অধস্তন আদালতের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ ও ডিজিটাল রূপান্তর: মামলাজট নিরসনে 'ই-জুডিশিয়ারি' প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন
দেশের বিচার ব্যবস্থাকে শতভাগ প্রভাবমুক্ত, স্বাধীন ও গতিশীল করতে অধস্তন আদালতের প্রশাসন ও বিচারকদের বদলি-পদায়নে সুপ্রিম কোর্টের অধীনে পৃথক সচিবালয় গঠনের ঐতিহাসিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। সংবিধানে উল্লেখিত বিচার বিভাগের পৃথকীকরণের মূল দর্শনকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে দীর্ঘদিনের এই দাবি বাস্তবায়ন করল আইন মন্ত্রণালয়। এর মাধ্যমে অধস্তন আদালতের বিচারকদের ওপর নির্বাহী বিভাগের যেকোনো প্রকার পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণ চিরতরে অপসারিত হলো, যা সাধারণ নাগরিকদের জন্য সুবিচার নিশ্চিতের পথকে কণ্টকমুক্ত করল।
বিচারিক স্বাধীনতার পাশাপাশি দেশের ৬৪টি জেলায় আদালতগুলোতে জমে থাকা লাখ লাখ মামলাজট নিরসনে 'ন্যাশনাল ই-জুডিশিয়ারি' প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক রোলআউট শুরু হয়েছে। এখন থেকে মামলার আবেদন, সমন জারি, এভিডেন্স আপলোড এবং জামিন শুনানি সম্পূর্ণ অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। বিচারপ্রার্থী মানুষ ঘরে বসেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তাদের মামলার সর্বশেষ অবস্থা, শুনানির তারিখ এবং আদেশের অনুলিপি তাৎক্ষণিকভাবে দেখতে পাচ্ছেন, যা মধ্যস্বত্বভোগী ও দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য চিরতরে বন্ধ করেছে।
দেশের শীর্ষ আদালত প্রাঙ্গণে ভার্চুয়াল কোর্টরুমের সফলতার পর এখন প্রত্যন্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতগুলোতেও হাই-ডেফিনিশন ভিডিও কনফারেন্সিং সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে। কারাগার থেকে আসামিদের ঝুঁকিপূর্ণ ও সময়সাপেক্ষ আনা-নেওয়া ছাড়াই সরাসরি জেলখানা থেকেই ভার্চুয়ালি শুনানি সম্পন্ন হচ্ছে। এতে একদিকে সরকারের কোটি কোটি টাকার জ্বালানি ও নিরাপত্তা ব্যয় সাশ্রয় হচ্ছে, অন্যদিকে আসামিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে এবং মামলার বিচার কার্যক্রম দ্রুততর হচ্ছে।
সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন এবং জেলা আইনজীবী সমিতিগুলো এই রূপান্তরকে আইন অঙ্গনের এক ঐতিহাসিক বিপ্লব বলে আখ্যায়িত করেছে। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, ডিজিটাল কজ-লিস্ট ও ই-ফাইলিংয়ের ফলে আদালতের সময় ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত সুশৃঙ্খল হয়েছে। একই দিনে অপ্রয়োজনীয় মুলতবি করার প্রবণতা বন্ধ হয়েছে এবং বিচারকগণ মেধার ভিত্তিতে দ্রুততম সময়ে রায় প্রদানে সক্ষম হচ্ছেন।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ছাড়া কোনো দেশ অর্থনৈতিকভাবে টেকসই হতে পারে না। বিচার বিভাগের এই ঐতিহাসিক স্বাধীনতা এবং ডিজিটাল উদ্ভাবন বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও আইনি নিরাপত্তা সম্পর্কে সুদৃঢ় আস্থা তৈরি করবে, যা দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকে এক অনন্য মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করবে।
সম্পর্কিত সংবাদ

