রংপুরের তিস্তা সৌরবিদ্যুৎ পার্ক থেকে জাতীয় গ্রিডে ২০০ মেগাওয়াট পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ: আলোকিত হচ্ছে উত্তরবঙ্গ
উত্তরবঙ্গের চরাঞ্চলে অনাবাদি পতিত জমিকে পরিবেশবান্ধব সবুজ শক্তিতে রূপান্তরিত করে দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সর্ববৃহৎ একক কেন্দ্র 'তিস্তা সৌরবিদ্যুৎ পার্ক' থেকে জাতীয় গ্রিডে সফলভাবে পূর্ণাঙ্গ ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ ও রংপুরের কাউনিয়া সীমান্তে তিস্তা নদীর অববাহিকায় সুবিশাল চরে স্থাপিত এই প্রকল্পটির মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের বিদ্যুৎ সংকট ও দীর্ঘদিনের লো-ভোল্টেজ সমস্যার স্থায়ী ও যুগান্তকারী সমাধান নিশ্চিত হলো।
প্রকল্পটিতে স্থাপন করা হয়েছে প্রায় ৫ লাখ অত্যাধুনিক মনোক্রিস্টালাইন ফটোভোলটাইক সোলার প্যানেল, যা মেঘলা আবহাওয়াতেও উচ্চ দক্ষতায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম। বিশাল এই প্ল্যান্টের উৎপাদিত বিদ্যুৎ সুউচ্চ টাওয়ার ও আধুনিক আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবলের মাধ্যমে সরাসরি রংপুর ও সৈয়দপুরের প্রধান সাবস্টেশনগুলোতে যুক্ত হচ্ছে। এর ফলে রংপুর বিভাগের ৮টি জেলার লাখ লাখ পরিবার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এখন নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সেবা ভোগ করছেন।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পাওয়ার সেলের প্রকৌশলীরা জানান, উত্তরবঙ্গে পূর্বে পিক-আওয়ারে ভোল্টেজ ড্রপ করে শিল্প কারখানা ও গভীর নলকূপ সেচ পাম্প চালানো কষ্টকর হয়ে পড়ত। তিস্তা সোলার পার্কের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত হওয়ায় কৃষিপ্রধান উত্তরবঙ্গের বোরো সেচ মৌসুমে কৃষকদের সেচকাজ নির্বিঘ্নে পরিচালিত হচ্ছে, যা ধান ও রবি শস্যের বাম্পার উৎপাদনে সরাসরি অবদান রাখছে।
প্রকল্পটি স্থানীয় অর্থনীতি ও চরাঞ্চলের জীবনমানে অভূতপূর্ব রূপান্তর এনে দিয়েছে। পূর্বে যেখানে তিস্তার চরে কেবল বালু আর ধুধু প্রান্তর ছিল, সেখানে আজ আধুনিক বিদ্যুৎ অবকাঠামো, পাকা রাস্তাঘাট ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সোলার প্যানেলের পরিচ্ছন্নতা রক্ষা ও নিরাপত্তার কাজে স্থানীয় শত শত তরুণদের চাকরি দেওয়া হয়েছে, যা তাদের জীবনে স্থায়ী আর্থিক সচ্ছলতা নিয়ে এসেছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কয়লা ও ফার্নেস অয়েলের মতো জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তিস্তা সোলার পার্ক এক অনন্য মাইলফলক। বছরে হাজার হাজার টন কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ হ্রাস করে প্রকল্পটি দেশের পরিবেশ সুরক্ষায় এবং টেকসই উন্নয়নের আন্তর্জাতিক লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।

