TPV — the People view
ব্রেকিং
নতুন ব্রেকিং নিউজ লোড হচ্ছে...
রাজনীতি

ছাত্রদল কর্মী শাকিল হত্যা মামলায় এমপি আবদুল আজিজের ছেলে মিন্টুকে বহিষ্কার করল যুবদল।

রিপোর্টার: Admin•Bangladesh•
ছাত্রদল কর্মী শাকিল হত্যা মামলায় এমপি আবদুল আজিজের ছেলে মিন্টুকে বহিষ্কার করল যুবদল।

নাটোরের গুরুদাসপুরে পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার নুরুজ্জামান মিন্টুকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় যুবদল। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, গুরুদাসপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মিন্টু সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের ছেলে।

কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের একজন সহযোদ্ধার প্রাণহানির মতো গুরুতর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মিন্টুর প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব সাংগঠনিক পদ বাতিল করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বহিষ্কৃত ব্যক্তির কোনো অপকর্মের দায় সংগঠন নেবে না। যুবদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে তাঁর সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

গত ১৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে গুরুদাসপুর পৌর শহরের চাঁচকৈড় বাজারপাড়া এলাকায় হামলার শিকার হন শাকিল ইসলাম (৩২)। হেলমেট পরা কয়েকজন সশস্ত্র ব্যক্তি তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় ১৯ অক্টোবর শাকিলের বাবা রবিউল মিস্ত্রি গুরুদাসপুর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। সোমবার রাত ১০টার দিকে গুরুদাসপুর বাজারের একটি ভাড়া বাসা থেকে মিন্টুকে আটক করে পুলিশ। পরদিন তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাঁর ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

শাকিলের বাবা রবিউল মিস্ত্রির অভিযোগ, তাঁর ছেলেকে কুপিয়ে আহত করার পর মামলার এজাহারে আমেরিকাপ্রবাসী রাসেলের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের নির্দেশে পরে সেই নাম বাদ দেওয়া হয়। মিন্টু গ্রেপ্তার হলেও এ ঘটনায় আর কাউকে আটক করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ধারণা, শাকিল হত্যায় মিন্টুর পাশাপাশি রাসেলও জড়িত। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে রাসেলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শাকিলের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় গুরুদাসপুরে তাঁর গ্রামের বাড়িতে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে পৌর শহরের বিলচলন শহীদ শামসুজ্জোহা কলেজ মাঠে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় নেতাকর্মীসহ কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন।

জানাজায় সংসদ সদস্য আবদুল আজিজ নিহত শাকিলের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর পরিবারকে ২০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দেন। তবে বক্তব্যের একপর্যায়ে উপস্থিত লোকজনকে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে শোনা যায়।

জানাজা শেষে রাত ১১টার দিকে মুসল্লিদের একটি অংশ মিছিল নিয়ে চাঁচকৈড় বাজারে যায়। সেখানে আমেরিকাপ্রবাসী রাসেলের ‘রাস আরবান স্টাইল’ নামের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, এ সময় দোকান থেকে মালামাল নিয়ে যেতে দেখা যায় কয়েকজনকে।

নিহত শাকিল গুরুদাসপুর পৌরসভার খামারনাচকৈড় খোয়ারপাড়া মহল্লার বাসিন্দা রবিউল মিস্ত্রির ছেলে।

ছেলের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে সংসদ সদস্য আবদুল আজিজ বলেন, হত্যাকাণ্ডে তাঁর সন্তান জড়িত থাকলেও তাঁকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান জানান, রাসেলের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় এখনো কেউ থানায় মামলা করেননি। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।