জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান: আজীবন সম্মাননায় ভূষিত প্রবীণ কিংবদন্তিরা, তরুণ নির্মাতাদের জয়জয়কার
বাংলা চলচ্চিত্রের মেধা, সৃজনশীলতা ও অসামান্য অবদানের আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি হিসেবে আয়োজিত হলো জমকালো ও গৌরবোজ্জ্বল 'জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার' প্রদান অনুষ্ঠান। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের (বিআইসিসি) বর্ণাঢ্য মিলনায়তনে দেশের খ্যাতনামা চলচ্চিত্র নির্মাতা, প্রযোজক, অভিনয়শিল্পী, চিত্রগ্রাহক এবং সঙ্গীত পরিচালকদের উপস্থিতিতে এই মহতি উৎসব উদযাপিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের হাতে মর্যাদাপূর্ণ ট্রফি, সনদ ও আর্থিক পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আবেগঘন ও ঐতিহাসিক মুহূর্তটি ছিল যখন দেশের চলচ্চিত্রের দুই প্রবীণ ও দিকপাল অভিনয় কিংবদন্তিকে চলচ্চিত্রে আজীবন অনন্য অবদানের জন্য 'আজীবন সম্মাননা পুরস্কার' প্রদান করা হয়। পুরো মিলনায়তনের হাজার হাজার বিশিষ্ট অতিথি দাঁড়িয়ে করতালির মাধ্যমে এই বরেণ্য শিল্পীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে প্রবীণ অভিনেত্রী বলেন, 'জীবনের শেষপ্রান্তে এসে রাষ্ট্রের এই স্বীকৃতি আমার অভিনয় জীবনের সবচেয়ে বড় সার্থকতা। নতুন প্রজন্মের নির্মাতারা যেভাবে বাংলা সিনেমাকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যাচ্ছেন, তাতে আমি নিশ্চিত আমাদের চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল।'
এবারের পুরস্কারের সবচেয়ে বড় চমক ছিল মূলধারার গতানুগতিক সিনেমার বাইরে তরুণ ও স্বাধীন নির্মাতাদের নির্মিত বিকল্পধারার চলচ্চিত্রের নিরঙ্কুশ বিজয়। সেরা চলচ্চিত্র, সেরা পরিচালক, সেরা চিত্রনাট্য এবং সেরা চিত্রগ্রাহক—সবকটি শীর্ষ পুরস্কারই অর্জন করেছে সমকালীন বাস্তবমুখী ও সামাজিক জাগরণমূলক সিনেমাগুলো। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র এবং জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক শর্টফিল্মগুলোও বিচারকদের কাছ থেকে বিশেষ জুরি পুরস্কার লাভ করেছে।
পুরস্কার বিতরণী পর্ব শেষে দেশের শীর্ষস্থানীয় সঙ্গীত ও নৃত্যশিল্পীদের অংশগ্রহণে এক মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা পরিবেশিত হয়। বাংলা সিনেমার স্বর্ণযুগের কালজয়ী গানগুলোর আধুনিক অর্কেস্ট্রা পরিবেশনা এবং তরুণ নৃত্যশিল্পীদের দেশাত্মবোধক কোরিওগ্রাফি উপস্থিত দর্শকদের গভীরভাবে মুগ্ধ করে।
তথ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্তদের জন্য বিশেষ সরকারি পেনশন এবং চলচ্চিত্র সংরক্ষণাগারে তাদের সৃষ্টির মাস্টারকপি সংরক্ষণের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জুরিবোর্ডের প্রধান মন্তব্য করেন, মেধার এই সঠিক মূল্যায়ন দেশের তরুণ নির্মাতাদের বাণিজ্যিক লাভের পাশাপাশি বিশ্বমানের শিল্পসফল চলচ্চিত্র নির্মাণে আরও বেশি উৎসাহিত করবে, যা বাংলা সিনেমাকে বিশ্বদরবারে এক নতুন মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করবে।
