কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ে বিশ্বমানের সাফল্য: বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গবেষণায় পোস্ট-কোয়ান্টাম ক্রিপ্টোগ্রাফিক অ্যালগরিদম উদ্ভাবন
কোয়ান্টাম কম্পিউটারের বিস্ময়কর ক্ষমতায় যখন বিশ্বের প্রচলিত সকল এনক্রিপশন ও সাইবার নিরাপত্তা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে, ঠিক সেই সন্ধিক্ষণে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল তরুণ গবেষক আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক যুগান্তকারী সাফল্য অর্জন করেছেন। উন্নত গণিত ও ল্যাটিস-ভিত্তিক তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের সমন্বয়ে তারা এমন একটি 'পোস্ট-কোয়ান্টাম ক্রিপ্টোগ্রাফিক অ্যালগরিদম' উদ্ভাবন করেছেন, যা পৃথিবীর যেকোনো শক্তিশালী কোয়ান্টাম কম্পিউটারের ডিক্রিপশন আক্রমণ প্রতিহত করতে শতভাগ সক্ষম।
গবেষক দলের এই যুগান্তকারী গবেষণাপত্রটি সম্প্রতি আন্তর্জাতিক তাত্ত্বিক কম্পিউটার বিজ্ঞানের শীর্ষ জার্নাল 'আইইইই ট্রানজেকশনস অন ইনফরমেশন থিওরি'-তে শীর্ষস্থানে প্রকাশিত হয়েছে। উদ্ভাবিত এই নতুন এনক্রিপশন সিস্টেমটির নাম দেওয়া হয়েছে 'পদ্মা-কিউ' (PADMA-Q)। আন্তর্জাতিক ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেকনোলজি (এনআইএসটি) পরিচালিত কঠোর বৈশ্বিক পরীক্ষায় পদ্মা-কিউ অ্যালগরিদমটি অন্য আন্তর্জাতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের পেছনে ফেলে সর্বোচ্চ স্কোর ও কম্পিউটেশনাল দক্ষতা অর্জন করেছে।
প্রধান গবেষক বুয়েটের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (সিএসই) বিভাগের অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ হোসেন জানান, 'প্রচলিত আরএসএ বা উপবৃত্তাকার বক্ররেখা (ইসিসি) ক্রিপ্টোগ্রাফি কোয়ান্টাম কম্পিউটারের শোরস অ্যালগরিদমের কাছে ভেঙে পড়বে। কিন্তু আমাদের পদ্মা-কিউ অ্যালগরিদমটি বহু-মাত্রিক হাইপার-ল্যাটিসের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা সমাধান করতে একটি সুপার-কোয়ান্টাম কম্পিউটারেরও বিলিয়ন বছর সময় লাগবে। সবচেয়ে আশার কথা হলো, এই অ্যালগরিদমটি সাধারণ স্মার্টফোন এবং কম শক্তির আইওটি ডিভাইসেও অত্যন্ত দ্রুতগতিতে কাজ করে।'
বাংলাদেশ ব্যাংক এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে দেশের ব্যাংকিং লেনদেন এবং সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ভবিষ্যৎ কোয়ান্টাম সাইবার হুমকি থেকে সুরক্ষিত রাখতে পদ্মা-কিউ অ্যালগরিদমটি পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ শুরু করেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং সুইফট মেসেজিং এবং সামরিক এনক্রিপ্টেড রেডিওতে এই দেশীয় প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ায় দেশের আর্থিক ও সামরিক নিরাপত্তা এক অভেদ্য সুরক্ষা বলয়ে প্রবেশ করল।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণত বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা সফটওয়্যার সেবা ও আউটসোর্সিংয়ে পরিচিত হলেও মৌলিক তাত্ত্বিক কম্পিউটার বিজ্ঞান ও ক্রিপ্টোগ্রাফিতে এমন বৈশ্বিক মাইলফলক স্থাপন প্রমাণ করে যে এ দেশের মেধার কোনো ঘাটতি নেই। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এই গবেষণাকে আরও এগিয়ে নিতে একটি পূর্ণাঙ্গ 'জাতীয় কোয়ান্টাম রিসার্চ সেন্টার' স্থাপনের জন্য বিশেষায়িত ১০০ কোটি টাকার গবেষণা তহবিল বরাদ্দ করেছে।
