জাল বিল ও ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে বাংলাদেশ রেলওয়ের ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় রেলওয়ে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও সীমান্ত ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আসামি করা হয়েছে।
সোমবার দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১-এ মামলাটি করা হয়। দুদকের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পরস্পরের যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে জাল নথি ও বিলের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।
দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১-এর উপপরিচালক রিয়াজ উদ্দিন দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, অর্থ আত্মসাতের জন্য একজন শ্রমিকের নাম, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ও ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে।
ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক হিসাব
দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ‘দি কসমোপলিটন করপোরেশন’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ব্যবহার করে জাল বিল তৈরি ও অর্থ উত্তোলন করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির কথিত মালিক কোহিনুর আক্তারের পরিচয়ে ভুয়া ট্রেড লাইসেন্স তৈরি এবং ব্যাংক হিসাব খোলার তথ্য পাওয়া গেছে।
এজাহার অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১৬ নম্বর চকবাজার ওয়ার্ডে কোহিনুর আক্তারের নামে ট্রেড লাইসেন্সের জন্য অনলাইনে আবেদন করা হয়। তবে আবেদনে দেওয়া ছবির সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবির মিল ছিল না। লাইসেন্সে উল্লেখ করা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ঠিকানার বাস্তব অস্তিত্বও পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছে দুদক।
একই পরিচয় ব্যবহার করে ২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বর সীমান্ত ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখায় ‘দি কসমোপলিটন করপোরেশন’ নামে একটি এসএনডি হিসাব খোলা হয়। হিসাব খোলার নথিতে প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক লেনদেনের পরিমাণ ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছিল।
দুদকের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রকৃত কোহিনুর আক্তার একজন শ্রমিক এবং অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। তাঁর নিজের নামে কোনো ব্যাংক হিসাব নেই বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে ব্যাংকে জমা দেওয়া নথির ছবি ও স্বাক্ষরে অমিল থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় যাচাই ছাড়াই হিসাব খোলার অভিযোগ আনা হয়েছে ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।
জাল বিলের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ
রেলওয়ের অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান হিসাব অধিকর্তার কার্যালয়ের বাজেট এবং ব্যয়ের নথি পর্যালোচনা করে জাল বিলের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে দুদক।
এজাহারে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর ‘দি কসমোপলিটন করপোরেশন’-এর নামে চারটি বিলের অতিরিক্ত ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকার একটি বিল পরিশোধ করা হয়। তবে সংশ্লিষ্ট রেজিস্টার ও নথিপত্র যাচাই করে বিলটির পক্ষে কোনো বৈধ রেকর্ড পাওয়া যায়নি বলে দুদকের দাবি।
অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, বিলটি নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে পাঠানো হয়নি। এ ছাড়া বিলের সঙ্গে ব্যবহৃত সিল, স্বাক্ষর ও অন্যান্য কাগজপত্রেও অসংগতি পাওয়া গেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদকের অভিযোগ, জাল বিল অনুমোদন ও প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে রেলওয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর পরিচয় এবং আইবাস++ ব্যবস্থার ব্যবহারকারী পরিচিতি কাজে লাগানো হয়।
এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলা করা হয়েছে।
তবে মামলার অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারিত হবে।




