TPV — the People view
ব্রেকিং
নতুন ব্রেকিং নিউজ লোড হচ্ছে...
বাংলাদেশ

রংপুরে ভুয়া নিবন্ধন সনদে ১২ বছরের বেশি চাকরি, তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ।

রিপোর্টার: Admin•Rangpur, Bangladesh•
রংপুরে ভুয়া নিবন্ধন সনদে ১২ বছরের বেশি চাকরি, তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ।

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার চাঁন্দের বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ে জাল শিক্ষক নিবন্ধন সনদ ব্যবহার করে এক যুগের বেশি সময় ধরে চাকরি ও সরকারি বেতন-ভাতা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে। জাতীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) যাচাইয়ে তাঁদের সনদ সঠিক নয় বলে শনাক্ত হলেও দীর্ঘদিনেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

অভিযুক্ত তিন শিক্ষক হলেন মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, শফিকুল্লাহ সরকার ও আফরুজা খাতুন। পীরগঞ্জ উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ ও এমপিওভুক্তি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ প্রথম সামনে আসে ২০১২ সালে। ওই সময় বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আকতার মহসিনা লিখিত অভিযোগ করেন। পরে এনটিআরসিএর তৎকালীন উপপরিচালক দীনা পারভিন পৃথক দুটি চিঠিতে তিন শিক্ষকের নিবন্ধন সনদ সঠিক নয় বলে উল্লেখ করেন এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে সেই নির্দেশ কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

দীর্ঘ সময় পর বিষয়টি নিয়ে আবার আলোচনা শুরু হলে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এনায়েত হোসেন প্রধান শিক্ষকসহ চারজনকে প্রয়োজনীয় মূল নথিপত্রসহ তাঁর কার্যালয়ে হাজির হতে বলেন। ২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর এবং ২০২৫ সালের ৭ আগস্ট—দুই দফায় তলব করা হলেও তাঁরা উপস্থিত হননি। পরে চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নিজেই বিদ্যালয়ে গিয়ে তদন্ত করেন। সে সময় অভিযুক্ত শিক্ষকেরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারেননি বলে জানা গেছে।

প্রধান শিক্ষকের নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন

তদন্তের মধ্যে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজার রহমানের নিয়োগ ও পদোন্নতি নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। তিনি রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী সভাপতি সাইদুর রহমান দুলাল চৌধুরীর জামাতা।

অভিযোগ রয়েছে, সরকার নিষিদ্ধ ঘোষিত দারুল এহসান থেকে অর্জিত বিএড সনদের ভিত্তিতে ২০১১ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান মোস্তাফিজার রহমান। পরে ২০১৮ সালে সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং ২০২৩ সালে প্রধান শিক্ষক পদে দায়িত্ব নেন তিনি। নিয়োগ ও এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়ায় অর্থ লেনদেনের অভিযোগও তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের চূড়ান্ত ফল এখনো জানা যায়নি।

অভিযোগ অস্বীকার সংশ্লিষ্টদের

প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজার রহমান দাবি করেছেন, তাঁর সব কাগজপত্র সঠিক। সাবেক সভাপতি সাইদুর রহমান দুলাল চৌধুরীর বক্তব্য, বিধি মেনেই নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। অন্যদিকে অভিযুক্ত তিন সহকারী শিক্ষক জানিয়েছেন, তাঁদের প্রয়োজনীয় নথিপত্র জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

পীরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রহমান বলেছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এনায়েত হোসেনও জানিয়েছেন, তদন্ত চলছে এবং অভিযোগগুলো যাচাই করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাঁরা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত শেষ করে অভিযোগের সত্যতা অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।