কালিয়াকৈর ও সিলেটের হাই-টেক পার্কে সফটওয়্যার রপ্তানির নতুন রেকর্ড: তথ্যপ্রযুক্তি খাতে আড়াই বিলিয়ন ডলারের আয়
দেশীয় মেধাবীদের সফটওয়্যার দক্ষতা এবং আধুনিক হাই-টেক পার্কের বিশ্বমানের সুযোগ-সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) সেবা রপ্তানিতে সর্বকালের নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছে বাংলাদেশ। গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটি এবং সিলেটের এমএজি ওসমানী হাই-টেক পার্ক (সিলিকন সিটি) পুরোদমে কার্যকর হওয়ার ফলে দেশের আইসিটি রপ্তানি আয় চলতি অর্থবছরে আড়াই বিলিয়ন ডলারের ঐতিহাসিক মাইলফলক অতিক্রম করেছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ বহুজাতিক কোম্পানিগুলো এখন বাংলাদেশি সফটওয়্যার ফার্মগুলোর মাধ্যমে তাদের কোর এন্টারপ্রাইজ অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করছে।
বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ (বিএইচটিপিএ) জানিয়েছে, হাই-টেক পার্কগুলোতে বিনিয়োগকারী দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরবচ্ছিন্ন অপটিক্যাল ফাইবার ইন্টারনেট, শতভাগ ব্যাকআপ বিদ্যুৎ সুবিধা, আন্তর্জাতিক মানের টায়ার-থ্রি ডেটা সেন্টার এবং ১০ বছরের সম্পূর্ণ কর অবকাশ (ট্যাক্স হলিডে) সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। এর ফলে প্রায় দেড় শতাধিক বৈশ্বিক ও দেশীয় সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এসব পার্কে তাদের স্থায়ী রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আরঅ্যান্ডডি) ল্যাবরেটরি স্থাপন করেছে।
সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের শীর্ষ সংগঠন বেসিস (বিএএসআইএস) জানিয়েছে, পূর্বে বাংলাদেশ কেবল সাধারণ ডেটা এন্ট্রি ও বেসিক ওয়েব ডেভেলপমেন্টের কাজ পেত। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশি প্রকৌশলীরা আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টদের জন্য জটিল এআই মডেল ডেভেলপমেন্ট, ফিনটেক ব্লকচেইন অ্যাপ্লিকেশন, ক্লাউড আর্কিটেকচার এবং কোয়ান্টাম এলগরিদমের মতো উচ্চমূল্যের প্রযুক্তি সেবা প্রদান করছেন। এর ফলে প্রতিটি প্রকল্পের জন্য বৈদেশিক মুদ্রার উপার্জনের পরিমাণ চার থেকে পাঁচগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
সিলেটের সিলিকন সিটিতে গড়ে ওঠা টেকনোলজি হাবে স্থানীয় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং পলিটেকনিকের হাজার হাজার তরুণ স্নাতক সরাসরি উচ্চ বেতনে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন। রাজধানী ঢাকার ওপর জনসংখ্যার চাপ না বাড়িয়ে বিভাগীয় শহরেই আধুনিক আন্তর্জাতিক মানের আইটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির এই সফল মডেল এখন রাজশাহী, যশোর এবং বরিশালেও পুরোদমে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
আইসিটি খাত সংশ্লিষ্ট গবেষকরা অভিমত দিয়েছেন, তৈরি পোশাকের মতো একক খাতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে রফতানি পণ্যের বহুমুখীকরণে আইসিটি খাতই দেশের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে সফটওয়্যার রপ্তানি থেকে বার্ষিক ৫ বিলিয়ন ডলার আয়ের জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এই হাই-টেক পার্কগুলো দেশের অগ্রযাত্রার প্রধান ইঞ্জিন হিসেবে কাজ করবে।
