প্লাস্টিক দূষণ কমাতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা। ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোররা ১০০ গ্রাম ব্যবহৃত প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিয়ে পাচ্ছে ৭০ টাকা মূল্যের প্রবেশ টিকিট। গত ১ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে প্রায় দুই মাসে অংশ নিয়েছে চার শতাধিক শিশু-কিশোর।
উদ্যোগটির লক্ষ্য শুধু চিড়িয়াখানায় প্রবেশের সুযোগ দেওয়া নয়, বরং শিশুদের মধ্যে পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ববোধ তৈরি করা। পাড়ার রাস্তা, স্কুলের মাঠসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে প্লাস্টিক সংগ্রহ করে জমা দিচ্ছে তারা।
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাইমুল হক জানায়, শুরুতে বন্ধুদের সঙ্গে বিনা মূল্যে চিড়িয়াখানায় ঢোকার সুযোগ হিসেবেই বিষয়টি দেখেছিল সে। কিন্তু বিভিন্ন জায়গা থেকে বোতল ও প্লাস্টিক সংগ্রহ করতে গিয়ে শহরে ছড়িয়ে থাকা বর্জ্যের পরিমাণ সম্পর্কে নতুন উপলব্ধি হয়েছে তার।
আরেক শিক্ষার্থী বিপ্লব দাস জানায়, এ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর প্লাস্টিকের বোতল বা প্যাকেট যেখানে-সেখানে ফেলে দেওয়ার আগে এখন সে দুবার ভাবে। সংগৃহীত বর্জ্য পুনর্ব্যবহার করা হবে—এ বিষয়টিও তাকে উৎসাহিত করছে।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, প্লাস্টিক কুড়িয়ে তা নিজের হাতে চিড়িয়াখানায় নিয়ে আসার অভিজ্ঞতা শিশুদের দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সরাসরি বুঝতে সাহায্য করছে। ছোটবেলা থেকেই পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তুলতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারে নতুন চুক্তি
কর্মসূচির মাধ্যমে প্লাস্টিক সংগ্রহ বাড়লেও জমা হওয়া বর্জ্য কোথায় যাবে, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। চিড়িয়াখানার কিউরেটর ড. শাহাদাত হোসেন শুভ জানান, সংগ্রহ করা প্লাস্টিক শেষ পর্যন্ত যদি আবার ল্যান্ডফিল বা প্রকৃতিতে ফেলা হয়, তাহলে দূষণ কমানোর উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে।
এ সমস্যা সমাধানে সোমবার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন—ইপসার ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট এন্টারপ্রাইজের মধ্যে এক বছরের জন্য সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, ইপসা চিড়িয়াখানার প্রবেশপথে জমা হওয়া প্লাস্টিক নিয়মিত সংগ্রহ করবে। পরে বর্জ্যগুলো বাছাই করে পরিবেশবান্ধব উপায়ে পুনর্ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হবে। এ চুক্তিতে কোনো আর্থিক লেনদেনের শর্ত রাখা হয়নি।
জেলা প্রশাসক জানান, উদ্যোগটি নিয়ে ইতিমধ্যে বিভিন্ন এলাকার মানুষের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অনেকে নিজেদের এলাকায় একই ধরনের প্লাস্টিক সংগ্রহ কর্মসূচি চালুর বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করছেন।
তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, বাংলাদেশের সীমিত রিসাইক্লিং অবকাঠামো এ ধরনের উদ্যোগের সম্প্রসারণে বড় চ্যালেঞ্জ। জেলা প্রশাসকের মতে, রাতারাতি প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করা সম্ভব না হলেও সঠিক সংগ্রহ, পুনর্ব্যবহার ও নিরাপদ অপসারণ নিশ্চিত করা জরুরি। দীর্ঘমেয়াদে এ উদ্যোগ প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও বড় পরিসরে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে।
তথ্যসূত্র: দ্য ডেইলি স্টার




