জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর জোট গঠনের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন দলটির সাবেক নেত্রী সামান্তা। তাঁর মতে, নীতিগত কিংবা কৌশলগত—কোনো বিবেচনাতেই জামায়াত এনসিপির মিত্র হওয়ার উপযুক্ত নয়। এই জোটের কারণে দলটিকে রাজনৈতিকভাবে বড় মূল্য দিতে হবে বলেও আগেই সতর্ক করেছিলেন তিনি।
নিজের এক পোস্টে ‘সংস্কারের বন্ধু জামায়াত হতে পারে কিনা’ শিরোনামে অবস্থানের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন সামান্তা। সেখানে তিনি বলেন, এনসিপির রাজনীতির প্রধান লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার সংস্কার। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে বিদ্যমান ক্ষমতাকাঠামো যাতে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে জন্য সাংবিধানিক, আইনি এবং রাজনৈতিক দলগুলোর কাঠামোগত সংস্কার জরুরি ছিল।
তবে সামান্তার দাবি, জামায়াতে ইসলামী এই তিন ক্ষেত্রের কোনো সংস্কারকেই নিজেদের রাজনৈতিক লক্ষ্য বা রাষ্ট্রভাবনার অংশ হিসেবে বিবেচনা করে না। তাঁর মতে, দলটির দর্শন ও প্রস্তাবিত রাষ্ট্রকাঠামো প্রকৃত অর্থে গণতান্ত্রিক নয়।
তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক সংস্কারের ভিত্তি হলো উদার ও গণতান্ত্রিক সামাজিক মূল্যবোধ। বিপরীতে জামায়াত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিপন্থী। সামান্তার অভিযোগ, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই দলটির রাজনৈতিক অভিপ্রায়।
সামান্তার ভাষ্য, জামায়াতকে সংস্কারের সহযোগী হিসেবে বিবেচনা করার ফলে উদার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী সাধারণ মানুষের একটি অংশ এনসিপির রাজনীতি থেকে দূরে সরে গেছে। তাঁর মতে, নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করতে না পারায় এনসিপি ক্রমেই জামায়াতের রাজনৈতিক প্রভাবের মধ্যে চলে যাচ্ছে। বিভিন্ন ইস্যুতেও দলটিকে জামায়াতের অবস্থানের পক্ষে প্রতিক্রিয়া জানাতে বা সহায়ক ভূমিকা নিতে হচ্ছে।
তিনি জানান, জনগণের আকাঙ্ক্ষা থেকে গড়ে ওঠা দল হিসেবে এনসিপিকে এসব বিষয়ে বারবার সতর্ক করে সঠিক রাজনৈতিক পথে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছিলেন।
জামায়াতের সঙ্গে জোট নিয়ে মতবিরোধ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট গঠন নিয়ে এনসিপির ভেতরে মতবিরোধ দেখা দেয়। মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের ভূমিকা এবং স্বাধীনতার পরও দলটির পক্ষ থেকে ক্ষমা না চাওয়ার বিষয়টি সামনে এনে এনসিপির অনেক নেতা এই জোটের বিরোধিতা করেন।
তবে শেষ পর্যন্ত নাহিদ, আখতার ও হাসনাতদের নেতৃত্বে এনসিপির একটি অংশ জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়। ওই নির্বাচনে এনসিপি ছয়টি আসনে জয় পায়।
জোটের বিরোধিতা করে পদত্যাগ করা নেত্রীদের বক্তব্য ও অভিযোগের কেন্দ্রে ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা। তাঁদের মতে, জামায়াতের সঙ্গে ঐক্যের মাধ্যমে এনসিপি সেই লক্ষ্য থেকে সরে এসেছে। একই সঙ্গে দলটির নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচয় দুর্বল হয়ে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে একীভূত হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তাঁরা।




