খুলনা শিপইয়ার্ডের অনন্য কীর্তি: দেশীয় নকশায় নির্মিত দুটি অত্যাধুনিক টহল জাহাজ নৌ ও কোস্টগার্ডে হস্তান্তর
দেশের স্বনামধন্য যুদ্ধজাহাজ ও বাণিজ্যিক জলযান নির্মাণকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড (কেএসওয়াই) সম্পূর্ণ নিজস্ব নকশা ও প্রযুক্তিতে নির্মিত দুটি আধুনিক ইনশোর পেট্রোল ভেসেল (আইপিভি) আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের কাছে হস্তান্তর করেছে। রূপসা নদীর তীরে খুলনা শিপইয়ার্ড প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে নৌবাহিনী প্রধান এবং কোস্টগার্ড মহাপরিচালক উপস্থিত থেকে জাহাজ দুটির কমিশনিং দলিল স্বাক্ষর ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।
দেশীয় প্রকৌশলীদের মেধা ও পরিশ্রমে নির্মিত এসব জাহাজের দৈর্ঘ্য ৫০ মিটার এবং সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২৮ নটিক্যাল মাইল। জাহাজগুলোতে সংযুক্ত করা হয়েছে অত্যাধুনিক থ্রি-ডি সারফেস সার্চ রাডার, দূরপাল্লার ইনফ্রারেড নাইট ভিশন ক্যামেরা এবং গভীর সমুদ্রে জলদস্যু দমন ও চোরাচালান প্রতিরোধে কার্যকর রিমোট কন্ট্রোল অটোমেটিক ক্যানন। প্রতিকূল আবহাওয়া ও উত্তাল সাগরেও জাহাজগুলো দীর্ঘ সময় নোঙর ছাড়া অবস্থান করে সার্বক্ষণিক অপারেশন পরিচালনা করতে সক্ষম।
অনুষ্ঠানে নৌবাহিনী প্রধান বলেন, খুলনা শিপইয়ার্ড একসময় লোকসানে নিমজ্জিত ছিল, কিন্তু সততা, আধুনিক ব্যবস্থাপনা এবং দেশীয় প্রকৌশলীদের নিরলস প্রচেষ্টায় এটি আজ দেশের অন্যতম লাভজনক ও স্বাবলম্বী শিল্প প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। দেশের নিজস্ব জলসীমা রক্ষা, ব্লু ইকোনমির সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এই জাহাজ দুটি অপ্রতিরোধ্য সুরক্ষা বলয় গড়ে তুলবে।
জাহাজ নির্মাণ বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন, পূর্বে এ ধরনের অত্যাধুনিক টহল জাহাজ বিদেশ থেকে চড়া মূল্যে আমদানি করতে হতো, যার পেছনে বিপুল পরিমাণ মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হতো। নিজস্ব শিপইয়ার্ডে আন্তর্জাতিক ক্লাসিফিকেশন সোসাইটির মানদণ্ড মেনে বিশ্বমানের জাহাজ তৈরির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হয়েছে এবং দেশে দক্ষ মেরিন মেকানিক্যাল ও ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের এক বিশাল কর্মীবাহিনী তৈরি হয়েছে।
খুলনা শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য একাধিক বৃহৎ ল্যান্ডিং ক্রাফট এবং সমুদ্রগামী ফ্রিগেট নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাণিজ্যিকভাবে টাগবোট ও কার্গো জাহাজ রপ্তানির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের ব্লু ইকোনমি ও ভারী শিল্প খাতের সক্ষমতাকে বৈশ্বিক মানচিত্রে এক নতুন উচ্চতায় অধিষ্ঠিত করবে।
