অ্যানিমেশন ও ভিএফএক্সে বাংলাদেশের তরুণদের বিশ্বজয়: হলিউড ও আন্তর্জাতিক ওটিটির ব্লকব্লাস্টার মুভিতে দেশীয় স্টুডিওর গ্রাফিক্স
প্রযুক্তির সাথে সৃজনশীলতার অনন্য মেলবন্ধন ঘটিয়ে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র ও গেমিং জগতে নিজেদের মেধার অসামান্য স্বাক্ষর রাখছে বাংলাদেশের অ্যানিমেশন ও ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস (ভিএফএক্স) স্টুডিওগুলো। হলিউডের শীর্ষস্থানীয় সায়েন্স ফিকশন সিনেমা, নেটফ্লিক্স ও অ্যামাজন প্রাইমের বিশ্বনন্দিত বিগ-বাজেট ওয়েব সিরিজ এবং জাপানি অ্যানিমে ভিডিও গেমসে এখন নিয়মিত ব্যবহার করা হচ্ছে রাজধানী ঢাকার স্টুডিওগুলোতে প্রস্তুতকৃত অত্যাধুনিক থ্রি-ডি অ্যানিমেশন, সিজিআই ক্যারেক্টার মডেলিং এবং জটিল ভিএফএক্স সিমুলেশন।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) এবং একাধিক আন্তর্জাতিক অ্যানিমেশন প্রযোজক সংস্থা জানিয়েছে, দেশের প্রায় ত্রিশটিরও বেশি ডেডিকেটেড অ্যানিমেশন ও সিজিআই স্টুডিওতে বর্তমানে প্রায় পাঁচ হাজার অত্যন্ত দক্ষ ডিজিটাল আর্টিস্ট কাজ করছেন। ফটো-রিয়ালিস্টিক ওয়াটার সিমুলেশন, ডাইনামিক এক্সপ্লোশন ইফেক্টস, ডিজিটাল ফেসিয়াল ক্যাপচার এবং ভার্চুয়াল প্রোডাকশন ব্যাকগ্রাউন্ড নির্মাণে বাংলাদেশি শিল্পীদের কাজের নিখুঁত মান দেখে মুগ্ধ হয়েছেন হলিউডের সুপারভাইজাররা।
সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া একাধিক হলিউড সুপারহিরো ফ্র্যাঞ্চাইজি সিনেমার সমাপনী ক্রেডিট লাইনে বাংলাদেশি একাধিক তরুণ ভিএফএক্স আর্টিস্টের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদর্শিত হওয়ায় দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে অভূতপূর্ব আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি তৈরি হয়েছে। দেশীয় স্টুডিওগুলোর প্রধান নির্বাহীরা জানান, পূর্বে যেখানে আন্তর্জাতিক প্রোডাকশন হাউসগুলো অ্যানিমেশনের আউটসোর্সিং কাজের জন্য কেবল ভারত বা ফিলিপাইনে যেত, এখন সৃজনশীল দক্ষতা ও সময়ানুবর্তিতার কারণে ঢাকা হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক অ্যানিমেশনের এক অন্যতম প্রধান পছন্দের কেন্দ্র।
আইসিটি বিভাগ এবং হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় দেশের চারটি বিভাগীয় শহরে আধুনিক হাই-কনফিগারেশন রেন্ডার ফার্ম এবং মোশন ক্যাপচার স্টুডিও স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে দেশীয় অ্যানিমেটরদের আর বিদেশি ক্লাউড রেন্ডারিংয়ের জন্য অতিরিক্ত ডলার ব্যয় করতে হচ্ছে না। সম্পূর্ণ দেশীয় সুবিধাতেই জটিল ফ্রেমগুলো কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে রেন্ডার করা সম্ভব হচ্ছে, যা কাজের গতি ও মুনাফার মার্জিন বহুলাংশে বৃদ্ধি করেছে।
অর্থনীতিবিদ ও প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, অ্যানিমেশন ও গেমিং বিশ্বজুড়ে এক মাল্টি-বিলিয়ন ডলারের ক্রমবর্ধমান শিল্প। তরুণ প্রজন্মের এই অসাধারণ সৃজনশীল দক্ষতাকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও সরকারি প্রণোদনার মাধ্যমে আরো বিকশিত করা গেলে বাংলাদেশ খুব শীঘ্রই বৈশ্বিক অ্যানিমেশন ও গেমিং আউটসোর্সিং বাণিজ্যের অন্যতম শীর্ষ গন্তব্যে পরিণত হবে, যা কোটি কোটি ডলারের মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে নেতৃত্ব দেবে।
