TPV — the People view
ব্রেকিং
নতুন ব্রেকিং নিউজ লোড হচ্ছে...
বাংলাদেশ

কুড়িগ্রামের চিলমারী হাসপাতালে চরম অবহেলা: ক্ষতস্থানে কাচ রেখেই সেলাই, ৩৫ দিন পর অপারেশন!

রিপোর্টার: Admin•Kurigram, Bangladesh•
কুড়িগ্রামের চিলমারী হাসপাতালে চরম অবহেলা: ক্ষতস্থানে কাচ রেখেই সেলাই, ৩৫ দিন পর অপারেশন!

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের চরম অবহেলার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে জখম হওয়া এক রোগীর হাতের ক্ষতস্থানে কাচের টুকরা রেখেই সেলাই দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ ৩৫ দিন চরম যন্ত্রণা ভোগের পর অন্য একটি বেসরকারি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচার করে রোগীর হাত থেকে দুটি কাচের টুকরা অপসারণ করা হয়।

ভুক্তভোগী সাইদার মিয়া চিলমারী উপজেলার মজিদের পাড় এলাকার বাসিন্দা এবং অন্যের জমিতে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। গত ২৫ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পড়ে গিয়ে ভাঙা কাচে তার বাম হাত গুরুতরভাবে কেটে যায় এবং হাতের ভেতরে কাচের টুকরা ঢুকে পড়ে। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান স্বজনরা।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, হাসপাতালে পৌঁছানোর পর শয্যা ও জায়গা খালি নেই—এমন অজুহাত দেখিয়ে তাকে ভর্তি করা হয়নি। এরপর জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা কোনো প্রকার এক্স-রে বা সতর্কতামূলক পরীক্ষা ছাড়াই কাটা স্থানে সেলাই করে দেন এবং হাতের ভেতরে কাচ রেখেই তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেন।

বাড়ি ফেরার পর থেকে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে তীব্র যন্ত্রণা নিয়ে দিন কাটছিল সাইদার মিয়ার। ক্ষত না শুকানো এবং ব্যথা না কমায় তিনি এলাকার চিকিৎসক ডা. মৃণাল কান্তি রায়ের শরণাপন্ন হন। সেখানে এক্স-রে করার পর তার হাতের ভেতরে দুটি কাচের টুকরা ধরা পড়ে। গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) এক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার হাত থেকে ওই কাচের টুকরা দুটি সফলভাবে অপসারণ করা হয়।

ভুক্তভোগী সাইদার মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “হাসপাতালে কোনো রোগীকে ভালোভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয় না। চিকিৎসকদের এই চরম অবহেলার দায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই নিতে হবে।” তবে কোন চিকিৎসকের ভুলে এমনটি ঘটেছে, সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট নাম বলতে পারেননি।

এ বিষয়ে চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমিনুল ইসলাম পুরো ঘটনাকে হালকা করে দিয়ে বলেন, ‘ওটা ভুলবশত হয়ে গেছে। এজন্য স্যরি ভাই। রোগীকে বলেন চিকিৎসা করাতে। আমি এ বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি।’