নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন ও আধুনিকীকরণ: ভোটার তালিকা সংস্কারে বায়োমেট্রিক ও ডিজিটাল অডিট চালুর ঘোষণা
দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে গণআকাঙ্ক্ষার আলোকে সুদৃঢ় ও আস্থাশীল করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) একটি বিস্তৃত ও কাঠামোগত সংস্কার রোডম্যাপ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন উপহার দিতে নির্বাচন পরিচালনার প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হচ্ছে। জনগণের ভোটাধিকার সুরক্ষায় কোনো ধরনের দলীয় বা প্রশাসনিক পক্ষপাতিত্ব বরদাশত করা হবে না বলে তিনি কঠোর বার্তা দেন।
ঘোষিত রোডম্যাপের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ডেটাবেসের সাথে সমন্বয় করে দেশের বিদ্যমান ভোটার তালিকা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে যাচাই-বাছাই ও হালনাগাদের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এতে বায়োমেট্রিক আঙুলের ছাপ এবং আইরিশ স্ক্যানিং প্রযুক্তির মাধ্যমে মৃত ও ভুয়া ভোটারদের নাম তালিকা থেকে স্থায়ীভাবে কর্তন করা হবে। এছাড়া ১৮ বছর পূর্ণ হওয়া প্রতিটি তরুণ ভোটারকে যাতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যায়, সে জন্য নির্বাচন কমিশনের তৃণমূল পর্যায়ে বিশেষায়িত ডিজিটাল ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে।
নির্বাচনকালীন মাঠ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের বদলি, পদায়ন ও জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের একক সাংবিধানিক কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করা হয়েছে। নির্বাচনী অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে প্রতিটি সংসদীয় আসনে নিয়মিত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে বিশেষ নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল সার্বক্ষণিক তৎপর থাকবে। ভোটকেন্দ্রে ব্যালট ছিনতাই বা যে কোনো অনিয়মের প্রমাণ মিললে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্র বা সম্পূর্ণ আসনের ভোট বাতিল করার পূর্ণ ক্ষমতা প্রিজাইডিং অফিসার ও রিটার্নিং অফিসারদের প্রদান করা হচ্ছে।
প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচন কমিশনের এই সময়োপযোগী সংস্কার উদ্যোগকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিশিষ্ট নাগরিকরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছিল, তা পুনরুদ্ধারে এই ডিজিটাল অডিট ও কঠোর প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বাস্তবায়ন এক ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করবে। তবে কেবল আইন বা বিধি প্রণয়নই যথেষ্ট নয়, তা বাস্তবায়নে নির্বাচন কমিশনকে আপসহীন দৃঢ়তা প্রদর্শন করতে হবে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দেশের নিবন্ধিত সকল রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর সাথে ধারাবাহিক আনুষ্ঠানিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। সবার গঠনমূলক মতামত ও সুপারিশের ভিত্তিতে নির্বাচনী আচরণবিধির চূড়ান্ত খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করা হবে, যা ভবিষ্যতে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে চিরতরে সংহত করবে।
সম্পর্কিত সংবাদ

