ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে হাই-স্পিড ইভি চার্জিং করিডোর চালু: দেশীয় ইলেকট্রিক ভেহিকল উৎপাদনে নতুন গতি
জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব সবুজ যাতায়াত নিশ্চিত করতে এবং দেশের পরিবহন ব্যবস্থাকে আধুনিক রূপ দিতে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের যৌথ উদ্যোগে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট জাতীয় মহাসড়কে প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ 'আল্ট্রা-ফাস্ট ইলেকট্রিক ভেহিকল (ইভি) চার্জিং করিডোর' সফলভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। মহাসড়কগুলোর প্রতি ৫০ কিলোমিটার অন্তর অন্তর স্থাপন করা হয়েছে আন্তর্জাতিক মানের সুপারফাস্ট ডিসি চার্জিং স্টেশন, যেখানে যেকোনো ইলেকট্রিক গাড়ি মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে শতভাগ ফুল চার্জ করা সম্ভব।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব জানান, এই মেগা প্রকল্পের আওতায় স্থাপিত চার্জিং স্টেশনগুলোতে ব্যবহার করা হয়েছে আল্ট্রা-হাই পাওয়ার ২৪০ কিলোওয়াটের ডাবল গান চার্জার। এর ফলে ব্যক্তিগত ইলেকট্রিক কার, মাইক্রোবাস এবং ভারী ইলেকট্রিক বাসের দীর্ঘ দূরত্বের আন্তঃনগর চলাচল সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত হলো। চার্জিং স্টেশনের জন্য মোবাইল অ্যাপ চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে চালকরা আগেই চার্জিং স্লট বুকিং করতে পারছেন এবং ডিজিটাল ওয়ালেটের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করছেন।
চার্জিং অবকাঠামো গড়ে ওঠার সাথে সাথে দেশীয় অটোমোবাইল শিল্পেও বইছে বৈপ্লবিক হাওয়া। গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত দেশের একাধিক অটোমোবাইল কারখানা সম্পূর্ণ দেশেই পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাস ও কার সংযোজন শুরু করেছে। জাপান ও চীনের সাথে যৌথ উদ্যোগে স্থাপিত এসব কারখানায় লিথিয়াম আয়রন ফসফেট (এলএফপি) ব্যাটারি প্যাক এবং আধুনিক স্মার্ট ব্যাটারি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (বিএমএস) তৈরি হচ্ছে। দেশীয় কারখানায় তৈরি এসব গাড়ি আমদানিকৃত গাড়ির তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ সাশ্রয়ী মূল্যে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে।
পরিবহন মালিক সমিতি এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে দূরপাল্লার রুটে ডিজেল চালিত পুরনো বাসের পরিবর্তে নতুন আরামদায়ক এসি ইলেকট্রিক বাস নামানোর ঘোষণা দিয়েছে। বাস মালিকরা জানান, ইলেকট্রিক বাস পরিচালনার খরচ প্রচলিত ডিজেল বাসের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ কম এবং এতে কোনো ক্ষতিকর ধোঁয়া বা ইঞ্জিন শব্দ তৈরি হয় না। যাত্রীরা ঝাঁকুনিবিহীন পরম শান্তিতে যাতায়াত করতে পারছেন।
পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, মহাসড়কে হাজার হাজার ইলেকট্রিক গাড়ি চলাচল শুরু করায় পরিবহন খাত থেকে বার্ষিক কার্বন নিঃসরণ প্রায় ৩০ শতাংশ হ্রাস পাবে। এছাড়া তেলের আমদানি বিল সাশ্রয়ের মাধ্যমে দেশের মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা রক্ষা পাবে। সরকার ঘোষণা করেছে, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের অন্তত ৪০ শতাংশ গণপরিবহনকে সম্পূর্ণ ইলেকট্রিক যানবাহনে রূপান্তর করা হবে, যা বাংলাদেশকে একটি পরিবেশবান্ধব আধুনিক স্মার্ট রাষ্ট্রে রূপ দিতে অনন্য অবদান রাখবে।
