TPV — the People view
ব্রেকিং
নতুন ব্রেকিং নিউজ লোড হচ্ছে...
বাংলাদেশ

বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৯ মাসে ৪০৭ শিশুর স্বাভাবিক প্রসব

রিপোর্টার: Admin•Dinajpur, Bangladesh•
বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৯ মাসে ৪০৭ শিশুর স্বাভাবিক প্রসব

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেওয়ার অভিজ্ঞতা পাচ্ছেন একের পর এক মা। চিকিৎসক, নার্স ও মিডওয়াইফদের সেবা এবং প্রসবকালীন পরামর্শে আস্থা বাড়ছে প্রসূতিদের। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবরের ২৭ তারিখ পর্যন্ত হাসপাতালটিতে স্বাভাবিকভাবে জন্ম নিয়েছে ৪০৭ শিশু। জনসংখ্যার অনুপাতে স্বাভাবিক প্রসবের সংখ্যায় জেলায় এগিয়ে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত থেকে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর ১২টা পর্যন্ত পাঁচজন মা স্বাভাবিকভাবে সন্তান জন্ম দিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্বাভাবিক প্রসবের ধারাবাহিকতা লক্ষ করা যাচ্ছে।

মাসভিত্তিক হিসাব বলছে, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি—প্রতিমাসে ৫১টি করে স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে। মার্চে ৩৬টি, এপ্রিলে ৩৩টি, মে মাসে ৪৭টি, জুনে ২৯টি, জুলাইয়ে ৩১টি, আগস্টে ৩৩টি এবং সেপ্টেম্বরে ৪৩টি শিশু স্বাভাবিকভাবে জন্ম নেয়। অক্টোবরের প্রথম ২৭ দিনেই এই সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৫-তে। সব মিলিয়ে স্বাভাবিক প্রসবের সংখ্যা ৪০৭।

প্রসবের পর নবজাতকের পরিবারকে সনদ দেওয়ার ব্যবস্থাও করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এতে জন্মনিবন্ধনসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন কাজে সুবিধা পাচ্ছেন স্বজনেরা। কর্তৃপক্ষের মতে, দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীদের সেবা, চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধান এবং গর্ভাবস্থায় ও সন্তান জন্মের পর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরামর্শ দেওয়ার কারণে মায়েরা স্বাভাবিক প্রসবে আগ্রহী হচ্ছেন।

হাসপাতালে সন্তান জন্ম দেওয়া আরিফা বেগম জানান, প্রথম দিকে স্বাভাবিক প্রসব নিয়ে তাঁর মনে ভয় ছিল। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের পরামর্শে সেই ভয় কাটিয়ে হাসপাতালে সন্তান প্রসব করেন তিনি। এতে চিকিৎসার খরচও কম হয়েছে। বর্তমানে তিনি ও তাঁর নবজাতক সুস্থ রয়েছেন।

রুম্পা রানীর মনেও সিজারিয়ান অপারেশন নিয়ে দুশ্চিন্তা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত অস্ত্রোপচার ছাড়াই সন্তান জন্ম দিতে পেরে তিনি স্বস্তি প্রকাশ করেন। তিনি জানান, মা ও শিশু দুজনই ভালো আছেন। হাসপাতাল থেকে নবজাতকের জন্য উপহারসামগ্রীও দেওয়া হয়েছে।

প্রসূতি রুমি আবকারের কাছে সরকারি হাসপাতালে এমন সেবা পাওয়া ছিল প্রত্যাশার বাইরে। তিনি বলেন, তিনি ও তাঁর সন্তান সুস্থ আছেন। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেলেই বাড়ি ফিরবেন।

প্রথমবার মা হওয়ায় রহিমা বেগমেরও ভয় কাজ করছিল। স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসকদের সাহস পেয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানকার সেবায় সন্তুষ্ট এই মা জানান, সিজারের জন্য রাখা অর্থ খরচ করতে হয়নি। সেই টাকা দিয়ে সন্তানের আকিকার আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।

পরশি মহন আগে থেকেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা করাচ্ছিলেন। সোমবার রাতে হঠাৎ প্রসবব্যথা শুরু হলে দ্রুত হাসপাতালে যান তিনি। ভোরে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর মা ও নবজাতক দুজনই সুস্থ রয়েছেন বলে জানান তিনি।

বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আফরোজ সুলতানা বলেন, নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করা এবং মাতৃমৃত্যু কমানোর লক্ষ্যে হাসপাতালে দক্ষ মিডওয়াইফের মাধ্যমে সেবা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে এই সেবা অব্যাহত থাকায় স্বাভাবিক প্রসবের সংখ্যা বাড়ছে। নবজাতকদের উপহারসামগ্রী দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। আগামী দিনগুলোতে স্বাভাবিক প্রসবের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি।

তবে প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করেন দিনাজপুরের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মো. গোলাম রাসুল রাখি। তাঁর ভাষ্য, বীরগঞ্জ থেকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হয়। আর্থিকভাবে অসচ্ছল অনেক পরিবারের পক্ষে অন্যত্র গিয়ে সিজারিয়ান অপারেশনের খরচ বহন করাও কঠিন।

তিনি বলেন, বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হলে স্বাভাবিক প্রসবের পাশাপাশি যেসব ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন, সেগুলোর ব্যবস্থাও করা যাবে। এতে রোগীদের অন্য ক্লিনিকে যেতে হবে না এবং জরুরি প্রসূতিসেবাও আরও সহজলভ্য হবে।