পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা তহবিলে রেকর্ড বরাদ্দ: আন্তর্জাতিক শীর্ষ জার্নালে প্রকাশনায় বাংলাদেশী বিজ্ঞানীদের বাজিমাত
উচ্চশিক্ষাকে বৈশ্বিক মানে উন্নীত করতে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে খাঁটি মৌলিক গবেষণার জীবন্ত কেন্দ্রে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য গবেষণা ও উদ্ভাবন বাজেটে সর্বকালের রেকর্ড পরিমাণ বরাদ্দ প্রদান করেছে। বিগত অর্থবছরগুলোর তুলনায় এ বছর গবেষণা তহবিলের পরিমাণ প্রায় চারগুণ বৃদ্ধি করে সরাসরি প্রায় ৫০০ কোটি টাকার বিশেষায়িত গবেষণা গ্রান্ট ঘোষণা করা হয়েছে। এই বিশাল বিনিয়োগের সুফল ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান জগতে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত অর্ধশতাধিক উচ্চমানের মৌলিক গবেষণাপত্র সম্প্রতি নেচার, সায়েন্স, দ্য ল্যানসেট এবং আইইইই-এর মতো বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক পিয়ার-রিভিউড জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। ক্যানসারের নির্ভুল জিনোমিক সিকোয়েন্সিং, ডেঙ্গু ভাইরাসের ভ্যাকসিন ক্যান্ডিডেট উদ্ভাবন, নতুন সুপারকন্ডাক্টিং উপাদান আবিষ্কার এবং চরম জলবায়ু-সহনশীল ফসলের উদ্ভাবনে বাংলাদেশি গবেষকদের এই সাফল্য আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক মহলে এক অনন্য আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ইউজিসি চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, গবেষণার এই জোয়ার অব্যাহত রাখতে আন্তর্জাতিক মানের প্রকাশনার জন্য গবেষকদের সরাসরি সম্মানজনক অর্থ পুরস্কার এবং পেটেন্ট ফাইলিংয়ের পূর্ণাঙ্গ ব্যয় রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে বহনের বিধান কার্যকর করা হয়েছে। যে সকল শিক্ষক বিশ্বমানের গবেষণায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাদের প্রশাসনিক কাজের চাপ কমিয়ে সার্বক্ষণিক ল্যাবরেটরিতে গবেষণায় নিয়োজিত থাকার জন্য বিশেষ 'ডিস্টিংগুইশড প্রফেসরশিপ' চালু করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে দেশের বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সরাসরি অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে 'ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবোরেশন সেল' সক্রিয় করা হয়েছে। ঔষধ কোম্পানিগুলো এখন বিদেশে কাঁচামাল পরীক্ষার পরিবর্তে সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেক ল্যাবরেটরি থেকে গবেষণা সেবা গ্রহণ করছে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল যেমন সমৃদ্ধ হচ্ছে, তেমনি মেধাবী মাস্টার্স ও পিএইচডি গবেষকরা উচ্চ বেতনের দেশীয় ফেলোশিপ সুবিধা লাভ করে গবেষণায় পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারছেন।
শিক্ষা ও বিজ্ঞান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতীতে পর্যাপ্ত বাজেট ও আধুনিক ল্যাব যন্ত্রপাতির অভাবে বহু প্রতিভাবান বিজ্ঞানী বিদেশে পাড়ি জমাতে বাধ্য হতেন। দেশে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা পরিবেশ তৈরি হওয়ায় এখন সেই মেধা পাচার বন্ধ হতে শুরু করেছে; এমনকি অনেক প্রবাসী বিজ্ঞানী আবার স্বদেশে ফিরে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবগুলোতে যোগদান করছেন। এই ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ থাকলে আগামী দশকে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও উদ্ভাবনী কেন্দ্র হিসেবে বিশ্বমঞ্চে স্বগৌরবে মাথা তুলে দাঁড়াবে।
