ওপেন সোর্স সফটওয়্যারে বাংলাদেশের বৈশ্বিক বিপ্লব: গিটহাবে ১০ লাখ বাংলাদেশী ডেভেলপারের পদচিহ্ন
বিশ্বব্যাপী সফটওয়্যার প্রযুক্তি ও ওপেন সোর্স কোডিংয়ের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম গিটহাবে (GitHub) এক অভাবনীয় ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছে বাংলাদেশ। গিটহাবের বার্ষিক বৈশ্বিক ডেভেলপার রিপোর্টে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, প্ল্যাটফর্মটিতে নিবন্ধিত সক্রিয় বাংলাদেশি সফটওয়্যার ডেভেলপার ও প্রোগ্রামারের সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে ১০ লাখের (এক মিলিয়ন) কোটা অতিক্রম করেছে। এর ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় দ্রুত বর্ধনশীল ওপেন সোর্স ডেভেলপার কমিউনিটিগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ দ্বিতীয় শীর্ষ স্থান দখল করেছে।
প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশি তরুণ প্রকৌশলীরা কেবল কোড ডাউনলোড বা ব্যবহারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; তারা লিনাক্স কার্নেল, পাইথন, জাভাস্ক্রিপ্ট, কিউবারনেটিস এবং টেনসরফ্লোর মতো আন্তর্জাতিকভাবে বহুল ব্যবহৃত ওপেন সোর্স প্রজেক্টগুলোতে সরাসরি মৌলিক কোড কন্ট্রিবিউট বা অবদান রাখছেন। বিশ্বের শীর্ষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ফ্রেমওয়ার্কগুলোর বাংলা ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং (এনএলপি) লাইব্রেরিগুলোর সিংহভাগই তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণ করছেন বাংলাদেশি তরুণরা, যা আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি মহলে দারুণ সমাদৃত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল, মাইক্রোসফট, অ্যামাজন এবং মেটাতে বাংলাদেশি প্রোগ্রামারদের নিয়োগের ক্ষেত্রেও এই ওপেন সোর্স কন্ট্রিবিউশন এক বিরাট অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রির চেয়ে গিটহাব প্রোফাইল ও কোডের গুণগত মান দেখেই সরাসরি বিদেশি কোম্পানিগুলো উচ্চ বেতনের রিমোট জবে বাংলাদেশি ডেভেলপারদের নিয়োগ প্রদান করছে। এতে করে দেশের মেধাবী তরুণরা নিজেদের ঘরে বসেই প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছেন, যা জাতীয় রিজার্ভকে সমৃদ্ধ করছে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তায় দেশজুড়ে আয়োজিত হচ্ছে 'ন্যাশনাল ওপেন সোর্স সামিট' এবং হ্যাকাথন। সেখানে স্কুল-কলেজের খুদে শিক্ষার্থীদেরও গিট ও গিটহাবের মাধ্যমে দলগত সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট এবং আধুনিক ভার্সন কন্ট্রোল শেখানো হচ্ছে। এই তরুণ ডেভেলপারদের জন্য প্রতিটি বিভাগীয় শহরে স্থাপন করা হয়েছে উচ্চগতির বিশেষায়িত ফ্রি কো-ওয়ার্কিং স্পেস।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতীতের সাধারণ ডেটা এন্ট্রি কিংবা বেসিক ওয়েবসাইট ডিজাইনের মতো কম মূল্যের কাজের যুগ পেছনে ফেলে বাংলাদেশ আজ গভীর প্রকৌশল ও উচ্চমূল্যের বুদ্ধিবৃত্তিক প্রযুক্তি সেবা রপ্তানির যুগে প্রবেশ করেছে। এই এক মিলিয়ন দক্ষ ওপেন সোর্স ডেভেলপারই হলো স্মার্ট ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রযুক্তিগত স্তম্ভ, যারা দেশকে বিশ্বমঞ্চে এক প্রধান সফটওয়্যার পরাশক্তি হিসেবে নেতৃত্ব দেবে।
