TPV — the People view
ব্রেকিং
নতুন ব্রেকিং নিউজ লোড হচ্ছে...
রাজনীতি

ব্রাজিলে চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন লুলা, ফল প্রত্যাখ্যান বলসোনারোর।

রিপোর্টার: Admin•Brazil•
ব্রাজিলে চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন লুলা, ফল প্রত্যাখ্যান বলসোনারোর।

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর জয় পেয়েছেন বামপন্থী নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। রান-অফ ভোটে ডানপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারোকে হারিয়ে আবারও দেশটির রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরছেন তিনি। তবে ফলাফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন পরাজিত প্রার্থী বলসোনারো। নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি পুরো ভোটপ্রক্রিয়া বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।

রোববার প্রকাশিত প্রাথমিক ফলাফলে লুলার জয়ের খবর সামনে আসে। এর মধ্য দিয়ে চতুর্থবারের মতো নির্বাচনী সাফল্য পেলেন এই প্রবীণ রাজনীতিক। এর আগে ২০০৩ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট ছিলেন তিনি। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আবারও ক্ষমতায় ফেরেন লুলা। নতুন মেয়াদ শুরু হওয়ার কথা ২০২৭ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে।

তবে এবারের জয় সহজে আসেনি। ৪ অক্টোবরের প্রথম দফার ভোটে বলসোনারো এগিয়ে থাকায় দ্বিতীয় দফার লড়াই নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে প্রচারণা জোরদার করেন লুলা। দেশজুড়ে সমর্থকদের সক্রিয়তা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা তাঁর নির্বাচনী লড়াইয়ে নতুন গতি আনে।

লুলার এই জয় লাতিন আমেরিকার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রবণতার মধ্যেও তাৎপর্যপূর্ণ। এ অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশে রক্ষণশীল রাজনীতির উত্থানের মধ্যে ব্রাজিলে বামপন্থী নেতার বিজয় নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করেছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতি এবং বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদের অধিকারী দেশটির নীতি এখন আঞ্চলিক রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক হবে বড় পরীক্ষা

নতুন মেয়াদে লুলার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন লাতিন আমেরিকায় নিজেদের প্রভাব ধরে রাখা, বাণিজ্য ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানো এবং এ অঞ্চলে চীনের প্রভাব সীমিত করার বিষয়ে আগ্রহী। অন্যদিকে, লুলার সরকার চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে।

নির্বাচনী প্রচারণায় বলসোনারো ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। বিপরীতে, লুলা ব্রাজিলের নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে সতর্ক অবস্থান নেন। ফলে তাঁর নতুন মেয়াদে দুই দেশের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক কোন পথে এগোয়, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

লুলার জয়ে পরিবেশবাদীদের মধ্যেও স্বস্তি দেখা গেছে। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, বলসোনারো ক্ষমতায় এলে কৃষি ও খনি খাতের প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের কর্তৃত্ব আরও বাড়তে পারে। ব্রাজিলের বনাঞ্চল ও পরিবেশ সংরক্ষণে নতুন সরকারের নীতি তাই আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের বিষয় হবে।

বিভক্ত দেশ, কঠিন সংসদীয় সমীকরণ

নির্বাচনে জয় পেলেও লুলার সামনে বড় অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ভোটের ফলাফল দেখিয়েছে, ব্রাজিলের জনগণ রাজনৈতিকভাবে গভীরভাবে বিভক্ত। বলসোনারোর পক্ষে ভোট দিয়েছেন প্রায় ৪৮ শতাংশের বেশি ভোটার। ফলে বিরোধী শিবিরের উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন উপেক্ষা করে সরকার পরিচালনা করা লুলার জন্য কঠিন হবে।

সংসদেও শক্তিশালী ডানপন্থী বিরোধিতার মুখে পড়তে পারেন তিনি। নির্বাচনে বলসোনারোর লিবারেল পার্টি সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে অর্থনীতি, সামাজিক নীতি ও পরিবেশসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিজের কর্মসূচি বাস্তবায়নে লুলাকে সংসদীয় সমর্থন নিশ্চিত করতে হবে।

লুলা নির্বাচনী প্রচারণায় বিভেদ কাটিয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও সুযোগসমৃদ্ধ ব্রাজিল গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। দেশকে নতুন পথে এগিয়ে নেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি। কিন্তু বিরোধীদের সঙ্গে সমঝোতা তৈরি এবং নির্বাচনের পর তৈরি হওয়া রাজনৈতিক উত্তেজনা সামাল দেওয়াই হবে তাঁর সরকারের প্রাথমিক পরীক্ষাগুলোর একটি।

ফল প্রত্যাখ্যান বলসোনারোর

এদিকে নির্বাচনে পরাজয়ের পর ফলাফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ফ্লাভিও বলসোনারো। গণপরিবহনসংক্রান্ত সমস্যার কারণে ভোটগ্রহণের সময়সীমা বাড়ানোয় অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। ব্রাসিলিয়া থেকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি ফলাফল গ্রহণ করা অসম্ভব বলে মন্তব্য করেন এবং পুরো নির্বাচনপ্রক্রিয়া বাতিলের দাবি জানান।

বলসোনারোর এই অবস্থান নির্বাচনের পর ব্রাজিলের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। এখন নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে তাঁর অভিযোগের পর কী পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কীভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করে, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে।

সব মিলিয়ে, লুলার প্রত্যাবর্তন ব্রাজিলের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছে। তবে বিভক্ত জনমত, শক্তিশালী বিরোধী দল এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন তাঁর চতুর্থ মেয়াদকে আগের সময়গুলোর তুলনায় আরও কঠিন করে তুলতে পারে।