আন্তর্জাতিক খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে যৌথ গবেষণা চুক্তি: অক্সফোর্ড, এমআইটি ও টোকিও ইউনিভার্সিটির সাথে বাংলাদেশী গবেষকদের মেলবন্ধন
বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণাকে সরাসরি বিশ্বমঞ্চের সর্বোচ্চ স্তরে সংযুক্ত করতে দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি, ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) এবং টোকিও ইউনিভার্সিটির মতো বিশ্বখ্যাত গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একাধিক ঐতিহাসিক বহুপাক্ষিক দ্বৈত-ডিগ্রি ও যৌথ গবেষণা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ সমন্বয়ে এই মেগা আন্তর্জাতিক শিক্ষা কূটনীতি সফল রূপ পরিগ্রহ করেছে।
চুক্তির অন্যতম প্রধান অংশ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েটের মেধাবী গবেষক ও শিক্ষার্থীরা এখন আন্তর্জাতিক ল্যাবে সরাসরি কাজ করার পূর্ণাঙ্গ অর্থায়ন লাভ করবেন। জলবায়ু পরিবর্তন সহনশীল স্মার্ট গ্রিড, বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ন্যানোটেকনোলজি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণায় যৌথ ফেলোশিপের আওতায় উভয় দেশের বিজ্ঞানীরা একযোগে কাজ করছেন। শিক্ষার্থীরা দেশে থেকেই এমআইটি বা অক্সফোর্ডের শীর্ষ প্রফেসরদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পিএইচডি গবেষণার সুযোগ পাচ্ছেন এবং সফলভাবে থিসিস সম্পন্ন করার পর উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ স্বীকৃত আন্তর্জাতিক ডিগ্রি লাভ করছেন।
শিক্ষার্থীদের ক্রেডিট ট্রান্সফার বা ক্রেডিট রূপান্তরের জটিলতা নিরসনে একটি আন্তর্জাতিক সমমান ফ্রেমওয়ার্ক প্রণয়ন করা হয়েছে। ফলে বাংলাদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্ডারগ্রাজুয়েট শিক্ষার্থীরা কোনো প্রকার শিক্ষাবর্ষ নষ্ট না করে একটি সেমিস্টার জাপানের টোকিও ইউনিভার্সিটিতে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে স্কলারশিপ নিয়ে শেষ করতে পারছেন এবং সেখানকার অত্যাধুনিক সুপারকম্পিউটার ও ল্যাব সুবিধা ব্যবহারের অমূল্য বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন।
আন্তর্জাতিক এই অংশীদারিত্ব দেশের শিল্প খাতেও এক বিশাল আশীর্বাদ নিয়ে এসেছে। এমআইটির সহযোগিতায় দেশে স্থাপিত হয়েছে 'অ্যাডভান্সড ম্যাটেরিয়ালস অ্যান্ড সেমিকন্ডাক্টর ইনকিউবেটর', যেখানে মাইক্রোচিপ ডিজাইন এবং ক্লিন এনার্জি হার্ভেস্টিংয়ের ওপর অত্যাধুনিক পাইলট প্রজেক্ট পরিচালিত হচ্ছে। এতে আন্তর্জাতিক টেকনোলজি কোম্পানিগুলোর সাথে সরাসরি প্রযুক্তিগত সংযোগ তৈরি হচ্ছে, যা দেশের মেধা পাচার রোধ করতে এক ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখছে।
ইউজিসি সচিব জানিয়েছেন, এই আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কেবল কয়েকটি শীর্ষ প্রতিষ্ঠানে সীমাবদ্ধ থাকবে না; ধাপে ধাপে দেশের সকল পাবলিক ও শীর্ষ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে এই বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হবে। আন্তর্জাতিক অ্যাকাডেমিক সম্প্রদায়ের সাথে এই শক্তিশালী মেলবন্ধন বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষাকে এক বিশ্বমানের আলোকবর্তিকায় পরিণত করেছে, যা আগামী দিনে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নেতৃত্বকে সুদৃঢ় ও অপরাজেয় রাখবে।
