ভিডিও রিপোর্ট: মাটির নিচে নতুন ঢাকা—প্রথম পাতাল রেল এমআরটি লাইন-১ এর নির্মাণযজ্ঞের রোমাঞ্চকর ড্রোন ও টানেল ভিডিও
রাজধানী ঢাকার আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় মেগা প্রকল্প এবং দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ পাতাল রেল 'এমআরটি লাইন-১' এর ভূগর্ভস্থ নির্মাণযজ্ঞের এক অভূতপূর্ব ও রোমাঞ্চকর ভিডিও চিত্র তুলে এনেছে আমাদের বিশেষ ভিডিও টিম। মাটির প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিটার গভীরে যেখানে রাতের অন্ধকার আর দিনের আলোর কোনো পার্থক্য নেই, সেখানে বিশ্বের সর্বাধুনিক দানবীয় টানেল বোরিং মেশিন (টিবিএম) কীভাবে মাটির নিচে সুড়ঙ্গ কেটে এগিয়ে চলেছে, তা ড্রোন ও হাই-ডেফিনিশন অ্যাকশন ক্যামেরায় নিখুঁতভাবে ধারণ করা হয়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শুরু করে খিলক্ষেত, নদ্দা, বাড্ডা, রামপুরা হয়ে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাতাল রুটের ভূগর্ভস্থ টানেলিংয়ের কাজ অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। জাপানি ও বাংলাদেশী প্রকৌশলীদের দল কীভাবে লেজার গাইডেড জিপিএস প্রযুক্তির সাহায্যে মিলিমিটারের নিখুঁত হিসাবে মাটির নিচে কংক্রিটের সেগমেন্ট রিং বসিয়ে সুড়ঙ্গ নির্মাণ করছেন, তা দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। ভূগর্ভের নরম মাটির ধস রোধে প্রয়োগ করা হচ্ছে অত্যাধুনিক আর্থ প্রেশার ব্যালেন্সড প্রযুক্তি।
প্রতিবেদনটিতে ভূগর্ভস্থ স্টেশনগুলোর আধুনিক নকশা ও নির্মাণকৌশল বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। বিমানবন্দর ও কমলাপুরের মতো প্রধান স্টেশনগুলোতে থাকবে চারতলা বিশিষ্ট মাটির নিচের সুবিশাল কমপ্লেক্স, যেখানে আধুনিক ভেন্টিলেশন সিস্টেম, এস্কেলেটর, লিফট এবং প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর (পিএসডি) স্থাপন করা হচ্ছে। মাটির নিচে কাজ করার সময় সাধারণ নাগরিকদের নাগরিক জীবন বা ট্রাফিকে কোনো বিঘ্ন না ঘটিয়ে কেবল নির্দিষ্ট পয়েন্টে শ্যাফট বসিয়ে যেভাবে পুরো কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে, তা আধুনিক নগর প্রকৌশলের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ভিডিও সাক্ষাৎকারে জানান, এই পাতাল রেল চালু হলে প্রতিদিন প্রায় আট লাখ নগরবাসী কোনো যানজট ছাড়াই সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে মাত্র ২৫ মিনিটে বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর যাতায়াত করতে পারবেন। এতে শহরের রাজপথের প্রায় ৪০ শতাংশ গাড়ির চাপ হ্রাস পাবে এবং রাজধানীর বায়ুদূষণ নাটকীয়ভাবে কমে আসবে।
প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, এই প্রকল্পে কাজ করে দেশের তরুণ প্রকৌশলী ও টেকনিশিয়ানরা ভূগর্ভস্থ ভারী টানেলিংয়ের এক অমূল্য আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন, যা ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে সাবওয়ে ও আন্ডারগ্রাউন্ড টানেল নির্মাণে বাংলাদেশকে সম্পূর্ণ আত্মনির্ভরশীল করে তুলবে। মাটির নিচের এই অবিশ্বাস্য রূপান্তরের ভিডিও প্রতিবেদনটি দেখলে প্রতিটি নাগরিক দেশের অবকাঠামোগত অগ্রগতি নিয়ে গভীর গর্ব অনুভব করবেন।
