সারাদেশের প্রধান মহানগরীগুলোতে বাণিজ্যিক ৫জি নেটওয়ার্ক চালু: শিল্প ও স্মার্ট সিটিতে গতিশীলতার নতুন বিপ্লব
দেশের টেলিযোগাযোগ খাতের বহুল প্রতীক্ষিত আধুনিকায়ন সম্পন্ন করে রাজধানী ঢাকা, বন্দরনগরী চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা ও রাজশাহীর প্রধান বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকাগুলোতে সফলভাবে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক পঞ্চম প্রজন্মের (৫জি) মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবা চালু করেছে শীর্ষস্থানীয় মোবাইল অপারেটরগুলো। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) কর্তৃক সাম্প্রতিক সফল স্পেকট্রাম বা তরঙ্গ নিলাম এবং আধুনিক অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক স্থাপনের ফলেই এই অতি উচ্চগতির ডিজিটাল কানেক্টিভিটি গ্রাহকের হাতের মুঠোয় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হলো।
নতুন ৫জি নেটওয়ার্কের প্রাথমিক স্পিড টেস্টে দেখা গেছে, গ্রাহকরা প্রতি সেকেন্ডে গড়ে ১ গিগাবিট থেকে ১.৫ গিগাবিট (জিবিপিএস) পর্যন্ত ডাউনলোড স্পিড পাচ্ছেন, যা বিদ্যমান ফোর-জি গতির চেয়ে প্রায় বিশ থেকে ত্রিশ গুণ দ্রুত। এই নেটওয়ার্কের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এর অতি স্বল্প ল্যাটেন্সি বা ডেটা আদান-প্রদানের সময়সীমা, যা মাত্র ৩ থেকে ৫ মিলিসেকেন্ডে নেমে এসেছে। এর ফলে মোবাইল গেমিং, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (ভিআর) প্রযুক্তিতে ব্যবহারকারীরা উপভোগ করছেন নিরবচ্ছিন্ন বাফারিংবিহীন অভিজ্ঞতা।
কেবল ব্যক্তিগত যোগাযোগেই নয়; শিল্প কারখানার আধুনিকায়ন ও অটোমেশনে এই ৫জি প্রযুক্তি ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখছে। চট্টগ্রামের ইপিজেড এবং মিরসরাই বঙ্গবন্ধু শিল্প নগরের একাধিক আধুনিক পোশাক ও ভারী শিল্প কারখানা ইতোমধ্যে প্রাইভেট ৫জি নেটওয়ার্ক স্থাপন করেছে। এই উচ্চগতির লাইনের সাহায্যে কারখানার স্বয়ংক্রিয় রোবোটিক উৎপাদন লাইন, এআই কোয়ালিটি স্ক্যানার এবং স্বয়ংক্রিয় মালামাল পরিবহন যান (এজিভি) কেন্দ্রীয় সার্ভারের সাথে রিয়েল-টাইমে সংযুক্ত থেকে ত্রুটিহীনভাবে কাজ করছে, যা উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
স্বাস্থ্য ও টেলিমেডিসিন খাতেও এই প্রযুক্তির ইতিবাচক সুফল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মধ্যে ৫জি নির্ভর হাই-ডেফিনিশন টেলি-সার্জারি এবং রিয়েল-টাইম ভিডিও কনসালটেশন সফলভাবে শুরু হয়েছে। এর ফলে রাজধানী না এসেও গ্রামের জটিল রোগীরা শীর্ষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সরাসরি পরামর্শ ও রোগ নির্ণয়ের সুবিধা পাচ্ছেন।
বিটিআরসি চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের সকল জেলা সদর এবং হাইওয়ে করিডোরে এই ৫জি কভারেজ সম্প্রসারিত করা হবে। পাশাপাশি সাশ্রয়ী মূল্যে সাধারণ নাগরিকদের জন্য ৫জি স্মার্টফোনের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে দেশীয় মোবাইল সংযোজনকারী কারখানাগুলোতে বিশেষ ভ্যাট ও শুল্ক সুবিধা বহাল রাখা হয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক ডিজিটাল রূপান্তরকে এক অপ্রতিরোধ্য গতি প্রদান করবে।
