ইউক্রেন পুনর্গঠনে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের আন্তর্জাতিক 'গ্রিন মার্শাল প্ল্যান' চূড়ান্ত: আধুনিক ইউরোপের মডেল অবকাঠামো গড়ার অঙ্গীকার
বিধ্বস্ত ইউক্রেনকে একটি আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানসম্পন্ন সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে রূপান্তর করতে বিশ্বব্যাংক, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জি-সেভেন এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়ে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের ঐতিহাসিক 'গ্রিন মার্শাল প্ল্যান' চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়েছে। লন্ডনে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক দাতা ও বিনিয়োগ সম্মেলনে প্রায় ৫০টিরও বেশি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান এবং বহুজাতিক করপোরেট নির্বাহীরা এই পুনর্গঠন সনদে স্বাক্ষর করেন। এই তহবিলের মাধ্যমে যুদ্ধবিধ্বস্ত শহর, বিদ্যুৎ গ্রিড, পরিবহন অবকাঠামো এবং শিল্পাঞ্চলগুলোকে একবিংশ শতাব্দীর সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে গড়ে তোলা হবে।
গৃহীত মহাপরিকল্পনার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো 'বিল্ড ব্যাক বেটার অ্যান্ড গ্রিনার' দর্শন। অর্থাৎ ক্ষতিগ্রস্ত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং পুরোনো সোভিয়েত আমলের ভারী শিল্প কারখানাগুলোকে সম্পূর্ণ প্রতিস্থাপন করে সেখানে আধুনিক অফশোর উইন্ড পার্ক, হাইড্রোজেন উৎপাদন কেন্দ্র এবং বিশ্বের সর্বাধুনিক জিরো-কার্বন ইস্পাত কারখানা স্থাপন করা হবে। ইউক্রেনের উর্বর কৃষিজমিকে পুনরায় চাষযোগ্য করতে বিশেষায়িত রোবোটিক মাইন অপসারণ দল এবং ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুততার সাথে কাজ শুরু করা হচ্ছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সম্মেলনে উপস্থিত বিশ্ব নেতাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, 'এই পুনর্গঠন পরিকল্পনা কেবল ইট-পাথরের ভবন নির্মাণ নয়; এটি ইউরোপের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও মানবজাতির আত্মমর্যাদার প্রতীক। আমরা দেশকে এমনভাবে গড়ে তুলব যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টেকসই অর্থনীতি ও পরিবেশ সুরক্ষার এক অনন্য বৈশ্বিক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।' সম্মেলনে জানানো হয়, পুনর্গঠন তহবিলের অর্থ ব্যয়ে কোনো প্রকার দুর্নীতি যাতে না হয়, সেজন্য একটি আন্তর্জাতিক স্বাধীন মনিটরিং বোর্ড সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখবে।
বেসরকারি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে বিশেষ ইনভেস্টমেন্ট গ্যারান্টি তহবিল এবং যুদ্ধ-ঝুঁকি বিমা স্কিম চালু করা হয়েছে। সিমেন্স, জেনারেল ইলেকট্রিক, হোলসিম এবং বিশ্বের শীর্ষ নির্মাণ ও প্রকৌশল কোম্পানিগুলো ইউক্রেনে আধুনিক হাই-স্পিড রেল সংযোগ, স্মার্ট গ্রিড এবং ভূমিকম্প ও বিস্ফোরণ-সহনশীল আধুনিক আবাসন নির্মাণে কাজ শুরু করতে প্রাথমিক চুক্তি সম্পন্ন করেছে। এতে লাখ লাখ বাস্তুচ্যুত নাগরিকের দেশে ফিরে আসা এবং নতুন কর্মসংস্থান লাভ নিশ্চিত হবে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই গ্রিন মার্শাল প্ল্যান দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী ইউরোপ পুনর্গঠনের ঐতিহাসিক মার্শাল প্ল্যানের সমকক্ষ এক যুগান্তকারী উদ্যোগ। ইউরোপের পূর্ব সীমান্তে একটি শক্তিশালী, গণতান্ত্রিক ও সবুজ ইউক্রেনের আত্মপ্রকাশ সমগ্র ইউরোপীয় মহাদেশের দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে চিরতরে সুসংহত করবে।


