বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্র রাজনীতির সুস্থ ধারা: নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানে জাতীয় নীতি অনুমোদন
দেশের পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে চলে আসা দলীয় ক্যাডারভিত্তিক অপরাজনীতি, গেস্টরুম নির্যাতন ও সহিংস দখলদারিত্বের চিরতরে অবসান ঘটিয়ে সুস্থ, সৃজনশীল ও গণতান্ত্রিক ক্যাম্পাস সংস্কৃতি বিনির্মাণে সরকার একটি যুগান্তকারী 'ক্যাম্পাস গণতন্ত্র ও ছাত্র সংসদ নীতিমালা' আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) এবং দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদের সমন্বিত সুপারিশে প্রণীত এই নীতিমালায় প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতি বছর নিয়মিত ও নির্ধারিত সময়ে মুক্ত ছাত্র সংসদ (ডাকসু, চাকসু, রাকসু ইত্যাদি) নির্বাচন আয়োজন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
নতুন নীতিমালার আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে কোনো প্রকার অবৈধ আসন দখল বা রাজনৈতিক দলের তথাকথিত গণরুম কালচার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মেধা ও অর্থনৈতিক চাহিদার ভিত্তিতে শতভাগ ডিজিটালাইজড সিট বণ্টন ব্যবস্থা চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সার্বক্ষণিক সিসিটিভি এবং ওয়ার্ডেন কাউন্সিলের সরাসরি তদারকি থাকবে। কোনো ছাত্রসংগঠন বা ব্যক্তি যদি কাউকে ভয়ভীতি বা জোরপূর্বক দলীয় কর্মসূচিতে বাধ্য করার চেষ্টা করে, তবে তার ছাত্রত্ব সরাসরি আজীবনের জন্য বাতিলসহ ফৌজদারি আইনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রাখা হয়েছে।
ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ভোটার ও প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। দলীয় লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতির পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের অধিকার, খাদ্যমান উন্নয়ন, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা, গবেষণা তহবিল বৃদ্ধি এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। নির্বাচন পরিচালনা করবেন সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারক এবং সম্মানিত শিক্ষকদের সমন্বয়ে গঠিত সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজ সরকারের এই নীতিকে আনন্দিত চিত্তে বরণ করে নিয়েছে। তারা বলছেন, অস্ত্র ও লাঠির রাজনীতির বিপরীতে ব্যালট ও বিতর্কের রাজনীতি ফিরে এলে ক্যাম্পাসে প্রকৃত মেধাবী, নীতিবান ও দূরদর্শী ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক নেতৃত্ব গড়ে উঠবে। এর ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক ক্যালেন্ডারে সেশনজট থাকবে না এবং আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা ও উদ্ভাবনের এক অপূর্ব মুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হবে।
শিক্ষা উপদেষ্টা জানিয়েছেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে দেশের প্রতিটি প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তফসিল ঘোষণা করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সুস্থ গণতান্ত্রিক চর্চা জাতীয় রাজনীতিতেও এক দূরদর্শী ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে, যা দেশকে একটি আধুনিক মেধাভিত্তিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সাহায্য করবে।
সম্পর্কিত সংবাদ

