দেশের কৃষি, জ্বালানি ও খাদ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থার চাহিদা মেটাতে নতুন করে সার, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং পাটের বস্তা কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এর মধ্যে কানাডা ও রাশিয়া থেকে মোট দেড় লাখ মেট্রিক টন এমওপি সার, কাতার থেকে এক কার্গো এলএনজি এবং খাদ্য অধিদপ্তরের জন্য এক কোটি পাটের বস্তা কেনা হবে।
বুধবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল সভায় এসব প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। বৈঠক শেষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে উপস্থাপিত চারটি প্রস্তাবেই ছিল মিউরেট অব পটাশ বা এমওপি সার আমদানির বিষয়। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) এসব সার সংগ্রহ করবে। কানাডা থেকে সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) পদ্ধতিতে দুই চালানে ৮০ হাজার টন সার কেনা হবে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৭৭ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।
অন্যদিকে, রাশিয়া থেকে নবম ও দশম লটে ৩৫ হাজার টন করে মোট ৭০ হাজার টন এমওপি সার আমদানি করা হবে। প্রথম লটের জন্য ব্যয় হবে ১৬৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা এবং দ্বিতীয়টির জন্য ১৬৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। উভয় চালানের সুপারিশকৃত দরদাতা রাশিয়ার প্রতিষ্ঠান জেএসসি ‘ফরেন ইকোনমিক করপোরেশন (প্রোডিনটর্গ)’।
কাতার থেকে বাড়তি এলএনজি কার্গো
জ্বালানি চাহিদা পূরণে কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসির কাছ থেকে আরও এক কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাবও অনুমোদন পেয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি জিটুজি চুক্তির আওতায় চুক্তিতে উল্লেখিত মূল্যের পরিবর্তে নির্ধারিত অন্য মূল্যে এই গ্যাস কেনা হবে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী ২৩ ডিসেম্বর ২০২৬ কাতার থেকে কার্গোটি আমদানি করা হবে। প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) এলএনজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে জেকেএম সূচকের চেয়ে শূন্য দশমিক ১০ ডলার কম।
এদিকে খাদ্য অধিদপ্তরের জন্য এক কোটি পাটের বস্তা কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ই-জিপি ব্যবস্থার মাধ্যমে ৫০টি প্যাকেজে এসব বস্তা কেনা হবে। প্রতিটি বস্তার ধারণক্ষমতা হবে ৩০ কেজি।
বস্তা কেনার মূল চুক্তিমূল্য ধরা হয়েছে ৬৪ কোটি ৮১ লাখ টাকা। মোট ৫০টি প্যাকেজের বিপরীতে ১৩টি প্রতিষ্ঠানকে সুপারিশকৃত দরদাতা হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে।




