TPV — the People view
ব্রেকিং
নতুন ব্রেকিং নিউজ লোড হচ্ছে...
বাংলাদেশ

বিয়ের তথ্য গোপন করে সেনাবাহিনীতে চাকরির অভিযোগ - পুলিশ ভ্যারিফিকেশনে ঘুষের দাবি

রিপোর্টার: Admin•Bangladesh•
বিয়ের তথ্য গোপন করে সেনাবাহিনীতে চাকরির অভিযোগ - পুলিশ ভ্যারিফিকেশনে ঘুষের দাবি

রংপুরের মিঠাপুকুরে বিয়ের তথ্য গোপন করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে চাকরি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক তরুণীর বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে পুলিশ ভ্যারিফিকেশন প্রতিবেদনে তাকে অবিবাহিত দেখানোর অভিযোগ উঠেছে তদন্তকারী এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত তরুণী আফছানা মিমি উপজেলার পায়রাবন্দ ইউনিয়নের লহনী গ্রামের আনিছুর রহমানের মেয়ে। তার স্বামী একই উপজেলার সদরপুর গ্রামের দুলু মিয়ার ছেলে খায়রুল ইসলাম।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এ পদে আবেদন করেন প্রার্থীরা। বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনকারীদের অবিবাহিত হওয়ার শর্ত থাকলেও আফছানা মিমি নিজের বিয়ের তথ্য গোপন করে আবেদন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর এক লাখ টাকার বিনিময়ে পুলিশ ভ্যারিফিকেশন প্রতিবেদনে তাকে অবিবাহিত দেখানো হয়। বর্তমানে আফছানা মিমি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল সেনানিবাসে প্রশিক্ষণে রয়েছেন।

তরুণীর স্বামী খায়রুল ইসলাম জানান, ২০১৮ সালে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। এসএসসি পাসের পর স্ত্রীকে গাজীপুরের হাতীমারা কলেজে এইচএসসিতে ভর্তি করিয়ে দেন তিনি। পরে স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হলে ২০২৩ সালে তাকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন। এরপর থেকে স্ত্রী বাবার বাড়িতে থাকতেন। গত তিন বছরে একাধিকবার সালিশ হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি বলে দাবি করেন খায়রুল। তার অভিযোগ, তাকে না জানিয়েই স্ত্রী গোপনে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। এ ঘটনায় চলতি বছরের ৮ এপ্রিল তিনি স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন।

অন্যদিকে আফছানা মিমির মা রুপালী বেগম দাবি করেন, তার মেয়ে ছোট থাকতেই খায়রুলের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তার অভিযোগ, খায়রুল মেয়েকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে নির্যাতন করতেন। সেনাবাহিনীতে আবেদন করার পর মেয়ের চাকরি হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে চাকরির বিষয়টি তারা কাউকে জানাননি।

পুলিশ ভ্যারিফিকেশনে এক লাখ টাকা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রুপালী বেগম বলেন, তারা এত টাকা দেননি; তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নিয়ম অনুযায়ী চার হাজার টাকা দিয়েছেন। খায়রুলের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে হলেও কাবিননামা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। এ কারণে বিয়ের বিষয়টি কেউ প্রমাণ করতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন রুপালী বেগম। এ সময় সংবাদটি প্রকাশ না করার জন্য প্রতিবেদককে অনুরোধ করেন তিনি।

প্রশিক্ষণে থাকায় অভিযুক্ত আফছানা মিমির বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

পুলিশ ভ্যারিফিকেশন প্রতিবেদনে বিবাহিত নারীকে অবিবাহিত দেখানোর অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ডিএসবির কর্মকর্তার পরিচয় জানতে চাইলে রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, পুলিশ ভ্যারিফিকেশন একটি গোপনীয় বিষয়। এ ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তার নাম-পরিচয় প্রকাশের সুযোগ নেই। কয়েক দিন আগে তিনি ডিএসবির অতিরিক্ত দায়িত্ব ছেড়েছেন বলেও জানান।

এ বিষয়ে রংপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, কেউ অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।