বাংলাদেশের প্রথম সার্বভৌম লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল 'স্বাধীন এআই' উন্মোচন: বাংলা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন ইতিহাস
বাংলা ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং জাতীয় জ্ঞানভাণ্ডারকে ডিজিটাল বিশ্বে প্রযুক্তির শীর্ষ শিখরে প্রতিষ্ঠিত করার প্রত্যয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষকদের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ সার্বভৌম লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (এলএলএম) 'স্বাধীন এআই' আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বিসিসি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক জমকালো প্রযুক্তি সম্মেলনে দেশের শীর্ষ কম্পিউটার বিজ্ঞানী, সফটওয়্যার প্রকৌশলী এবং নীতিনির্ধারকদের উপস্থিতিতে এই ঐতিহাসিক মডেলটির উন্মোচন ঘটে।
'স্বাধীন এআই' সম্পূর্ণ দেশীয় সুপারকম্পিউটিং ক্লাস্টারে প্রশিক্ষিত একটি ৭০ বিলিয়ন প্যারামিটারের স্টেট-অব-দ্য-আর্ট ফাউন্ডেশনাল মডেল। দেশের প্রাচীন পুঁথি, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক দলিলপত্র, বাংলা একাডেমি অভিধান, রবীন্দ্র-নজরুল সাহিত্যসমগ্র থেকে শুরু করে আধুনিক বিজ্ঞান, আইন ও চিকিৎসাবিদ্যার প্রায় ১০ ট্রিলিয়ন বাংলা টোকেন ডেটাসেটের ওপর এই মডেলটিকে বিশেষায়িতভাবে ট্রেন করা হয়েছে। এর ফলে ইংরেজি মডেলগুলোর মতো কোনো পরোক্ষ অনুবাদ নির্ভরতা ছাড়াই এটি সরাসরি খাঁটি বাংলায় জটিল দার্শনিক, আইনি, প্রশাসনিক ও সাহিত্যিক প্রশ্নের অত্যন্ত মার্জিত উত্তর প্রদানে সক্ষম।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইসিটি উপদেষ্টা জানান, সরকারি সেবা ডিজিটাইজেশন, ই-নথি ব্যবস্থাপনা এবং বিচার বিভাগের আইনি নথি পর্যালোচনায় 'স্বাধীন এআই' সরাসরি ইন্টিগ্রেট করা হচ্ছে। এর ফলে একজন সাধারণ প্রান্তিক নাগরিক নিজের আঞ্চলিক ভাষায় ভয়েস কমান্ড দিয়ে যেকোনো সরকারি ভাতা, কৃষি পরামর্শ বা চিকিৎসা সেবার বিস্তারিত নির্দেশনা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে জানতে পারবেন। দৃষ্টি ও বাকপ্রতিবন্ধী নাগরিকদের জন্য এই মডেলের মাধ্যমে রিয়েল-টাইম অডিও-টু-টেক্সট এবং টেক্সট-টু-স্পিচ প্রযুক্তি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে উন্মুক্ত করা হয়েছে।
প্রকল্পটির নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব প্রসঙ্গে গবেষক দল জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক এআই প্ল্যাটফর্মগুলোর মতো 'স্বাধীন এআই' এর ডেটা কখনোই বিদেশের কোনো থার্ড-পার্টি সার্ভারে সংরক্ষিত হবে না। কালিয়াকৈর জাতীয় ডেটা সেন্টারে সম্পূর্ণ সাইবার নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে এই মডেলের ক্লাউড অবকাঠামো পরিচালিত হচ্ছে। এতে দেশের গোপনীয় রাষ্ট্রীয় ডেটা, আইনি নথিপত্র এবং নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের শতভাগ সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা সুরক্ষিত থাকবে।
আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সংস্থা এবং ওপেন সোর্স এআই গবেষকরা বাংলাদেশের এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তারা বলছেন, বিশ্বের সপ্তম সর্বাধিক প্রচলিত ভাষা হিসেবে বাংলাকে এআই-এর প্রথম সারিতে স্থান দেওয়া দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য আঞ্চলিক ভাষার জন্যও এক অনুপ্রেরণাদায়ী দৃষ্টান্ত। স্বাধীন এআই বাংলাদেশের তরুণ সফটওয়্যার ডেভেলপার ও স্টার্টআপদের জন্য এক বিশাল সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করল, যা দেশের আইসিটি রপ্তানিকে বিলিয়ন ডলারের পথে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
