নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যার পাড় দখলমুক্ত করে ৬ কিমি দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে ও ইকোপার্ক: নগরবাসীর নতুন বিনোদন কেন্দ্র
প্রাচ্যের ডান্ডি খ্যাত শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জের বুক চিরে বয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক শীতলক্ষ্যা নদীর দুই তীর অবৈধ দখল ও আবর্জনার স্তূপ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত করে নির্মিত ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ আধুনিক দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে এবং আন্তর্জাতিক মানের ইকোপার্ক নগরবাসীর জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত এই মেগা প্রকল্পে নদীর পাড় ঘেঁষে সবুজ বৃক্ষরোপণ, আলোকোজ্জ্বল ওয়াকওয়ে, শিশুদের জন্য আধুনিক অ্যামিউজমেন্ট জোন এবং বসার নান্দনিক প্যাভিলিয়ন তৈরি করা হয়েছে।
উদ্বোধনী দিনে হাজার হাজার পরিবার তাদের শিশু-কিশোর ও বয়োজ্যেষ্ঠদের নিয়ে নদীর নির্মল বাতাসে পদচারণায় মেতে ওঠেন। দীর্ঘকাল ধরে নদীপাড়ের যেসব এলাকা অবৈধ কারখানা, বর্জ্যের ভাগাড় এবং মাদকসেবীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছিল, সেই স্থানগুলো আজ এক স্বপ্নীল বিনোদন কেন্দ্রে রূপ নিয়েছে। নদীর মৃদু বাতাস এবং চোখ জুড়ানো সবুজ পরিবেশের কারণে সকাল ও বিকেলে সব বয়সী স্বাস্থ্যসচেতন নাগরিকদের প্রাতঃভ্রমণ ও শরীরচর্চার প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে এই ওয়াকওয়ে।
নদীর পানি দূষণমুক্ত রাখতে বিআইডব্লিউটিএ এবং পরিবেশ অধিদপ্তর কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করেছে। নদীপাড়ে শিল্পকারখানাগুলোর অপরিশোধিত তরল বর্জ্য ফেলা পুরোপুরি বন্ধে সার্বক্ষণিক ড্রোন সার্ভিল্যান্স এবং অটোমেটেড সেন্সর ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। কোনো কারখানা রাতে গোপনে বর্জ্য নির্গমন করলে স্বয়ংক্রিয় অ্যালার্ম বেজে ওঠে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করে। কঠিন বর্জ্য ফেলারোধে পুরো ওয়াকওয়ে জুড়ে আধুনিক আন্ডারগ্রাউন্ড ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, নারায়ণগঞ্জ কেবল একটি শুষ্ক শিল্পাঞ্চল নয়; এর রয়েছে সমৃদ্ধ নদীমাতৃক ইতিহাস। নদীর তীর পুনর্গঠনের ফলে নগরবাসীর মানসিক স্বাস্থ্য ও জীবনমানে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। নদীপাড়ের নতুন রেস্তোরাঁ ও ক্যাফেগুলোতে স্বাস্থ্যকর খাবারের ব্যবস্থা থাকায় পর্যটন অর্থনীতিতেও প্রাণচাঞ্চল্য সঞ্চারিত হয়েছে।
সিটি মেয়র জানিয়েছেন, প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপে শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর আধুনিক পরিবেশবান্ধব ওয়াটার ট্যাক্সি সার্ভিস চালু করা হবে। এতে কাঁচপুর, মদনগঞ্জ এবং শীতলক্ষ্যার পশ্চিম পাড়ের যাত্রীরা মাত্র কয়েক মিনিটে কোনোপ্রকার যানজট ছাড়াই নদী পারাপার হতে পারবেন, যা নগরীর অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থাকে এক অনন্য আধুনিক উচ্চতায় পৌঁছে দেবে।

