কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকতে টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে দুই মেয়েসহ পরিবারের ছয় সদস্যকে হারিয়েছেন রাজধানীর বনশ্রীর বাসিন্দা মো. মামুনুর রশিদ। রোববার (১৮ অক্টোবর) মালিবাগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কার্যালয়ে মেয়েদের পরিচয় শনাক্তের জন্য ডিএনএ পরীক্ষার নমুনা দিতে গিয়ে শোকের কথা জানান তিনি।মামুনুর রশিদ বলেন, ঘটনার দিন সকালে বড় মেয়ের জামাই ফোন করে তাঁদের বাঁচাতে না পারার কথা জানিয়ে ক্ষমা চান। পরে তিনি জানতে পারেন, রিসোর্টে আগুন লেগেছে। তাঁর জামাই জানালা ভেঙে বের হতে পারলেও অন্যরা বের হতে পারেননি। আগুনে মরদেহগুলো এতটাই পুড়ে গেছে যে পরিচয় শনাক্ত করা যাচ্ছে না। এ কারণে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করতে হচ্ছে।নিহত ছোট মেয়ে লায়লা জাহান নাবিলা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী ছিলেন। সম্প্রতি ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্স বিষয়ে একটি সম্মেলনে প্রথম পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি। উচ্চশিক্ষার জন্য জাপানে যাওয়ার প্রস্তুতিও চলছিল তাঁর। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান তিনি ও তাঁর বড় বোন ইশরাত জাহান মালিহা। পরিবারের আরও চার সদস্যের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছেন মামুনুর রশিদ। তিনি দ্রুত ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন করে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছেন।রিসোর্টের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর দাবি, প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ একই জায়গায় ছিল এবং সেখানেই রান্নার ব্যবস্থা থাকায় জরুরি অবস্থায় বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তবে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বাংলাদেশ
আগুনে দুই মেয়েকে হারিয়ে বাবার আহাজারি—‘বাঁচাতে পারলাম না, ক্ষমা করে দিয়েন’
রিপোর্টার: Admin•Cox's Bazar, Bangladesh•




