আন্তর্জাতিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ডের জোয়ার: বাংলাদেশি প্রযুক্তি স্টার্টআপে রেকর্ড ৫০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ
দক্ষিণ এশিয়ার দ্রুত বর্ধনশীল প্রযুক্তি অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে আবির্ভূত হয়ে এক অনন্য ঐতিহাসিক রেকর্ড সৃষ্টি করেছে বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম। চলতি অর্থবছরে সিলিকন ভ্যালি, সিঙ্গাপুর, জাপান এবং মধ্যপ্রাচ্যের শীর্ষস্থানীয় বৈশ্বিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল (ভিসি) তহবিলগুলো থেকে দেশের উদীয়মান ফিনটেক, লজিস্টিকস, এডটেক, হেলথটেক এবং এগ্রিটেক স্টার্টআপগুলোতে মোট ৫০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি ইকুইটি বিনিয়োগ যুক্ত হয়েছে। এই বিশাল মূলধন প্রবাহ দেশের প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও তরুণ উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার এক উজ্জ্বল স্বীকৃতি।
বিনিয়োগ আকর্ষণকারী শীর্ষ স্টার্টআপগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত ক্ষুদ্রঋণ বিতরণকারী ফিনটেক প্রতিষ্ঠান এবং কৃষকদের সাথে সরাসরি সুপারমার্কেট যুক্তকারী সাপ্লাই-চেইন প্ল্যাটফর্ম। সিলিকন ভ্যালির সুপরিচিত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান সেকোইয়া ক্যাপিটাল, টাইগার গ্লোবাল এবং সফটব্যাংক ভিশন ফান্ড বাংলাদেশি তরুণদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তির বাজার সম্ভাবনার ভূয়সী প্রশংসা করে এই বিনিয়োগ রাউন্ডগুলোতে সরাসরি নেতৃত্ব দিয়েছে। এর ফলে একাধিক দেশীয় স্টার্টআপ 'ইউনিকর্ন' (১ বিলিয়ন ডলারের বেশি বাজারমূল্য) হওয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে।
উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, সরকারের উদার স্টার্টআপ পলিসি, শতভাগ বিদেশি মালিকানা সুবিধা, লাভজনক এক্সিটের সুযোগ এবং আইসিটি বিভাগের বিশেষ ফ্ল্যাগশিপ তহবিল 'স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড'-এর কো-ইনভেস্টমেন্ট মডেল বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন ও রেগুলেটরি কমপ্লায়েন্স প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ওয়ান-স্টপ সার্ভিসে রূপান্তরিত হওয়ায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা কোনো প্রকার লাল ফিতার দৌরাত্ম্য ছাড়াই সহজে মূলধন নিয়ে আসছেন।
স্টার্টআপগুলোর এই অভাবনীয় প্রবৃদ্ধি দেশের সার্বিক কর্মসংস্থানে ব্যাপক ইতিবাচক রূপান্তর ঘটিয়েছে। গত এক বছরে এই প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোতে প্রায় ৩০ হাজারেরও বেশি দক্ষ সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, ডেটা সায়েন্টিস্ট, প্রোডাক্ট ম্যানেজার এবং ডিজিটাল লজিস্টিকস কর্মীর উচ্চ বেতনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও এখন বহুজাতিক বা সরকারি চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেদের মেধা খাটিয়ে স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠার চমৎকার উদ্ভাবনী মানসিকতা তৈরি হয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাংলাদেশের তরুণ জনমিতিক সুবিধা (ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড) কাজে লাগিয়ে এই ধরনের প্রযুক্তি স্টার্টআপগুলো দেশের ভবিষ্যৎ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির ভিত্তি রচনা করছে। সঠিক দিকনির্দেশনা ও কর প্রণোদনা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি পণ্য একদিন সারা বিশ্বে রপ্তানি হবে এবং বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশ একটি প্রধান নলেজ-বেজড অর্থনীতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
