ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে কাতারের বিরুদ্ধে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টির দাবি, আরব দলগুলোকে অর্থায়নের মাধ্যমে নির্বাচনে প্রভাব খাটিয়ে থাকতে পারে দোহা। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে দেশটির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতকে তদন্তের অনুরোধ জানিয়েছে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি (সিইসি)।
টাইমস অব ইসরায়েল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার হিব্রু ভাষার কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে লিকুদ পার্টির অভিযোগ প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি সিইসির নজরে আসে। পরে শিন বেতের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিটিকে এ বিষয়ে জানানো হয়। সিইসির চেয়ারম্যান নোয়াম সলবার্গ এরপর তদন্তের অনুরোধ করেন। ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগও অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে তাঁর সতর্কবার্তা, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেন পুরো আরব-ইসরায়েলি সম্প্রদায়কে দায়ী করা না হয়।
লিকুদ পার্টির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেছেন, ইসরায়েলের কয়েকজন রাজনীতিক ও তাঁদের ঘনিষ্ঠ গণমাধ্যমকর্মী এসব অভিযোগ সামনে এনেছেন। তাঁর দাবি, নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর আশঙ্কা থেকে নেতানিয়াহুর শিবির কোনো প্রমাণ ছাড়াই কাতারকে জড়িয়ে বক্তব্য দিচ্ছে।
হারেৎজ-এর তথ্য অনুযায়ী, রাত ৮টা পর্যন্ত প্রায় ৯৭ শতাংশ ভোট গণনা হলেও কোনো পক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হয়নি। আংশিক ফলাফলে আরবভিত্তিক দুটি রাজনৈতিক দল—রাআম ও জয়েন্ট লিস্টের—সংসদে উল্লেখযোগ্য অবস্থানের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। সরকার গঠনের সমীকরণে দল দুটির ভূমিকা রাখার সম্ভাবনার মধ্যেই কাতারের বিরুদ্ধে অভিযোগ সামনে আসে। রাআমের নেতা মানসুর আব্বাসও অভিযোগগুলো নাকচ করেছেন।
কাতারের মুখপাত্র আল-আনসারি অভিযোগগুলোকে ‘হাস্যকর ও বিপজ্জনক’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর বক্তব্য, নেতানিয়াহু ও ইসরায়েলের রাজনৈতিক মহলের একাংশ নির্বাচনী প্রচারে আরব ভোটারদের অর্থের বিনিময়ে প্রভাবিত করার অভিযোগ তুলছে, যার কোনো গ্রহণযোগ্য ভিত্তি নেই বলে দোহা মনে করে।
এদিকে কাতারের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়েও নেতানিয়াহু আগে বিতর্কের মুখে পড়েছেন বলে জানিয়েছে এএফপি। গত বছর দোহার কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগে তাঁর দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এ ছাড়া নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে হামাস-শাসিত গাজার জন্য কাতারের পরোক্ষ অর্থায়নকে সমর্থন করে এসেছেন। তাঁর যুক্তি ছিল, এ ধরনের অর্থায়নের মাধ্যমে গাজায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হতে পারে।
তবে বর্তমান নির্বাচনে কাতারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তের অপেক্ষায়। অভিযোগ, পাল্টা বক্তব্য এবং তদন্তের অনুরোধের মধ্য দিয়ে বিষয়টি ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।




