TPV — the People view
ব্রেকিং
নতুন ব্রেকিং নিউজ লোড হচ্ছে...
আন্তর্জাতিক

ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভে উত্তাল পরিস্থিতি - আহত ৫৩ পুলিশ, গ্রেপ্তার ৪৪৮

রিপোর্টার: Admin•France•
ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভে উত্তাল পরিস্থিতি - আহত ৫৩ পুলিশ, গ্রেপ্তার ৪৪৮

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, স্থবির মজুরি এবং জনকল্যাণ খাতে সরকারি ব্যয় কমানোর প্রস্তাবের প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে। বৃহস্পতিবারের এই কর্মসূচিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও সরকারি সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিক্ষোভে ৫৩ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন এবং গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৪৪৮ জনকে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন ছয় লাখের বেশি মানুষ। তবে দেশটির বৃহত্তম শ্রমিক সংগঠন জেনারেল কনফেডারেশন অব লেবার (সিজিটি) দাবি করেছে, দুই শতাধিক স্থানে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১৬ লাখ। শুধু রাজধানী প্যারিসেই বিক্ষোভে যোগ দেন প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ।

বার্তা সংস্থা এপি বিক্ষোভকারীর নির্দিষ্ট সংখ্যা জানায়নি। তবে তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্দোলনের শুরুর দিকের তুলনায় বৃহস্পতিবারের কর্মসূচিতে মানুষের উপস্থিতি ছিল অনেক বেশি।

গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে শিক্ষা খাতের সংস্কার, স্কুল ও হাইস্কুলের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের আন্দোলন শুরু হয়। পরে এর সঙ্গে যুক্ত হয় জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, মজুরি বৃদ্ধি এবং জনকল্যাণ খাতে সরকারি ব্যয় বজায় রাখার দাবি। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও আন্দোলনে যোগ দেন।

বৃহস্পতিবারের কর্মসূচিতেও শিক্ষার্থীরা সামনের সারিতে ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে অংশ নেন শিক্ষক, স্বাস্থ্যকর্মী, রেলকর্মীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ।

স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে দেশজুড়ে ৫৩ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য আহত হয়েছেন। এ ছাড়া ৮৬টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আইন ভঙ্গ, সরকারি সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ানোর অভিযোগে ৪৪৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বার্তা সংস্থা এপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সিজিটির মহাসচিব সোফি বিনে বলেন, জ্বালানি, খাদ্যপণ্য, বাড়িভাড়া, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়লেও মজুরি ও পেনশন বাড়ছে না। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে সব শ্রমিক ও পেশাজীবীর মজুরি বৃদ্ধির পাশাপাশি ন্যূনতম মজুরি ১০ শতাংশ বাড়ানোর দাবি জানান।

এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, আগামী ৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু প্যারিসে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ম্যাটিগননে ট্রেড ইউনিয়ন ও নিয়োগকর্তা সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

দীর্ঘদিন ধরে চলা আন্দোলনে দেশটির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের ১৮৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৬০টিতে শিক্ষা কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটেছে। অন্যদিকে শিক্ষা খাতের শ্রমিক সংগঠন এসএনইএস-এফএসইউ জানিয়েছে, মাধ্যমিক ও উচ্চবিদ্যালয়ের ৫২ শতাংশ কর্মী বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন।

স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্যারিস ও বোর্দোসহ কয়েকটি শহরে শিক্ষার্থীদের অবরোধ কর্মসূচি সরাতে পুলিশ হস্তক্ষেপ করেছে। শিক্ষা খাতের সংকট থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন মজুরি, জীবনযাত্রার ব্যয় ও সরকারি ব্যয়সংক্রান্ত বৃহত্তর দাবিতে রূপ নিয়েছে।