রাজধানীর ভয়াবহ বায়ুদূষণ রোধে ১০ দফা জরুরি ক্র্যাশ প্রোগ্রাম: বায়ুমানের লক্ষণীয় উন্নতি
রাজধানী ঢাকার নাগরিকদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং জনবহুল মেগাসিটির বায়ুদূষণ সূচক (একিউআই) সহনশীল মাত্রায় নামিয়ে আনার লক্ষ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন যৌথভাবে ১০ দফা বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম জোরদার করেছে। শীত ও শুষ্ক মৌসুমের শুরুতে প্রতিবছর ধূলিকণা ও ধোঁয়ার বিপজ্জনক চাদরে ঢাকা পড়ে রাজধানী। এই চিরচেনা সংকট থেকে নগরবাসীকে মুক্তি দিতে এবার সমন্বিত ও বহু-সংস্থাগত এই অভিযান শুরু হয়েছে। অভিযানের আওতায় প্রতিদিন ভোর ও বিকেলে আধুনিক হাই-ক্যাপাসিটি ওয়াটার বোসার ও সুইপার ট্রাকের মাধ্যমে ভিআইপি ও সংযোগ সড়কগুলোতে পানি ছিটানো হচ্ছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের সেন্ট্রাল এয়ার কোয়ালিটি মনিটরিং স্টেশনের সর্বশেষ উপাত্ত অনুযায়ী, ক্র্যাশ প্রোগ্রাম শুরুর মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে ভাসমান সূক্ষ্ম বস্তুকণা পিএম ২.৫ এবং পিএম ১০ এর উপস্থিতি প্রায় ২৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বিশেষ করে সংসদ ভবন এলাকা, ধানমন্ডি, গুলশান ও মিরপুর করিডোরে বায়ুর মানে দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে। রাস্তার পাশের উন্মুক্ত নির্মাণাধীন ভবনগুলোতে কঠোরভাবে ডাস্ট-নেট ও নিরাপত্তা শেড স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং আইন অমান্যকারী একাধিক রিয়েল এস্টেট কোম্পানিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বায়ুদূষণের অন্যতম প্রধান উৎস রাজধানীর চারপাশের অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে কঠোর সাঁড়াশি অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। পরিবেশ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে বিষাক্ত কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী অর্ধশতাধিক ড্রাম চিমনি ও ফিক্সড চিমনি ইটভাটা সম্পূর্ণ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা মহানগরীতে চলাচলকারী মেয়াদোত্তীর্ণ, কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী গণপরিবহন ও ভারী ট্রাকের রুট পারমিট তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করছে বিআরটিএ-র যৌথ টাস্কফোর্স।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সরকারের এই তড়িৎ ও দৃশ্যমান পদক্ষেপকে আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানিয়েছেন। বাংলাদেশ বক্ষব্যাধি হাসপাতালের সিনিয়র চিকিৎসকরা জানান, শুষ্ক মৌসুমে প্রতিবছর শ্বাসকষ্ট, ব্রঙ্কাইটিস, হাঁপানি এবং শিশুদের নিউমোনিয়ার প্রকোপ মারাত্মক রূপ নেয়। বাতাসের মান উন্নত হওয়ায় হাসপাতালে এ বছর এ ধরনের রোগীর ভর্তির হার অতীতের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ কম লক্ষ্য করা গেছে। চিকিৎসকরা নিয়মিত মাস্ক ব্যবহারের পাশাপাশি নগরীর বনায়ন বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন।
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই কর্মসূচি কোনো সাময়িক অভিযান নয়; বরং পুরো বছরজুড়ে এটি প্রাতিষ্ঠানিক রুটিন হিসেবে চলবে। নগরীর প্রধান সড়কগুলোর মিডিয়ান ও ফুটপাতে দূষণ-শোষণকারী চিরসবুজ গাছপালা রোপণ এবং লেকগুলো সংস্কারের মেগা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নগরবাসীকে সচেতন করতে প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিউনিটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা ঢাকাকে একটি পরিবেশবান্ধব, পরিচ্ছন্ন ও আন্তর্জাতিক মানের বসবাসযোগ্য রাজধানীতে রূপান্তর করতে ভূমিকা রাখবে।
সম্পর্কিত সংবাদ

