ভিডিও রিপোর্ট: গাজীপুর গ্রাউন্ড স্টেশনের ভেতরে—বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ এর মিশন কন্ট্রোল রুমের এক্সক্লুসিভ ভিজ্যুয়াল
মহাকাশ প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে সংবেদনশীল ও প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত স্থাপনা—গাজীপুরের সজীব ওয়াজেদ জয় উপগ্রহ ভূ-কেন্দ্রের মিশন কন্ট্রোল রুমের ভেতরে প্রবেশের বিশেষ অনুমতি লাভ করেছে আমাদের ভিডিও ক্যামেরা। দেশের দ্বিতীয় উপগ্রহ 'বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২' এর আসন্ন উৎক্ষেপণকে সামনে রেখে সম্পূর্ণ প্রস্তুত করা এই আল্ট্রা-হাই সিকিউরিটি সেন্টারের কর্মযজ্ঞ নিয়ে ধারণকৃত বিশেষ ভিডিও প্রতিবেদনে একবিংশ শতাব্দীর মহাকাশ বিজ্ঞানের অবিশ্বাস্য রূপ সরাসরি চোখের সামনে ভেসে উঠেছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, বিশালাকার কার্ভড এলইডি স্ক্রিন ওয়ালে সজ্জিত কেন্দ্রীয় অপারেশন রুম, যেখানে সার্বক্ষণিক কাজ করছেন দেশের তরুণ ও প্রতিভাবান স্যাটেলাইট প্রকৌশলীরা। মহাকাশে থাকা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর বর্তমান অবস্থান, ব্যাটারির তাপমাত্রা, সোলার প্যানেলের ঘূর্ণন এবং ট্রান্সপন্ডারের সিগন্যাল কোয়ালিটি রিয়েল-টাইমে গ্রাফ ও ডিজিটাল ম্যাপে প্রদর্শিত হচ্ছে। এর পাশাপাশি স্ক্রিনে লাইভ দেখা যাচ্ছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ এর চূড়ান্ত প্রি-লঞ্চ টেস্ট ডাটা ও অরবিটাল ট্র্যাজেক্টরি সিমুলেশন।
ভূ-কেন্দ্রের সুবিশাল অ্যান্টেনা ফার্মের ভিডিও ফুটেজ যেন সায়েন্স ফিকশন সিনেমার দৃশ্যকেও হার মানায়। মাটির ওপর স্থাপিত একাধিক সুবিশাল ১১ মিটার ও ৯ মিটার ব্যাসের প্যারাবলিক ডিশ অ্যান্টেনা কীভাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মহাকাশের কক্ষপথ লক্ষ্য করে ঘুরে ঘুরে সিগন্যাল গ্রহণ করছে, তা ড্রোন ক্যামেরার চোখ ধাঁধানো শটে তুলে ধরা হয়েছে। এই অ্যান্টেনাগুলোর মাধ্যমে যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা ঝড়েও নিরবচ্ছিন্নভাবে দেশের টিভি চ্যানেল এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের ইন্টারনেট সংযোগ চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে।
মিশন ডিরেক্টর ভিডিও সাক্ষাৎকারে ব্যাখ্যা করেন যে, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ এর যুক্ত হওয়ার ফলে ভূ-কেন্দ্রটির কার্যক্ষমতা দ্বিগুণে পৌঁছাবে। এটি আর্থ অবজারভেশন বা ভূপৃষ্ঠ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে দেশের সীমান্ত পাহারা, গভীর সমুদ্রে মাছের ঝাঁক শনাক্তকরণ এবং নদী ভাঙন পূর্বাভাসে সরাসরি ডেটা পাঠাবে। স্টেশনটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাইবার শিল্ড এবং বহুস্তর বিশিষ্ট বায়োমেট্রিক নিরাপত্তা বলয় স্থাপন করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটি শেষ হয় তরুণ স্যাটেলাইট ইঞ্জিনিয়ারদের সাথে এক অনুপ্রেরণাদায়ী কথোপকথনে। তারা গর্বের সাথে জানান, একসময় যেখানে দেশের উপগ্রহ পরিচালনার জন্য বিদেশি বিশেষজ্ঞদের ওপর নির্ভর করতে হতো, আজ সম্পূর্ণ দেশীয় তরুণ প্রকৌশলীরা এই জটিল ভূ-কেন্দ্র আত্মবিশ্বাসের সাথে পরিচালনা করছেন। এই ভিডিওটি দেখলে প্রতিটি নাগরিকের হৃদয় প্রযুক্তির শিখরে ওঠা বাংলাদেশের প্রতি গভীর দেশপ্রেমে ভরে উঠবে।
