ্ব-১৬ বয়সভিত্তিক বাছাইয়ের মাধ্যমে সেরা ৩০ জন প্রতিভাবান কিশোর ক্রিকেটারকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আবাসিক স্কলারশিপ প্রদান করা হবে। বিসিবির তত্ত্বাবধানে তাদের খেলাধুলার পাশাপাশি মানসম্মত শিক্ষা এবং পুষ্টিসমৃদ্ধ ডায়েট নিশ্চিত করা হবে। ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া থেকে আনা আইসিসি সার্টিফাইড লেভেল-৩ কোচরা এসব একাডেমিতে স্থায়ীভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়করা এই উদ্যোগকে দেশের ক্রিকেটের ইতিহাসে সেরা বিনিয়োগ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তারা বলেন, অতীতে ঢাকার বাইরে মানসম্মত মাঠ ও ইনডোরের অভাবে বহু সম্ভাবনাময় প্রতিভা অকালেই ঝরে যেত। তৃণমূল পর্যায়ে এই ধরনের আন্তর্জাতিক অবকাঠামো গড়ে তোলায় এখন কুড়িগ্রাম, রাঙ্গামাটি বা পটুয়াখালীর মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিভাবান কিশোররাও বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ সুবিধা পাবে, যা জাতীয় দলের ভিত্তি সুদৃঢ় করবে।
বিসিবি সভাপতি জানিয়েছেন, এই একাডেমিগুলো থেকে প্রতি বছর নির্বাচিত সেরা ক্রিকেটারদের নিয়ে বিশেষ 'বিসিবি ইয়ুথ চ্যাম্পিয়নশিপ' আয়োজন করা হবে এবং প্রতিভাবানদের বিদেশে কাউন্টি একাডেমিগুলোতে উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হবে। এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে আগামী দশকে বাংলাদেশ টেস্ট ও ওয়ানডে ক্রিকেটে বিশ্বের এক নম্বর দল হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করবে।
