চলন্ত বাসে এক নারী যাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় বাসচালক, চালকের সহকারী ও অন্য একটি বাসের এক সহকারীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন টাঙ্গাইলের আদালত। রোববার (২৫ অক্টোবর) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এএনএম ইলিয়াস এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে। জরিমানা দিতে ব্যর্থ হলে তাঁদের আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
দণ্ডপ্রাপ্ত তিনজন হলেন বাসচালক মো. আলতাফ, বাসের কন্ডাক্টর সাগর ওরফে সজীব মাতুব্বর এবং অন্য একটি বাসের সহকারী মো. রব্বি। রায় ঘোষণার সময় তাঁরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাঁদের টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি রাত ১০টার দিকে ঢাকার মিরপুর থেকে আশুলিয়া যাওয়ার জন্য সাভার পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন ওই নারী। পথে অন্য যাত্রীরা নেমে গেলেও বাসটি চলতে থাকে। পরে গাজীপুরের চন্দ্রা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে বাসের ভেতরে ওই নারীকে ধর্ষণ করেন আলতাফ, সাগর ও তাঁদের সহযোগী রব্বি।
এ সময় ভুক্তভোগীর স্বর্ণের কানের দুল, আইফোন ১৩ প্রো এবং নগদ টাকাও ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরদিন দুপুরের দিকে বাসটি টাঙ্গাইলের করটিয়া আন্ডারপাসের কাছে পৌঁছালে ওই নারী গাড়ি থেকে নেমে যান। এরপর করটিয়া বাইপাস এলাকায় দায়িত্ব পালনরত হাইওয়ে পুলিশের কাছে ঘটনাটি জানান তিনি।
খবর পেয়ে পুলিশ বাসটি জব্দ করে অভিযুক্তদের আটক করে টাঙ্গাইল সদর থানায় হস্তান্তর করে। ওই দিনই ভুক্তভোগী থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে টাঙ্গাইল সদর থানার পরিদর্শক ভিক্টর ব্যানার্জি ২৯ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
মামলায় ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমরাও খান দিপু রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।




