রংপুরের পীরগাছায় সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গার বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, স্বজনপ্রীতি ও ১০ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে টাকা নিয়েও শেষ পর্যন্ত অন্য ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়ার অভিযোগ করেছেন কল্যাণী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হলে এবং রাঙ্গাকে দলীয় পদ থেকে সরানো না হলে দলবদ্ধভাবে পদত্যাগের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
তৌহিদুল ইসলামের দাবি, কল্যাণী ইউনিয়ন ও বিভিন্ন ওয়ার্ড বিএনপির নির্বাচিত নেতাদের সুপারিশ উপেক্ষা করে ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি জিকরুল আমিনকে সার ডিলারশিপের জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। অথচ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকসহ ৩০ জন নেতা তার পক্ষে লিখিত সুপারিশ করেছিলেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, সার ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা তার কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন। কিন্তু টাকা নেওয়ার পরও তাকে বঞ্চিত করে রাঙ্গা তার নিজস্ব পছন্দের ব্যক্তিকে ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন।
ব্যক্তিগত স্বার্থ ও নিজস্ব বলয়ের লোকদের প্রাধান্য দিতে গিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে উল্লেখ করে তৌহিদুল ইসলাম বলেন:
"আমি দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। দলের জন্য আমাকে ৬১ দিন কারাবরণ করতে হয়েছে এবং এক বছর নির্বাসিত থাকতে হয়েছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও কৃষকদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক থাকার পরও আমাকে অন্যায়ভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, তৃণমূলের নির্বাচিত নেতাদের মতামত উপেক্ষা করায় ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মধ্যে মারাত্মক ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি কারও পৈতৃক বা ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে ব্যক্তিগত পছন্দ ও স্বার্থের পরিবর্তে সাংগঠনিক মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
কল্যাণী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম তৌহিদুল ইসলামের পক্ষে সুপারিশ করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ইউনিয়ন বিএনপির পক্ষ থেকে সর্বসম্মতিক্রমে সাংগঠনিক সম্পাদক তৌহিদুল ইসলামকেই সার ডিলার হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছিল। কিন্তু উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা সেই সুপারিশ তোয়াক্কা না করে একক সিদ্ধান্তে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছেন।
তৌহিদুল ইসলামের মতে, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদের মতামত উপেক্ষা করে একক সিদ্ধান্ত নেওয়ার এই প্রবণতা পীরগাছা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম ও ঐক্যকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জানতে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য বা মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সার ডিলার নিয়োগের এই অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগের সত্যতা অনুসন্ধানে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তৌহিদুল ইসলাম। একই সঙ্গে অর্থ আত্মসাতের তদন্ত, দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং পীরগাছা উপজেলা বিএনপিতে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।




