TPV — the People view
ব্রেকিং
নতুন ব্রেকিং নিউজ লোড হচ্ছে...
বাংলাদেশ

এসএসসির খাতায় শূন্যকে ৮৫, ১৩-কে ৮৩,অনিয়মের অভিযোগ করলেন শিক্ষামন্ত্রীর

রিপোর্টার: Admin•Bangladesh•
এসএসসির খাতায় শূন্যকে ৮৫, ১৩-কে ৮৩,অনিয়মের অভিযোগ করলেন শিক্ষামন্ত্রীর

এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন ও নম্বর প্রদানে একাধিক গুরুতর অসংগতির অভিযোগ সামনে এনেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তাঁর দাবি, পুনঃনিরীক্ষণে এক শিক্ষার্থীর খাতায় শূন্য নম্বরকে ৮৫ এবং ১৩ নম্বরকে ৮৩ করে জিপিএ-৫ দেওয়ার ঘটনা ধরা পড়েছে। এ ঘটনায় দায়ীদের শনাক্ত করতে মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব তথ্য তুলে ধরেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী।

এবারের এসএসসি পরীক্ষার খাতা পুনঃনিরীক্ষণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, প্রায় ১৯ লাখ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল, যাদের মধ্যে ১২ লাখ পাস করে। পুনঃনিরীক্ষণের সুযোগ দেওয়ার পর বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়ে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৩ লাখ খাতা পুনরায় মূল্যায়নের আবেদন করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, পুনঃনিরীক্ষণের পর ৪৫ হাজার শিক্ষার্থীর জিপিএ পরিবর্তন হয়েছে। এ ছাড়া আগে অকৃতকার্য থাকা পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী পাস করেছে এবং ৩ হাজার ৭৯ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। তাঁর অভিযোগ, কিছু পরীক্ষক নিজেরা খাতা মূল্যায়ন না করে অন্যদের দিয়ে মূল্যায়ন করিয়েছেন, যা পরীক্ষার ফলাফলে অনিয়মের সুযোগ তৈরি করেছে।

দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদের শনাক্ত করা হবে। পাশাপাশি খাতা মূল্যায়নের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা ও পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

নম্বর জালিয়াতির অভিযোগের একটি ঘটনা ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, এক শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫ পাওয়ার পর তার এক বন্ধু ফলাফল নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করে। পরে খাতা যাচাইয়ে দেখা যায়, ওই শিক্ষার্থী প্রকৃতপক্ষে ফেল করেছে বলে মন্ত্রী দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, খাতায় শূন্য নম্বরকে ৮৫ এবং ১৩ নম্বরকে ৮৩ হিসেবে দেখানো হয়েছিল। এ ঘটনার পেছনে কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে বের করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া আরেক শিক্ষার্থীর ফলাফল নিয়েও অনিয়মের অভিযোগের কথা জানান মন্ত্রী। ওই শিক্ষার্থী দাবি করেছিল, সব বিষয়ে এ-প্লাস পেলেও একটি বিষয়ে তাকে ফেল দেখানো হয়েছে। বিষয়টি যাচাই করতে প্রথমে ট্যাবুলেশন শিট পরীক্ষা করা হয়। সেখানে অসংগতি না পাওয়ায় তার বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) পরীক্ষার উত্তরপত্র খতিয়ে দেখা হয়। এতে শিক্ষার্থীটি এমসিকিউ অংশে অকৃতকার্য হয়েছে বলে জানানো হয়।

তবে পরবর্তী পর্যায়ে শিক্ষার্থীর স্বাক্ষর সংগ্রহ করে ওএমআর শিট পরীক্ষা করার পর শিট পরিবর্তনের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন শিক্ষামন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এমসিকিউতে পাস করিয়ে দেওয়ার জন্য ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে অর্থ লেনদেনের চুক্তি হয়েছিল। শিক্ষার্থী টাকা না দেওয়ায় তাকে ফেল করানোর উদ্দেশ্যে ওএমআর শিট বদলে দেওয়া হয় বলে তিনি জানতে পেরেছেন।

পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে এ ধরনের অভিযোগকে পুরো ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে থাকা কিছু অসাধু ব্যক্তি সুযোগ নিয়ে অনিয়ম করছেন। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে জবাবদিহির আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।