সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে ঐতিহাসিক বিপ্লব: বৈশ্বিক কনসোর্টিয়াম উদ্ভাবন করল আলো নির্ভর ফোটোনিক মাইক্রোচিপ
সিলিকন ইলেকট্রনিক চিপের প্রচলিত সীমাবদ্ধতা ভেঙে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলগুলোর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচের বৈশ্বিক সংকট সমাধানে সেমিকন্ডাক্টর প্রকৌশলের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ উদ্ভাবন সম্পন্ন করেছে একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা কনসোর্টিয়াম। যুক্তরাষ্ট্র, তাইওয়ান, জার্মানি ও জাপানের শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানী ও ন্যানোটেকনোলজি ল্যাবগুলোর সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে 'সিলিকন ফোটোনিক সুপারচিপ'। তামার ক্ষুদ্র তারের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহের পরিবর্তে এই নতুন চিপে আলোর কণা বা ফোটনের মাধ্যমে সেকেন্ডে ট্রিলিয়ন বিট ডেটা আদান-প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে।
টোকিও ও মিউনিখে একযোগে আয়োজিত আন্তর্জাতিক টেকনোলজি সিম্পোজিয়ামে গবেষক দল এই যুগান্তকারী চিপটির কার্যকারিতা প্রকাশ্যে প্রদর্শন করেন। পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, প্রচলিত শীর্ষস্থানীয় এআই গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিটের (জিপিইউ) তুলনায় এই ফোটোনিক চিপ প্রায় ৩০ গুণ দ্রুত কম্পিউটেশনাল গতি অর্জন করেছে। সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য হলো, এই অতি উচ্চগতির প্রক্রিয়াকরণে তাপ উৎপাদন প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে এবং বিদ্যুৎ খরচের পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে বিস্ময়কর ৯০ শতাংশ।
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ক্লাউড ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো—যেমন এনভিডিয়া, টিএসএমসি, ইন্টেল ও স্যামসাং—এই বৈপ্লবিক প্রযুক্তির ব্যাপক বাণিজ্যিক উৎপাদনের জন্য বিলিয়ন ডলারের যৌথ বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও জেনারেটিভ মডেলগুলোর ব্যাপক ব্যবহারের কারণে বিশ্বের ডেটা সেন্টারগুলোতে যে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ও পানির অপচয় হচ্ছিল, ফোটোনিক চিপের ব্যবহার সেই পরিবেশগত চাপকে সম্পূর্ণ দূর করবে। এটি ডেটা সেন্টারগুলোকে সম্পূর্ণ কার্বন-নিরপেক্ষ করতে সহায়তা করবে।
চিকিৎসাবিজ্ঞান, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এবং মহাকাশ গবেষণায় এই চিপের ব্যবহার সম্পূর্ণ নতুন যুগের সূচনা করবে। চিকিৎসকরা বলছেন, ফোটোনিক চিপের সাহায্যে কোটি কোটি মানুষের জিনোমিক সিকোয়েন্সিং মাত্র কয়েক মিনিটে সম্পন্ন করা যাবে, যা ক্যান্সারের মতো প্রাণঘাতী রোগের জন্য তাৎক্ষণিক ব্যক্তিগতকৃত ওষুধ আবিষ্কারে ঐতিহাসিক অবদান রাখবে। এছাড়া স্বয়ংক্রিয় চালকবিহীন যানবাহনগুলোতে এই চিপ স্থাপন করলে তাৎক্ষণিক মাইক্রোসেকেন্ডে প্রতিবন্ধকতা শনাক্ত করে দুর্ঘটনা শতভাগ এড়ানো সম্ভব হবে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা অভিমত দিয়েছেন, বিংশ শতাব্দীতে ট্রানজিস্টর আবিষ্কার যেমন বিশ্বকে অ্যানালগ থেকে ডিজিটাল যুগে নিয়ে এসেছিল, ফোটোনিক চিপের এই সাফল্য মানবসভ্যতাকে ডিজিটাল থেকে লাইট-স্পিড কম্পিউটিং বা আলোক-গতির যুগে প্রবেশ করাল। আগামী এক দশকের মধ্যে পৃথিবীর প্রতিটি স্মার্ট ডিভাইস ও সুপারকম্পিউটারে এই আলোর চিপ আধিপত্য বিস্তার করবে, যা মানবজাতির বুদ্ধিবৃত্তিক অগ্রযাত্রাকে অকল্পনীয় গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাবে।


