TPV — the People view
ব্রেকিং
নতুন ব্রেকিং নিউজ লোড হচ্ছে...
আন্তর্জাতিক

সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্কের মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যা আছে।

রিপোর্টার: Admin•Bangladesh•
সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্কের মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যা আছে।

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির’ পূর্ণাঙ্গ নথি অনুমোদনের জন্য তুরস্কের পার্লামেন্টে জমা দেওয়া হয়েছে। ১৬টি অনুচ্ছেদে গঠিত এ চুক্তিতে কোনো সদস্য দেশের ওপর সশস্ত্র হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা, পারস্পরিক সামরিক সহায়তা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী, কোনো সদস্য দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব বা ভৌগোলিক অখণ্ডতা হুমকির মুখে পড়লে অন্য সদস্যরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সহযোগিতা করবে। কোনো দেশের ওপর বাইরে থেকে সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। আক্রান্ত দেশকে সামরিক সক্ষমতাসহ পারস্পরিক সহায়তার বিভিন্ন উপায় কাজে লাগিয়ে সহযোগিতা করা হবে। তবে সহায়তার ধরন নির্ধারিত হবে প্রয়োজনের মূল্যায়ন এবং সদস্য দেশগুলোর বিদ্যমান সম্পদ ও সক্ষমতার ভিত্তিতে।

চুক্তিতে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বিনিময়, যৌথ গবেষণা, সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন, সেনাসদস্যদের প্রশিক্ষণ এবং যৌথ সামরিক মহড়ার আয়োজনের কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, নিরাপদ মাধ্যমে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং অস্ত্র, গোলাবারুদ, জ্বালানি ও খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

চুক্তি বাস্তবায়ন ও যৌথ প্রতিরক্ষার কৌশলগত দিকনির্দেশনা দিতে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানদের নিয়ে একটি ‘কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটি’ গঠনের কথা বলা হয়েছে। কমিটি বছরে দুবার বৈঠক করবে। এ ছাড়া সৌদি আরবে একটি সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে, যার প্রথম মহাসচিব হবেন পাকিস্তানের নাগরিক।

চুক্তিটি অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্যকর থাকবে। তবে কার্যকর হওয়ার পর প্রথম ১০ বছর কোনো সদস্য দেশ এটি থেকে সরে যেতে পারবে না। ১০ বছর পার হলে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে, সেক্ষেত্রে অন্য সদস্যদের অন্তত তিন মাস আগে লিখিতভাবে জানাতে হবে।

চুক্তির ব্যাখ্যা বা বাস্তবায়ন নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে আলোচনা ও পরামর্শের মাধ্যমে তা সমাধান করতে হবে। এতে সংশোধন আনতে হলে তিন দেশের সম্মতি প্রয়োজন হবে। প্রত্যেক দেশের নিজস্ব অনুমোদনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর এবং অনুমোদনের সর্বশেষ দলিল জমা দেওয়ার তারিখে চুক্তিটি কার্যকর হবে।