বিশ্ব অ্যাথলেটিক্সে ইতিহাস সৃষ্টি: পোল ভল্টে সর্বকালের অবিশ্বাস্য বিশ্বরেকর্ড গড়ে স্বর্ণ জয় করলেন সুইডিশ মহাতারকা
বিশ্ব অ্যাথলেটিক্সের ইতিহাসে মানবীয় সক্ষমতার সীমা পুনরায় সংজ্ঞায়িত করে পোল ভল্ট ইভেন্টে নিজেরই গড়া বিশ্বরেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় পৌঁছালেন সুইডেনের কিংবদন্তি মহাতারকা। ইউরোপীয় অ্যাথলেটিক্স ডায়মন্ড লিগের গ্র্যান্ড ফিনালেতে রোমের অলিম্পিকো স্টেডিয়ামে ৬৫ হাজার উল্লসিত দর্শকের সামনে ৬.২৭ মিটার উচ্চতা প্রথম প্রচেষ্টাতেই কোনো প্রকার বার স্পর্শ না করে অতিক্রম করে তিনি বিশ্ব অ্যাথলেটিক্সের ইতিহাসের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ পোল ভল্টার হিসেবে নিজের নাম চিরতরে খোদাই করলেন।
প্রতিযোগিতা শুরু থেকেই ছিল নাটকীয়তায় ভরপুর। অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বীরা ৫.৯০ থেকে ৬.০০ মিটারের মধ্যে ছিটকে পড়লেও সুইডিশ এই বিস্ময়বালক শুরু থেকেই ছিলেন অনন্য আত্মবিশ্বাসী। প্রতিযোগিতায় নিশ্চিত স্বর্ণপদক জয়ের পর তিনি বার সরাসরি বিশ্বরেকর্ডের উচ্চতা ৬.২৭ মিটারে তোলার অনুরোধ জানান। স্টেডিয়ামজুড়ে তখন শ্বাসরুদ্ধকর নীরবতা নেমে আসে। প্রতিটি দর্শকের চোখ নিবদ্ধ ছিল তার গতিময় রান-আপের ওপর।
হাতে পোল নিয়ে বিদ্যুৎগতির গতিতে ট্র্যাকে ছুটে এসে নিখুঁত অ্যাঙ্গেলে টেক-অফ করেন তিনি। বাতাসে শূন্যে শরীর ভাসিয়ে অসাধারণ নমনীয়তা ও শারীরিক ভারসাম্যে বার পার হয়ে নরম ম্যাটে অবতরণ করতেই পুরো স্টেডিয়াম গর্জে ওঠে। রেকর্ড নিশ্চিত হতেই তিনি উল্লাসে দৌড়ে গিয়ে কোচ ও পরিবারের সদস্যদের জড়িয়ে ধরেন। বিশ্ব অ্যাথলেটিক্সের ডিজিটাল স্কোরবোর্ডে জ্বলজ্বল করে ওঠে 'নিউ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড' সংকেত।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নতুন বিশ্বরেকর্ডের মালিক বলেন, 'এই উচ্চতা অতিক্রম করা আমার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল। বাতাসের গতি ও ট্রায়ালের ছন্দ আজ নিখুঁত ছিল। আমি জানতাম শরীরের প্রতিটি পেশী যদি একসঙ্গে সঠিক মুহূর্তে কাজ করে, তবে এই রেকর্ড সম্ভব। যারা আমাকে বিশ্বাস করেছেন এবং সমর্থন দিয়েছেন, এই অর্জন তাদের সবার।' আন্তর্জাতিক অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সভাপতি ব্যক্তিগতভাবে এসে তাকে ঐতিহাসিক সোনার পদক ও রেকর্ড ভাঙার বিশেষ সম্মাননা ট্রফি তুলে দেন।
খেলাধুলা বিষয়ক বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় স্পোর্টস জার্নালগুলো একে মানব ইতিহাসের অন্যতম নিখুঁত ক্রীড়া নৈপুণ্য হিসেবে চিহ্নিত করেছে। পদার্থবিজ্ঞানী ও বায়োমেকানিক্স গবেষকরা বলছেন, পোল ভল্টে গতিশক্তিকে উল্লম্ব শক্তিতে রূপান্তরের যে অবিশ্বাস্য নিখুঁত ভারসাম্য তিনি প্রদর্শন করেছেন, তা ভবিষ্যতে ক্রীড়াবিজ্ঞানের গবেষণাগারে পাঠ্য হিসেবে বিবেচিত হবে।
