প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে শিল্পায়ন ও যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট’ (বিগ-বি) উদ্যোগে ভারতকে যুক্ত করার প্রস্তাব দিতে পারে জাপান। মুক্ত ও উন্মুক্ত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল গড়ে তোলার বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হতে পারে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর তারেক রহমানের জাপান সফরে বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হওয়ায় আঞ্চলিক সংযোগ ও জাপানের ‘বিগ-বি’ উদ্যোগ বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের উদ্যোগে ২০১৪ সালে চালু হওয়া ‘বিগ-বি’ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে শিল্প ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জ্বালানি খাতের উন্নয়ন এবং পরিবহন সংযোগ জোরদার করা। এ উদ্যোগের আওতায় মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে জাপানের উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ রয়েছে। ওই অঞ্চলের সঙ্গে ভারতের মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ উন্নয়নে বাংলাদেশ-ভারত আন্তঃসীমান্ত সংযোগ গুরুত্বপূর্ণ। বঙ্গোপসাগরেও দুই দেশের স্বার্থ রয়েছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুকূলে এলে ঢাকা ও টোকিওর জন্য ভারতকে এ উদ্যোগে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
জাপানের ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবকাঠামো ও যোগাযোগ খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ৩৮৫ বিলিয়ন ইয়েন বলে দেশটির দূতাবাসের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৩ সালে ভারত সফরের সময় জাপানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদাও বাংলাদেশ ও ভারতের সঙ্গে কাজ করে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলকে আরও স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।
এদিকে, তারেক রহমানের জাপান সফরে দুই দেশের বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারত্বকে আরও বিস্তৃত করে ‘সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারত্ব’ বা সিএসপিতে উন্নীত করার বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ সফরের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে এবং মুক্ত ও উন্মুক্ত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় দুই দেশের সমন্বয় বাড়বে বলে তারা আশা করছে।
মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে আঞ্চলিক বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেন, বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি ও বন্দর ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। দেশের নিজস্ব চাহিদা পূরণের পর বন্দরটি অতিরিক্ত পণ্য পরিবহনে সক্ষম হলে আঞ্চলিক ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।




