ভারত মহাসাগরীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপদ নৌ-বাণিজ্য চুক্তি: জলদস্যু দমন ও সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র সুরক্ষায় যৌথ টাস্কফোর্স
বিশ্ব বাণিজ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লাইফলাইন হিসেবে খ্যাত ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগরীয় আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে এবং সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষায় ২০টিরও বেশি উপকূলীয় দেশ একটি সমন্বিত বহুজাতিক নৌ-নিরাপত্তা চুক্তি সম্পাদন করেছে। সিঙ্গাপুরে আয়োজিত আন্তর্জাতিক মেরিটাইম সিকিউরিটি ফোরামে ভারত, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো এই ঐতিহাসিক 'ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌ-সহযোগিতা সনদে' স্বাক্ষর করেছে।
চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রধান জাহাজ চলাচলকারী চ্যানেলগুলোতে জলদস্যুতা, অবৈধ সশস্ত্র ডাকাতি এবং আন্তর্জাতিক মানব ও মাদক চোরাচালান সম্পূর্ণ নির্মূল করা। এর অংশ হিসেবে সদস্য দেশগুলোর নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের আধুনিক পেট্রোল ফ্রিগেটগুলোর সমন্বয়ে একটি বিশেষায়িত 'যৌথ সামুদ্রিক নিরাপত্তা স্কোয়াড্রন' গঠন করা হয়েছে। স্যাটেলাইট ট্র্যাকিং, সমুদ্রগামী ড্রোন এবং রিয়েল-টাইম অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেমের (এআইএস) মাধ্যমে যেকোনো সন্দেহভাজন নৌযানের গতিবিধি সার্বক্ষণিক যৌথ কমান্ড সেন্টার থেকে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
নিরাপত্তার পাশাপাশি সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ সুরক্ষা এই চুক্তিতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার লাভ করেছে। বঙ্গোপসাগর ও মালাক্কা প্রণালীতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর বিষাক্ত বিলজ ওয়াটার বা তেল মিশ্রিত বর্জ্য সমুদ্রে ফেলা পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইন অমান্যকারী যে কোনো পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) কঠোর আইনে ভারী আর্থিক জরিমানা ও সমুদ্রপথে চলাচলে স্থগিতাদেশ জারির বিধান কার্যকর করা হয়েছে।
বাণিজ্যিক শিপিং সংস্থাগুলো এই চুক্তিকে অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক শিপিং চেম্বারের কর্মকর্তারা জানান, সমুদ্রপথে নিরাপত্তা সুদৃঢ় হওয়ায় যুদ্ধ-ঝুঁকি প্রিমিয়াম ও সামুদ্রিক বিমার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। এতে এশিয়া থেকে ইউরোপ ও আমেরিকায় পণ্য পরিবহনের সামগ্রিক কন্টেইনার ফ্রেইট রেট সহনশীল মাত্রায় নেমে আসবে, যা বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি কমাতে ইতিবাচক অবদান রাখবে।
বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে নৌবাহিনীর সিনিয়র কমডোর সম্মেলনে জোর দিয়ে বলেন, বঙ্গোপসাগর কেবল বাংলাদেশের নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়; এটি সমগ্র দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সেতু। যৌথ এই নৌ-সহযোগিতা বাংলাদেশের ব্লু ইকোনমির গভীর সমুদ্র মৎস্য আহরণ এবং অফশোর তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে এক অপ্রতিরোধ্য আন্তর্জাতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।


