গণমাধ্যমের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা রক্ষায় স্বাধীন মিডিয়া কমিশন গঠন: সাইবার নিরাপত্তা আইনের নিপীড়নমূলক ধারা বাতিল
একটি সুস্থ, প্রাণবন্ত ও দায়িত্বশীল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা বিনির্মাণের প্রধান পূর্বশর্ত হলো মুক্ত ও স্বাধীন গণমাধ্যম। এই লক্ষ্য অর্জনে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় দেশের সাংবাদিক ইউনিয়ন, সম্পাদক পরিষদ এবং মানবাধিকার প্রতিনিধিদের মতামতের ভিত্তিতে 'জাতীয় স্বাধীন মিডিয়া কমিশন' গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এই কমিশনকে কোনো প্রকার সরকারি হস্তক্ষেপ ছাড়া সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রদান করা হয়েছে, যার মূল দায়িত্ব হবে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সেন্সরশিপ বন্ধ করা এবং গণমাধ্যমের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে স্বাধীনভাবে কাজ করা।
একই সাথে দীর্ঘদিনের বিতর্কিত সাইবার নিরাপত্তা আইনের যে সকল নিবর্তনমূলক ধারা সাংবাদিকদের সত্য প্রকাশে বাধা সৃষ্টি করত এবং মুক্তচিন্তার কণ্ঠরোধ করত, সেগুলো সংসদীয় অধ্যাদেশের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়েছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত কোনো অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বা মতামতের জন্য সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সরাসরি ফৌজদারি মামলা বা বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তারের বিধান চিরতরে বিলুপ্ত করা হয়েছে। কোনো প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা নিষ্পত্তির জন্য প্রথমে স্বাধীন মিডিয়া কমিশনে শুনানির জন্য উপস্থাপন করতে হবে।
সাংবাদিকদের কর্মক্ষেত্রে আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিতে ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নে কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। যেসব পত্রিকা ও টেলিভিশন চ্যানেল সাংবাদিকদের নিয়মিত বেতন-ভাতা প্রদান করবে না, তাদের সরকারি বিজ্ঞাপন ও সুবিধা স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থগিত থাকবে। এছাড়া তরুণ অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের গবেষণামূলক কাজের জন্য একটি বিশেষায়িত সরকারি 'ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম ফেলোশিপ ফান্ড' চালু করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানের সাংবাদিকতা বিকাশে উৎসাহ জোগাবে।
সম্পাদক পরিষদ ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) সরকারের এই সাহসী ও ঐতিহাসিক পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা বলেছেন, ভয়ের সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে সত্য প্রকাশের অবাধ সুযোগ তৈরি হওয়ায় দেশের গণমাধ্যম এখন দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে একটি অপ্রতিরোধ্য প্রহরী হিসেবে কাজ করতে পারবে। এটি সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও গণতন্ত্রকে অর্থবহ করতে সাহায্য করবে।
মিডিয়া বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন, দক্ষিণ এশিয়ায় মুক্ত গণমাধ্যমের সূচকে বাংলাদেশ যে পিছিয়ে পড়েছিল, এই ঐতিহাসিক সংস্কারের মাধ্যমে দেশ বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। সাংবাদিকদের তথ্য অধিকার সুরক্ষা এবং সরকারি নথিপত্র প্রাপ্তির প্রক্রিয়া সহজ করায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার এক নতুন যুগের শুভ সূচনা হলো।
সম্পর্কিত সংবাদ

