মেট্রোরেলে দৈনিক যাত্রীর সংখ্যা ৫ লাখ অতিক্রম: রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত সময়সীমা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত
রাজধানীর অসহনীয় ট্রাফিক জ্যামের কবল থেকে নগরবাসীকে মুক্তি দেওয়া ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) এমআরটি লাইন-৬ এ দৈনিক যাত্রী পরিবহনের সংখ্যা অর্ধ মিলিয়ন বা ৫ লাখের মাইলফলক স্পর্শ করেছে। উত্তরা উত্তর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত দীর্ঘ ২০ কিলোমিটার উড়াল রেলপথে প্রতিদিন সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে ট্রেন চলাচল করায় নগরীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মচাঞ্চল্যে এক অভূতপূর্ব রূপান্তর পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিশেষ করে মিরপুর, ফার্মগেট ও মতিঝিল এলাকার অফিসযাত্রী, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীরা এখন যানজটবিহীন স্বস্তিদায়ক যাতায়াতের সুবিধা পাচ্ছেন।
যাত্রীদের অভূতপূর্ব চাহিদা এবং প্ল্যাটফর্মে অতিরিক্ত ভিড় সামলাতে ডিএমটিসিএল কর্তৃপক্ষ বাণিজ্যিক চলাচলের সময়সীমা পুনঃনির্ধারণ করে সকাল ৬টা ৩০ মিনিট থেকে রাত ১১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত সম্প্রসারণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। পিক-আওয়ারে ট্রেনের মধ্যবর্তী বিরতি (হেডওয়ে) কমিয়ে মাত্র ৪ মিনিটে নামিয়ে আনা হয়েছে। প্রতিটি ট্রেনে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ, ডিজিটাল ডিসপ্লে এবং দৃষ্টি ও বাকপ্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ অডিও-ভিজ্যুয়াল নোটিফিকেশন সিস্টেম কার্যকর রয়েছে, যা বিশ্বমানের নাগরিক সেবার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
মতিঝিল ব্যাংকিং পাড়ার ব্যবসায়ীরা জানান, আগে যেখানে মিরপুর বা উত্তরা থেকে বাণিজ্যিক এলাকায় পৌঁছাতে সড়কপথে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা সময় নষ্ট হতো, এখন মাত্র ৩২ থেকে ৩৫ মিনিটে নিরাপদে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। এতে প্রতিদিন মানুষের লাখ লাখ কর্মঘণ্টা সাশ্রয় হচ্ছে, যা জাতীয় উৎপাদনশীলতায় সরাসরি ইতিবাচক অবদান রাখছে। চিকিৎসকরা বলছেন, দীর্ঘ সময় জ্যামে আটকে থাকার মানসিক অবসাদ ও বায়ুদূষণের ধোঁয়া থেকে মুক্ত থাকায় কর্মজীবীদের স্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
মেট্রোরেল স্টেশনগুলোতে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ধরে রাখতে বিশেষায়িত ম্যাস ট্রানজিট পুলিশ (এমআরটি পুলিশ) সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়া প্রতিটি স্টেশনে বাড়তি টিকিট ভেন্ডিং মেশিন এবং ডিজিটাল পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে এমআরটি পাস রিচার্জ ব্যবস্থা চালু করায় টিকিটের লাইনে দাঁড়ানোর ভোগান্তি পুরোপুরি দূর হয়েছে। নারী যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত বিশেষ কোচে শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করায় কর্মজীবী নারীদের চলাফেরায় বিশেষ স্বস্তি ফিরে এসেছে।
ডিএমটিসিএল ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানিয়েছেন, এমআরটি লাইন-৬ এর কমলাপুর সম্প্রসারণ অংশের কাজও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং খুব শীঘ্রই তা জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে। এর ফলে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন এবং দূরপাল্লার বাসের যাত্রীরা সরাসরি মেট্রোরেলে চড়ে শহরের যেকোনো প্রান্তে দ্রুত পৌঁছে যেতে পারবেন, যা ঢাকার বহুমুখী পরিবহন নেটওয়ার্কের এক যুগান্তকারী অধ্যায় রচনা করবে।
