জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো (সিআইআই) সুরক্ষায় বিজিডি ই-গভ সার্ট-এর এআই ডিফেন্স শিল্ড মোতায়েন
ডিজিটাল অর্থনীতি ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামোর (সিআইআই) নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আন্তর্জাতিক সাইবার অপরাধীদের সম্ভাব্য আক্রমণ প্রতিহত করতে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের অধীনস্থ 'বিজিডি ই-গভ সার্ট' এক সর্বাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন জাতীয় সাইবার ডিফেন্স শিল্ড মোতায়েন করেছে। দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি গ্রিড, জাতীয় পরিচয়পত্র ডেটাবেস, বন্দর ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানসহ ২৯টি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি এই সেন্ট্রাল সিকিউরিটি অপারেশনস সেন্টারের (এসওসি) সাথে রিয়েল-টাইমে সংযুক্ত করা হয়েছে।
নতুন এই সাইবার শিল্ডে যুক্ত করা হয়েছে আন্তর্জাতিক মানের এআই এনোমালি ডিটেকশন এবং জিরো-ট্রাস্ট আর্কিটেকচার। বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে আসা সন্দেহজনক আইপি ট্রাফিক, ডিডস (ডিডিঅএস) আক্রমণ কিংবা ম্যালওয়্যার অনুপ্রবেশের চেষ্টা শনাক্ত হলে সিস্টেমটি মানুষের কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়াই মাত্র কয়েক মিলিসেকেন্ডের মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আক্রমণকারী আইপি ব্লক করে নিরাপত্তা ফায়ারওয়াল শক্তিশালী করে তুলছে। এর ফলে বিগত কয়েক মাসে আন্তর্জাতিক হ্যাকার চক্রের একাধিক গোপন সাইবার হামলার চেষ্টা সফলভাবে ব্যর্থ করে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় সাইবার যুদ্ধ একটি বিপজ্জনক বাস্তবতা। রাষ্ট্রীয় ব্যাংক ও আর্থিক ব্যবস্থার ডিজিটাল নিরাপত্তা সুরক্ষিত রাখা সরাসরি জাতীয় সার্বভৌমত্বের অংশ। বিজিডি ই-গভ সার্ট-এর সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের পাশাপাশি প্রতিটি সদস্য প্রতিষ্ঠানে বিশেষায়িত কম্পিউটার সিকিউরিটি ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিম গঠন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা নিজস্ব সিস্টেমের ত্রুটি ও দুর্বলতা (ভালনারেবিলিটি) নিয়মিত স্ক্যান করছে।
প্রকল্পটির অংশ হিসেবে দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কম্পিউটার সায়েন্সের মেধাবী শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি 'ন্যাশনাল সাইবার ওয়ারিয়র্স একাডেমি' প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সেখানে এথিক্যাল হ্যাকিং, ডিজিটাল ফরেনসিক্স এবং ক্রিপ্টোগ্রাফির ওপর আন্তর্জাতিক সার্টিফাইড প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে দেশের সাইবার স্পেস সুরক্ষায় সম্পূর্ণ দেশীয় বিশেষজ্ঞ জনশক্তি গড়ে তোলা সম্ভব হয়।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব জানিয়েছেন, সাধারণ নাগরিকদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি সহজ টোল-ফ্রি ২৪/৭ সাইবার হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং, ফিশিং লিংক কিংবা অনলাইন আর্থিক প্রতারণার শিকার হলে নাগরিকরা অবিলম্বে এই নম্বরে কল করে আইনি ও কারিগরি সহায়তা লাভ করতে পারছেন। এই সমন্বিত উদ্যোগ ডিজিটাল বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ, সুরক্ষিত ও আন্তর্জাতিকভাবে নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তিবান্ধব রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে।
