উত্তরাঞ্চলের অন্যতম প্রধান চাল উৎপাদন ও বিপণনকেন্দ্র বগুড়ার শেরপুরসহ পুরো অঞ্চলে চালের বাজারে অস্থিরতা কাটছে না। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে মাঝারি ও সরু জাতের ধানের দাম মণপ্রতি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে চালের বাজারেও। মিলগেট থেকে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত কেজিতে ৪ থেকে ৮ টাকা বেশি দামে চাল কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। এতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন সীমিত আয়ের মানুষ।
শেরপুরের চাল ব্যবসায়ী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত এক মাসে মাঝারি জাতের ধানের দাম মণপ্রতি ১ হাজার ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে সরু জাতের ধানের দাম ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ধানের বাড়তি দামের প্রভাব পড়েছে চালের বাজারে। এক মাস আগে মাঝারি চালের কেজি ছিল ৪৫ থেকে ৪৬ টাকা। বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৬ টাকায়। সরু কাটারি চাল মিল পর্যায়ে ৭৮ থেকে ৭৯ টাকা এবং খুচরা বাজারে ৮৪ থেকে ৮৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, ধান কেনার সময় থেকেই মিলমালিকদের বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে উৎপাদন ও পরিবহন খরচ। ফলে চালের দামও বেড়েছে।
শেরপুরের পাশাপাশি বগুড়া শহরের বাজারেও চালের দামে ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। সেখানে রঞ্জিত চাল ৫০ থেকে ৫২ টাকা, আটাশ চাল ৫৪ থেকে ৫৫ টাকা, মিনিকেট ৭০ থেকে ৭৫ টাকা এবং কাটারি চাল ৭৫ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে কিছুটা কমেছে পোলাওয়ের চালের দাম। বর্তমানে এ চাল বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে।
মিলমালিক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, ধানের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিল, শ্রমিকের মজুরি এবং জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। মিলমালিক আকরাম হোসেন জানান, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়া যায় না।
খুচরা ব্যবসায়ী আমির হোসেন বলেন, পরিবহন, মালামাল ওঠানো-নামানো এবং দোকান পরিচালনার খরচ বাদ দিয়ে ব্যবসায়ীদেরও মুনাফা রাখতে হয়।
তবে সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান (সুপ্র)-এর সম্পাদক কেজিএম ফারুক মনে করেন, শুধু খুচরা বাজারে নজরদারি বাড়ালেই হবে না। ধান কেনা থেকে শুরু করে বাজারের প্রতিটি স্তরে উৎপাদন ব্যয় ও বিক্রয়মূল্যের ব্যবধান এবং অযৌক্তিক মুনাফার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
চালের দাম বাড়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। নির্মাণশ্রমিক জাহিদুল ইসলাম, ওমর ফারুক ও সবুজ মিয়া জানান, তাদের আয় বাড়েনি, অথচ নিত্যপ্রয়োজনীয় চালের দাম বেড়েছে। ফলে ঋণ ও ধারদেনা করে সংসারের খরচ চালাতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বগুড়া কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মেহেদী হাসান জানান, চালের বাজারের মূল্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। বাজারে কোনো ধরনের অনিয়ম কিংবা কৃত্রিম সংকট তৈরির প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




